০৫:২৫ পি.এম
১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ পেয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে জাকিয়া সুলতানা ইভা। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে।
দেবীদ্বারের জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বড় মেয়ে ইভা। তার মা শাহিনুর আখতার ও বাবা দুইজনেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
আরও পড়ুন: আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও ধানমন্ডিতে ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে প্রিয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে ইভা মাকে সাথে নিয়ে আসে। এ সময় এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন তিনি।
সে বলে, ‘আমি কখনো বেশি একটা পড়িনি, মা-বাবাও লেখাপড়ার জন্য শাসন বা চাপ দেননি, তবে পরীক্ষার আগে যতটুকু পড়েছি, মন দিয়ে পড়েছি। বিশেষভাবে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিনই শেষ করে ফেলতাম, কালকের জন্য জমিয়ে রাখিনি।’
ইভার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমি এত ভালো ফল করব, এটা কোনো দিনও ভাবিনি। এর কৃতিত্ব প্রধানত আমার মা-বাবা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।’
আসলে তার আলাদা কোনো প্রিয় শিক্ষক নেই, বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই তার প্রিয়। শিক্ষকরা যদি তাকে সহযোগিতা না করতেন, তাহলে তিনি কখনো এত ভালো রেজাল্ট করতে পারতেন না।
আরও পড়ুন: ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ৯ দফা নির্দেশনা, দুই সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
নিজের স্বপ্ন প্রসঙ্গে ইভা বলেন, ‘আমার অনেক ইচ্ছা, আমি একজন ডাক্তার হবো। জানি এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ, তবু আমাকে ডাক্তার হতেই হবে। ডাক্তার হয়ে প্রথমে আমি আমার গ্রামের মানুষের সেবা করব।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইভা জানান, ‘আমার কাছে আমার মা-ই সেরা, মা আমার দুষ্টুমি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই সাপোর্ট দিতেন।’
ইভা আরো বলেন, ‘১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ পেয়ে এখন পর্যন্ত চতুর্থ স্থানে রয়েছি। আমি এই ধারাটা যেন অব্যাহত রাখতে পারি, সবার কাছে দোয়া চাই।’
ইভার মা শাহীনুর আখতার জানান, ‘আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে। সে রাত-দিন অনেক কষ্ট করেছে। তার বাবাও অনেক কষ্ট করেছেন। তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনেক পরিশ্রম করেছেন। সবার সহযোগিতায় সে ভালো ফল করেছে।’
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বে উদ্যোগের অভাব, গুরুত্ব তুলে ধরলেন বক্তারা
শাহীনুর আখতার আরো বলেন, “আমি তাকে (ইভা) কোন দিনও পড়ার জন্য চাপ দিইনি। সব সময়ই বলতাম, ‘আম্মু পড়ালেখা করার চেয়ে আগে ভালো মানুষ হও। বেঁচে থাকলে কিছু না কিছু করতে পারবে, কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া আগে জরুরি। সে তার সহপাঠীদের অনেক সহযোগিতা করত, সন্ধ্যার পর ওর অনেক সহপাঠী আমার কাছে ফোন করেও ওর সঙ্গে লেখাপড়ার বিষয়ে কথা বলত। আমি কোন দিনই বিরক্ত হয়নি, আমি বলেছি তুমি সবাইকে সহযোগিতা করবা।’”
দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘ইভা ক্লাসেও অনেক পরিশ্রম করেছে। আমি আগেই টের পেয়েছি, সে ভালো কিছু করবে। তার এই সাফল্যে আমরা বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ পথচলায় আরো বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক দোয়া করছি।’
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ বছর এই বোর্ডে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। সুতরাং এবার পাসের হার বেড়েছে এই বোর্ডে।
আরও পড়ুন: সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সুপারিশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন