মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:২১ এম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান পরিচালনা করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ৬০ বোতল দেশীয় মদ এবং পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে। এ অভিযানের সময় নার্গিস আক্তার (৫৫) নামের একজন নারীকে আটক করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নার্গিস আক্তারের (৫৫) বাড়ি এবং লালমিয়া বাড়িয়ালার (৬০) বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।
আটক নার্গিস আক্তার উত্তর দৌলতদিয়ার মৃত রব মোল্লার স্ত্রী। তবে লালমিয়া এবং অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে নার্গিস বাড়ীয়ালীর বাড়ি থেকে ৬০ বোতল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদ এবং লালমিয়ার বাড়ি থেকে পাঁচ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে। এ সময় নার্গিস বাড়ীয়ালীকে আটক করা হয়। লালমিয়াসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায় এবং তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এই তথ্য বিজিবি সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান প্রদান করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে এই সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা যায়, সেই উদ্দেশ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘এর মূল অংশ হলো নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় আলোচিত জান্নাতুন তাজমীন (১৫) হত্যা মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে নিয়ে কক্সবাজারে এক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার মধ্যে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার অধিযাচনপত্রের মাধ্যমে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফেরত পাঠানো হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে থানা-পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে। তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, তাদের যোগাযোগ এবং কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে কুমিল্লা ডিবি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ফেরত দেওয়ার কারণ এবং এ সময় কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়। সদর মডেল থানার পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাজমীন হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে রাজুর নাম আসার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা এজাহার না থাকায় এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এরপর সোমবার সকালে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির কাছে অধিযাচনপত্র দেন। এতে রাজুকে গ্রেফতার করে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অধিযাচনপত্রে বলা হয়, তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ এবং ঘটনার আগে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।
তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ, ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের কথাবার্তা এবং হত্যা মামলার বিষয়ে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কিনা- তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে অধিযাচনপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ডিবির একটি দল কক্সবাজারে এসে রাজুকে নিয়ে তদন্তের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকাল পাঁচটার দিকে তাকে সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে ডিবির দলটি সেখান থেকে চলে যায়।
কেন তাকে ফেরত দেওয়া হলো, জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেল এবং তদন্তে নতুন কোনো সূত্র মিলেছে কিনা- তা জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পবিত্র সরকারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লার পুলিশ রাজুকে নিতে যায়নি। তাকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। হোটেল-সংক্রান্ত কিছু বিষয়েও তদন্তের প্রয়োজন ছিল। সেসব যাচাই করে তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাজমীনের বাবা-মা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে দিতে পারবেন।
অন্যদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, অধিযাচনপত্র অনুযায়ী রাজুকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু কুমিল্লা ডিবির সদস্যরা তাকে আবার ফেরত দেওয়ায় পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় মনজুর খান প্লাজার সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় লাগা আগুন আট ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নিভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। ভবনের ভেতরে প্রচণ্ড ধোঁয়া, সরু গলি, পানির অভাব এবং গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার ফাইটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে, পরে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় মোট ১০টি ইউনিট এখানে কাজ করছে। এছাড়া অতিরিক্ত স্পেশাল রেসপন্স টিম এবং একটি লাইটিং ইউনিটও এখানে কাজ করছে। সরু রাস্তা এবং স্টাকচারাল বিষয় মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের ফায়ার ফাইটাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ফায়ার ফাইটিং করে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "এখানে বিভিন্ন ধরনের গোডাউন আছে। কসমেটিক এবং ব্যাগের গোডাউন। এই গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যা বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে যায়। আমাদের ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছে। এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে আসেনি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি, কিছুক্ষণের মধ্যে বা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।"
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, "এখনও কোনো হাতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নিভাতে গিয়ে ধোঁয়ায় আমাদের দুই ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন।"
রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. শাহজাহার যুগান্তরকে জানান, সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদামে আগুন লেগেছে। গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে হচ্ছে। এ কারণে সময় লাগছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। পরে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ইউনিটগুলো। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে পর্যায়ক্রমে সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবন থেকে ধোঁয়া বের করতে রাত সোয়া ১১টার দিকে ধোঁয়া বের করার বিশেষ যন্ত্র স্মোক ইজেক্টর নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল। ভবনের ভেতরে প্রচুর মালামাল থাকায় ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়েছে। এতে আগুনের উৎস শনাক্ত ও নির্বাপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পুরান ঢাকার সরু গলির কারণে বড় গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারছে না। তীব্র যানজট ও উৎসুক মানুষের ভিড়ও উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি করছে। আগুন নেভানোর সময় পানির সংকটেও পড়তে হয়েছে কর্মীদের।
ভবনটিতে কসমেটিকস, ছাতা, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এসব গুদামে কোটি কোটি টাকার মালামাল মজুত ছিল। আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তার কারণে এবং ধোঁয়ার ঘনত্ব বেশি থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, "ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সেখানে ব্যাগের কারখানা বা গুদাম এবং আশপাশে কাপড়ের গুদাম ছিল। ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের সাত তলা ভবনের ছয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই ফায়ার ফাইটার। তাদের নাম জিল্লুর রহমান (৪০) এবং নজরুল ইসলাম (৫০)। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৫টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের এসি মসজিদের পাশে ছোট কাটারা এলাকায় মনসুর খান প্লাজার ছয়তলা ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ চলাকালীন সময়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন জিল্লুর রহমান ও নজরুল ইসলাম। পরে তাদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
অসুস্থ দুই ফায়ার ফাইটারকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ঢাকা সিটি ইউনিট রেসকোর্স সেন্টারের মো. আলহা জানান, চকবাজার থানাধীন মনসুর খান টাওয়ারের সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় ধোঁয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চকবাজার থেকে ধোঁয়ায় অসুস্থ দুই ফায়ার ফাইটারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের দুজনকেই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় দুই ফায়ার ফাইটারকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ