বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোয় আকস্মিক বন্যার কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একটি শিশু। বন্যার কারণে বিভিন্ন সড়কও পানিতে ডুবে গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ উত্তর-পশ্চিম নিউ মেক্সিকোর নিউকম্ব এলাকার কাছে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় দুই প্রাপ্তবয়স্ক এবং এক শিশুর মরদেহ। তাদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বু নাইগ্রেন নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন। তিনি ভারী বৃষ্টির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইগ্রেন বলেন, "হঠাৎ প্রিয়জনকে হারানোর এই কষ্ট কমানোর মতো কোনো শব্দ নেই। তিনটি প্রাণ হারানোর ঘটনায় তাদের হৃদয় ভারী হয়ে আছে।"
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার আলবুকার্ক কার্যালয় কয়েক দিন ধরে ব্যাপক বজ্রঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছে। বুধবার তারা সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় এবার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানায়, নিউ মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ এবং দক্ষিণ-মধ্য পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা রয়েছে। মধ্য ও উত্তর নিউ মেক্সিকোর যেকোনো এলাকায় আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অ্যারিজোনা, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো ও ইউটাহর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম নিউ মেক্সিকোর কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মধ্য ও উত্তর অ্যারিজোনার বিস্তীর্ণ এলাকায়ও বন্যার সতর্কতা রয়েছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ভারী বৃষ্টির কারণে অ্যারিজোনার গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছিল। সে সময় তিনজন পর্বতারোহী পানির স্রোতে ভেসে যান এবং আরও কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন, বিএফআইইউতে চিঠি পাঠিয়েছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার স্ত্রীর তথ্য সংগ্রহের জন্য। আসিফ মাহমুদ সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র।
চিঠিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষরিত। এতে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয় এবং অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিস্তারিত আসছে...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদীর মহাসড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে।
এই মিছিলটি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মিরকামারী এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে; বাংলাদেশ হাসবে’, ‘চলছে লড়াই চলবে; বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লড়বে,’ ইত্যাদি নানা স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে তৎপর রয়েছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমানে দেশে ৪৬ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে মামলাজট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) আয়োজিত জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৪৬ লাখের বেশি মামলার জট রয়েছে। এই মামলার জট নিরসন এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।’
সভায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগের জন্য বিচারক, প্রসিকিউটর এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ২০২৬ সালে প্রণীত ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিচারক, প্রসিকিউটর এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন।
এ বছরের এপ্রিলে প্রণীত নতুন আইনটি ২০১২ সালের মানব পাচারবিরোধী আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান—দুই অপরাধকে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এতে অপরাধের সংজ্ঞা ও বিধান, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
পরামর্শ সভায় নতুন আইনে যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং সেগুলোর সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও অংশগ্রহণকারীরা আলোচনা করেন।
এছাড়া, প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নতুন ধরন, প্রমাণ সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় এবং তদন্ত, মামলা পরিচালনা, ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট সেবায় পাঠানো ও বিচারিক কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
পরামর্শ সভায় চারটি প্রধান ক্ষেত্রে সুপারিশ তৈরি করা হয়। এগুলো হলো—নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, বিচারক ও প্রসিকিউটরদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তঃদেশীয় মামলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, সহায়তা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার।
আলোচনায় বলা হয়, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং আইনের বিভিন্ন বিধানের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং পুরো বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল, আর্থিক ও আন্তঃসীমান্ত প্রমাণসংবলিত মামলাগুলো মোকাবিলায় যথাযথ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস। ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলগে এবং ইউএনওডিসি দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা মাহদি হাসান স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও মোকাবিলা (২০২৪-২০২৭)’ আঞ্চলিক উদ্যোগের আওতায় এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবিলায় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনওডিসি নীতিগত সহায়তা, সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় সহায়তা করছে।
পরামর্শ সভা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরবর্তী কার্যক্রম এবং ২০২৬ সালের নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাসে নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও আসন দখল বন্ধে প্রশাসন কর্তৃক কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এ বিষয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারিখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারিক বিন আতিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একতলা, দ্বিতল ও বিআরটিসি থেকে ভাড়াকৃত বাসে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই খাতা, কলম, পানির বোতল, ব্যাগ, মানিব্যাগ কিংবা শিট রেখে সিট দখল করার প্রবণতা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে, বাস কমিটির সদস্যদের দ্বারা প্রভাব খাটানো এবং নবীন শিক্ষার্থীদের আসন পেতে বাধা দেওয়া বা হেনস্তার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সাধারণ শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিপন্থী। কোনো শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা সিট দখলের নামে অসম আচরণকে র্যাগিং হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাসের সিটে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রেখে আগে থেকে সিট দখল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জুনিয়র বা নবীন শিক্ষার্থীদের সিটে বসতে বাধা দেওয়া, বাস কমিটির প্রভাব খাটানো কিংবা কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক হেনস্তা করা যাবে না। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবায় চলাচলকারী যেকোনো যানবাহনের ভেতরে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বহন বা সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের ঠিক ১৫ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের দরজা খুলে দেওয়া হবে। চালক ও হেলপারদের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে দরজা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি বাসে অবৈধ সিট দখল বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ