০৭:১৩ পি.এম
চলতি জুন মাসের মধ্যে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ আসরের। তবে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ইরান, যারা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের আয়োজক দেশগুলোর অন্যতম একটি দেশের (যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের পরে ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বর্তমানে অঞ্চলে চূড়ান্ত শান্তির দেখা মেলেনি। এই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, কারণ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই।
ভিসা জটিলতা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ফুটবলারদের মানসিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসে ভিসার আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইরান দলকে তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যাম্প পরিবর্তন করে তুরস্কের আন্টালিয়া ও রাজধানী আঙ্কারায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় কাটাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আঙ্কারায় মেক্সিকান দূতাবাসের সহায়তায় মেক্সিকোর ভিসা নিশ্চিত হয়েছে এবং স্কোয়াডের সকল সদস্যের প্রবেশানুমতি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে ইরান কর্তৃপক্ষকে অ্যারিজোনার টুসন শহরের পূর্বনির্ধারিত মূল অনুশীলন ক্যাম্প সরিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর টিজুয়ানা শহরে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তবে আগামী ১৪ জুন, অর্থাৎ প্রথম ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখবে দলটি। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের ইঙ্গলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা।
আরও পড়ুন: দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রুমি, বললেন—‘আপনারা ভালো থাকেন’
এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া ইরানি ফুটবলাররা। দলের অভিজ্ঞ ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার সাইদ এজাতোলাহি, যিনি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "পরিস্থিতি মোটেও সহজ নয়। দেশের ভেতরের খবর এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।" তবে তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছাকাছি হওয়ার কারণে সেখানে বাসিন্দা বিশাল ইরানি প্রবাসী জনগণের সমর্থন গ্যালারিতে পাওয়ার আশা করছেন। এই সমর্থন প্রেরণা জোগাবে, কিন্তু প্রত্যাশার বিশাল চাপও তৈরি করবে। তবে ইরানিরা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং তা তারা মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চান।
বয়সে ২৪ বছরের তরুণ ফুটবলার মোহাম্মদ ঘোরবানি, যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, তিনি জানান যে তারা বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে তাদের মূল কাজ হচ্ছে অনুশীলন ও খেলায় মনোযোগ দেয়া। যুদ্ধের কারণে দেশের মানুষ যে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, ফুটবলাররা সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে চান। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ভালো ফলাফল এনে দেশের মানুষের মুখে একটুখানি হাসির জোগান দেওয়া।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ডামাডোল, শীর্ষ নেতাদের হারানো শোক এবং মার্কিন ভূখণ্ডে খেলার মানসিক চাপ সামলে এক পতাকার নিচে নিজেদের ঐক্য ও শক্তি প্রমাণ করাই এখন ইরানি ফুটবলারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবককে পেটানোর ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম বহিষ্কার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন