০৯:৩৬ পি.এম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় এবং সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ বীরের বেশে খেলেছে। আগের দুই ম্যাচ হেরে আগে থেকেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এই ম্যাচটি তাই ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। তবে, অবশেষে জয় এসেছে। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে। সিরিজ শেষ হয়েছে ২-১ ব্যবধানে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন ব্রায়ান বেনেট এবং বেন কারান। এই ওপেনিং জুটি তেমন বেশিক্ষণ টেকেনি। দলের ১২ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন কারান। ১৩ বলে ২ রান করা বেন কারানকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। ১৯ বলে ৬ রান করে বেনেটকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।
এরপর ক্রিজে ক্যায়া এবং ক্রেইগ আরভিন জুটি বাঁধেন। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কিছু চেষ্টা করেন তাঁরা। আরভিন সুযোগ পেয়েছিলেন ভালো শুরুর, কিন্তু ইনিংসটি লম্বা করতে পারেননি। ২০ বলে ৫ রান করে দলের ২৭ রানে বিদায় নেন ক্রেইগ আরভিন।
আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
কাইয়া ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন। উইকেটের চারপাশে খেলেন দারুণ সব শট। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান। কাইয়ার সাথে আরেক প্রান্তে যোগ দেন ওয়েসলি মাধেভেরে। দুইজন খুব সাবলীল ব্যাটিং করে চলছিলেন। সময়ের সাথে সাথে রানও বাড়াতে থাকেন। কাইয়া কিছুটা সাবধানী ব্যাটিং করছিল, তবে মাধেভেরে খেলতে থাকেন আগ্রাসীভাবে।
কাইয়া ও মাধেভেরে দুটি ভাল শটে রান বের করার চেষ্টা করেছিলেন। সিকান্দার রাজা এসে যোগ দেন মাধেভেরে। মাধেভেরে এবং রাজা প্রয়োজনীয় রান তুলতে শুরু করেন, কিন্তু রাজা ২৫ বলে ১১ রান করে দলের ১০৭ রানে বিদায় নেন।
এরপর ক্লিভ মাদান্দে ৫ বলে ১ রান করে চলে যান। এরপর ব্র্যাড ইভান্স ক্রিজে আসেন। ফিফটি হাঁকিয়ে মাধেভেরে ছিল সেঞ্চুরির সুযোগ। কিন্তু ৭৪ বলে ৭৫ রান করার পর দলের ১৫১ রানে বিদায় নেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচে তাঁকে সাজঘরে ফেরান তানভীর ইসলাম।
শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্স বাকি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। তিনি আবারো ধুমধাড়াক্কা খেলেছেন এবং ফিফটি হাঁকিয়েছেন। যদিও জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯৯ রান করে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং তানভীর ইসলাম। ১টি উইকেটের দখল পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। টাইগার বোলাররা দারুণ ছন্দে ছিলেন।
আরও পড়ুন: এবার আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভের ঘটনা
উত্তরে বাংলাদেশকে উড়িয়ে ধরা সূচনা এনে দেন ওপেনার সৌম্য সরকার এবং তানজিদ হাসান তামিম। দুজন শুরু থেকেই চালিয়ে খেলেন এবং দুই পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে। দল চলছিল দ্রুত গতিতে, দুই ওপেনার চারপাশে দারুণ সব শট দিয়ে রান তুলতে থাকেন। তারা ফিফটি হাঁকান এবং বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যায়।
অনেক চেষ্টা করেও জিম্বাবুয়ে তাদের ক্যাচ ফেলতে থাকে, ফলে উইকেটও নিতে পারছিল না তারা। সৌম্য সরকার এবং তানজিদ তাড়াতাড়ি ১৫১ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে আউট হন।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত আসেন এবং শুরুতে রান বের করতে থাকেন। চান্ট ফিরে আসলেও সমস্যা হয়নি। গতিশীলতা বজায় রেখে তিনিও রান করতে থাকেন। শেষ দিকে শান্ত এবং তানজিদ একটি অসাধারণ পারফরমেন্স দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তানজিদ ৯৪ রানের মাথাতে আউট হন। এরপর নুরুল হাসান সোহান এসে বাকী কাজটি শেষ করেন। বাংলাদেশ ৮৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে এরনেস্ট মাসুকু ২ উইকেট নেন। তানাকা চিভাঙ্গা নেন ১ উইকেট। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েও আগের দুই ম্যাচে হারায় বাংলাদেশের সিরিজ পরাজয় হয়েছিল। তবে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে টাইগাররা।
আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগরীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৭৭ জন গ্রেফতার, ৩৪ মামলা দায়ের
এবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে উভয় দল। ১৫, ১৭ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলি বুলাওয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন