ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এফবিআইয়ের ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের


এফবিআইয়ের ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রায় ৩৮ হাজার কর্মীর সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি করেছে সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনি হান্টার্স’। দাবিটি সত্য কি না, তা তদন্ত করছে এফবিআই।

হ্যাকারদের দাবি, তারা এফবিআইয়ের সব এজেন্টের নাম, পদ, ব্যাজ নম্বর এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর ও স্বামী বা স্ত্রীর তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক সিয়ারান মার্টিন বলেন, দাবিটি সত্য প্রমাণিত হলে এটি তথ্য ফাঁসের ক্ষেত্রে যতটা গুরুতর হওয়া সম্ভব, ততটাই গুরুতর ঘটনা হবে।

আরও পড়ুন: গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষ দশে তুরস্ক, মুসলিম-প্রধান দেশ হিসেবে নবম স্থান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফবিআই জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের দাবির বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে ও কঠোরভাবে’ তদন্ত করছে।

হ্যাকারদের দাবি, সোমবার রাতে তারা এফবিআইয়ের সার্ভারে ঢুকে পড়ে। মঙ্গলবার থেকে তারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুরি করা তথ্যের নমুনা ও পর্দার ছবি পাঠাতে শুরু করে। এছাড়াও বিবিসি চুরি করা তথ্যের একটি ছোট অংশ দেখেছে, যা সত্যিকারের বলে মনে হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া কিছু তথ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কর্মস্থল সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চীনা গুপ্তচর, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সংবেদনশীল কর্মকাণ্ডের তথ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।

‘শাইনি হান্টার্স’ একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গোষ্ঠী, যারা মূলত ফ্রান্স থেকে কার্যক্রম শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়। এপ্রিল মাসে রকস্টার গেমস এবং মে মাসে শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্যানভাসে বড় ধরনের সাইবার হামলার পেছনেও গোষ্ঠীটির নাম উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: অভিজিৎ দীপকে মোদি সরকারকে দুর্গোৎসবের জন্য সাময়িক স্বস্তি

গোষ্ঠীটির দাবি, এফবিআই ব্যবহৃত ওরাকল ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবস্থার একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা একাধিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এসবের মধ্যে এফবিআইজবস, কর্মী ও চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা এফবিআই বিস্ট, এজেন্টদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী এফবিআই মেডলিংক এবং তদন্তসংক্রান্ত তথ্য রাখা এফবিআই বিকস রয়েছে।

তবে অর্থের জন্য এফবিআইয়ের ব্যবস্থা হ্যাক করা হয়নি বলে দাবি করেছে শাইনি হান্টার্স। বরং মে মাসে গোষ্ঠীটি সম্পর্কে এফবিআই প্রকাশিত একটি সতর্কবার্তা প্রত্যাহার বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তারা।

এফবিআই ওই সতর্কবার্তায় শাইনি হান্টার্সকে ‘হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিল, তারা প্রায়ই সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা দাবি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে।

শাইনি হান্টার্স জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া ‘মিথ্যা অভিযোগ’ সংশোধন বা প্রত্যাহারের জন্য এফবিআইকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। তা না হলে চুরি করা পুরো তথ্যভান্ডার প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: প্যারিস শিগগিরই মুসলিম শহরে পরিণত হতে পারে: ট্রাম্প

এফবিআই বলেছে, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষের ব্যবস্থায় হামলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইট ঘটনাটিকে ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলা দেখিয়েছে যে গোষ্ঠীটির হাত থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

এদিকে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হান্ট্রেসের অ্যান্ড্রু ব্র্যান্ডট বলেন, এমন হুমকি এফবিআইকে হ্যাকারদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার জন্য আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ এম


আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো নামাজ। ইমানের পর নামাজই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আমল। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের বিভিন্ন নফল সালাতেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাদিস অনুযায়ী, নামাজই মুমিন ও অমুসলিমের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করে। এটি মানুষকে সর্বপ্রকার পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে। তাই দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও যথাসময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাল। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

ফজর- ভোর ৪: ৩৪ মিনিট 

যোহর- দুপুর ১১: ৫৪ মিনিট

আসর- বিকাল ৪: ১০ মিনিট

মাগরিব- সন্ধ্যা ৫: ৫৫ মিনিট

এশা- রাত ৭: ০৯ মিনিট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৪ জন

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কোয়াঙ্গো প্রদেশের কেঙ্গেতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিমানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কিকউইত থেকে রাজধানী কিনশাসার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কেঙ্গেতে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট। কিন্তু সেখানে কোনো রানওয়ে না থাকায় বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

কোয়াঙ্গো প্রদেশের উপগভর্নর রেমি সাকি বোকিন্ডা জানিয়েছেন, জরুরি অবতরণের চেষ্টা করা সত্ত্বেও রানওয়ে অভাবের কারণে বিমানটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে।

কঙ্গোর সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল এফোমি একেনগে ১৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিমানে থাকা সকলেই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের মরদেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাইলটের মরদেহ বিমানটির বাইরে পাওয়া যায়।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন। এছাড়া, দুই জেনারেলের সঙ্গে থাকা সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

মেজর জেনারেল একেনগে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।

মধ্য আফ্রিকার খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশ ডিআর কঙ্গো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাতে জর্জরিত। বিশেষ করে রুয়ান্ডা সীমান্তসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলে মূল্যবান খনি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। গত বছর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দখলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহর পুনর্দখলে দেশটির সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ড-স্পেনের খেলাসহ আজকের খেলা টিভিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


ইংল্যান্ড-স্পেনের খেলাসহ আজকের খেলা টিভিতে

ব্যস্ত জীবনের প্রতিদিনের রুটিনে সব খেলা দেখা সম্ভব নয়। তাই নিজের সময় ও পছন্দ অনুযায়ী কিছু খেলা বেছে নিতে হবে। লাইভ বা সরাসরি খেলা দেখার প্রতি আপনার আগ্রহ নিশ্চয়ই রয়েছে, যা অন্যদের মতোই। খেলার সময় ও স্থান জানার জন্য খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট না করে, দেখে নিন এই শিডিউল। এরপর ঠিক করুন, কখন কোন খেলায় আপনার নজর থাকবে।

আজ উয়েফা নেশনস লিগে মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ইংল্যান্ড। একই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে মাঠে নামবে সুইজারল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। চলুন, জেনে নেয়া যাক আজকের টিভিতে খেলার সূচি, কোন খেলা কখন এবং কোন চ্যানেলে সরাসরি দেখা যাবে।

ফিফা আসিয়ান কাপ

পাকিস্তান-থাইল্যান্ড

সরাসরি, বেলা ৩টা, টি স্পোর্টস

ভিয়েতনাম-ফিলিপাইন

সরাসরি, সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিট, টি স্পোর্টস

এশিয়ান গেমস: ক্রিকেট

জাপান-নেপাল

সকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ১

মালয়েশিয়া-ওমান

বেলা ১১টা, সনি স্পোর্টস ১

এশিয়ান গেমস

বিভিন্ন খেলা

সকাল ৬টা, সনি স্পোর্টস ২ ও ৫

উয়েফা নেশনস লিগ

স্লোভেনিয়া-স্কটল্যান্ড

সন্ধ্যা ৭টা, সনি স্পোর্টস ১

বুলগেরিয়া-লুক্সেমবুর্গ

রাত ১০টা, সনি স্পোর্টস ২

আইসল্যান্ড-এস্তোনিয়া

রাত ১০টা, সনি স্পোর্টস ৫

চেক প্রজাতন্ত্র-ক্রোয়েশিয়া

রাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ১

ইংল্যান্ড-স্পেন

রাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ২

উত্তর মেসিডোনিয়া-সুইজারল্যান্ড

রাত ১২-৪৫ মি., সনি স্পোর্টস ৫

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইশার মৃত্যুর পর ডা. তহুরা কোথায়? আইএইচটিতেও অনুপস্থিতির অভিযোগ, জবাব দেবে কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


মাইশার মৃত্যুর পর ডা. তহুরা কোথায়? আইএইচটিতেও অনুপস্থিতির অভিযোগ, জবাব দেবে কে?

আইএইচটিতেও অনুপস্থিতির অভিযোগ; চিকিৎসা ব্যয়, রোগীসেবা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক প্রশ্ন মাইশার মৃত্যুর পর ডা. তহুরা কোথায়? বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইশা নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন যেন থামছেই না। মৃত্যুর কারণ, চিকিৎসার ধরণ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে স্বজনদের অভিযোগের পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে ডা. তহুরা আক্তারের অবস্থান এবং তার কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন।

স্বজনদের অভিযোগ, মাইশার মৃত্যুর পর ডা. তহুরাকে তারা নিয়মিতভাবে সামনে পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বরিশালের ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)-তেও তার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ কী-এসব বিষয়ে ডা. তহুরার বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও নথিপত্র যাচাই জরুরি। ডা. তহুরার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় এবং অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি নিয়েও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন।

তাদের অভিযোগ, সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন চিকিৎসা-সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়ে রোগীর স্বজনদের অনেক সময় ডা. তহুরার স্বামী বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কয়েকজন স্বজনের দাবি, অন্যান্য চিকিৎসকের ক্ষেত্রে যেখানে সিজারিয়ান ডেলিভারির ব্যয় তুলনামূলক কম বলে জানানো হয়, সেখানে ডা. তহুরার কাছে চিকিৎসা নিতে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-অভিযোগ করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, এর মধ্যে চিকিৎসা ও হাসপাতাল ব্যয় কত এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার প্রকৃতি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রয়োজন চিকিৎসা বিল, হাসপাতালের নির্ধারিত মূল্যতালিকা, রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে সরাসরি ডা. তহুরার কাছে জানতে চাইলে অনেক সময় তার স্বামী বাবলুর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। এতে রোগীর স্বজনদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে-চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, হাসপাতাল ব্যয় এবং রোগীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কার কী দায়িত্ব রয়েছে?

তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। ডা. তহুরার কাছে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকার কারণে তাড়াহুড়ো করে চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার করার ফলে কিছু রোগী পরবর্তী সময়ে জটিলতায় পড়েছেন-এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্বজন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসা নথি, অপারেশন রেকর্ড, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র এবং পরবর্তী চিকিৎসার তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো-রোগীর সংখ্যা, চিকিৎসার সময়, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা এবং পরবর্তী জটিলতার মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা কি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে? মাইশার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দায় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসা নথি, রোগীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা প্রটোকল এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা সম্ভব।

একই ফ্লোরে হাম আক্রান্ত ও সাধারণ শিশু? রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন মাইশার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাম আক্রান্ত শিশু এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের কাছাকাছি বা একই ফ্লোরের এলাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ শিশু ও নবজাতকদের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া নবজাতক, সর্দি-কাশি কিংবা অন্যান্য সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের একই ভবনের শিশু ওয়ার্ড বা কেবিন এলাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই সময়ে হাম আক্রান্ত শিশুদেরও কাছাকাছি এলাকায় চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিছু স্বজনের দাবি, সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার কয়েকদিন পর কোনো কোনো শিশুর মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা গেছে। তবে কোনো শিশুর হাম হাসপাতাল থেকেই সংক্রমিত হয়েছে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। এ ধরনের অভিযোগ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা পরীক্ষা, রোগীর ইতিহাস এবং সংক্রমণ অনুসন্ধান প্রয়োজন।

তবে অভিযোগটি সামনে আসায় হাসপাতালের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীকে অন্য রোগীদের থেকে পৃথক রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা আছে কি? সাধারণ শিশু ও নবজাতকদের থেকে তাদের কীভাবে পৃথক রাখা হচ্ছে? একই চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী উভয় ধরনের রোগীর সেবা দিলে সংক্রমণ প্রতিরোধে কী প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে? হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে এসব ব্যবস্থা তদারকি করেন কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই পাওয়া প্রয়োজন।


মাইশার মৃত্যুর ঘটনা, ডা. তহুরার অবস্থান ও কর্মস্থলে উপস্থিতি, চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে অভিযোগ এবং শিশুদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ-সবকিছু মিলিয়ে রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্বজনদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগেভাগে দায়ী না করে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক। কারণ চিকিৎসাসেবায় আস্থা তৈরি হয় শুধু চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে নয়-স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেও। এরপর- রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের অন্দরমহলের আরও কিছু অভিযোগ, নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%