ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শায়েস্তাগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের সাত সদস্য গ্রেপ্তার


শায়েস্তাগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের সাত সদস্য গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও খেলায় ব্যবহৃত সাতটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ পুরাতন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার রেলওয়ে গুদাম ও রেজভিয়া জামে মসজিদের সামনের ট্রাকস্ট্যান্ডের ফাঁকা জায়গায় কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে ইউনাইটেড ট্রাস্ট, মাসে মিলবে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা

অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সাতটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাইবান্ধার সাঘাটা থানার হালিশকান্দি মাস্টারপাড়া এলাকার মো. আবুল হাশেমের ছেলে ও বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জের দক্ষিণ লেংজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. খাইরুল হাসান পলাশ (৩৫), লাখাই উপজেলার পূর্ব বুল্লার মৃত সুধাংশু মল্লিকের ছেলে সুভাষ চন্দ্র মল্লিক (২৬), নবীগঞ্জের চৌকতপুর এলাকার দানিসুল্লাহর ছেলে কামরুল ইসলাম (৪১), শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর বাজারের মৃত গোপাল রবীদাসের ছেলে রনি রবীদাস (২৩), নিজগাঁও এলাকার মো. আব্দুল শহীদের ছেলে মো. শাহ আলম (২৮), চরণুর আহমেদ এলাকার মৃত শেখর মিয়ার ছেলে মো. তৌহিদ মিয়া (২৬) এবং নবীগঞ্জের পিরিজপুর এলাকার মো. মুজিবুর রহমানের ছেলে রেদোয়ান হোসেন (২৩)।

এসআরবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন।

তাদের দাবি অনুযায়ী, কমিশনের বিনিময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়া অ্যাপ ব্যবহারে উৎসাহিত করতেন। একই সঙ্গে জুয়ার অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করে মূল এজেন্টের কাছে পাঠাতেন।

আরও পড়ুন: দারোয়ানী রেলস্টেশনে সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন

এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে ব্যবহৃত কয়েকটি অ্যাপের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাদের এবং জব্দ করা আলামত শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এসআরবি।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির বন্ধনে আলফাডাঙ্গা, পূজামণ্ডপে পূজামণ্ডপে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হেমায়েত হোসেনের আর্থিক সহায়তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আরও পড়ুন

পরবর্তী খবর

আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র বাংলাদেশ

বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে দুবাইয়ে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচটি শুরু করার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে তারা। ২ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি ড্র হয়েছে। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমির ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ড্র হিসেবে মেনে নেন দুই দলের অধিনায়ক।

ম্যাচটি ড্র হলেও বাংলাদেশের ব্যাট-বলের প্রস্তুতি সন্তোষজনক হয়েছে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সাদমান ইসলাম ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে তারা ১০৮ রান যোগ করেন। সৌম্য ৫৭ রানে রিটায়ার্ড আউট হন। অপরদিকে, সাদমানের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান।

এছাড়া, মমিনুল হক ও নাঈম হাসান ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন। তিন নম্বরে নেমে মুমিনুল ৩৩ রান করেন, আর নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়। আমিরাতের পক্ষে জুনায়েদ সিদ্দিকী ৩ উইকেট নেন।

অন্যদিকে, আমিরাত নিজেদের ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হয়েছে। ওয়াসিম মুহাম্মদ ও আফতাব আলম ফিফটি পেয়েছেন। ওয়াসিম ৬৯ রান করেন, আর আফতাবের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ রান। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ইকবাল হোসেন ইমন, এবং তাইজুল ইসলাম ৩ উইকেট নেন।

১২ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ যখন দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১১৪ রান তোলে, তখনই দুই দল ম্যাচটি ড্র হিসেবে মেনে নেয়। এই ইনিংসে সর্বোচ্চ রান আসে মুশফিকের ব্যাট থেকে, ৪৪ রান। অন্যদিকে, সাদমান ৩২ রান করেন এবং মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ২৪।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


টেকনাফে ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে ৫ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫) ও বিজিবির যৌথ আভিযানিক দল। এ সময় তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মধ্যে একটি অভিযানে ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং অপর অভিযানে ২ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।

এসআরবি-১৫-এর প্রেস রিলিজে জানানো হয়, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্প ও ২ বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি যৌথ দল টেকনাফ থানাধীন শাপলা চত্বর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে স্থানীয় মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী দক্ষিণ জালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে।

এরপর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফের দক্ষিণ জালিয়াপাড়া ৪ নম্বর ব্রিজের ১ নম্বর সুইচগেটের পশ্চিম পাশে খালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. ইদ্রিস (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল হাকিম।

অপরদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি মাছ ধরার ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মো. রিয়াজ (২৩) ও আতাউর রহমান (২৪) নামে আরও দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার রিয়াজ বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে। অপর গ্রেফতার আতাউর রহমান একই এলাকার নুরুল আলম ও নাছিমা দম্পতির ছেলে।

এসআরবি-১৫ জানায়, পৃথক দুটি অভিযানে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, গত ৩ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসআরবি-১৫-এর আওতাধীন এলাকায় ১২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪২৭ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৩০ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা, ৫০ বোতল ফেনসিডিল, একটি বিদেশি এসএমজি, একটি এলজি, একটি ওয়ান শুটারগান ও ৩৪২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৬ জন অপহৃত ও পাচারকৃত ভিকটিমকে উদ্ধার এবং ১৫৮ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে এসআরবি-১৫।

এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে নতুন ‘ফুয়েল রিলিফ স্কিম’ চালু, তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


পাকিস্তানে নতুন ‘ফুয়েল রিলিফ স্কিম’ চালু, তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায়

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার একটি বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছে। এই নতুন উদ্যোগটি মূলত সীমিত ও নিম্ন আয়ের নাগরিকদের সরাসরি আর্থিক স্বস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টারস স্পেশাল রিলিফ স্কিম’ (Prime Minister’s Special Relief Scheme) নামে পরিচিত।

নতুন এই প্রকল্পের আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা এবং চিংচি চালকরা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ রুপি করে জ্বালানি সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে, ৮০০ সিসি পর্যন্ত ছোট গাড়ির মালিকরা প্রতি ১০ দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি ক্রয়ে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি করে ছাড় পাচ্ছেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর পূর্বের মূল্যের কাছাকাছি দামে জ্বালানি তেল কেনার সুবিধা পাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকেরা।

সারাদেশে কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র আট দিনের মধ্যে ৫৮ লক্ষাধিক নাগরিক এতে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষ সরাসরি এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। ডিজিটাল যাচাইকরণ, এসএমএস রেজিস্ট্রেশন এবং কিউআর/ডিজিটাল ফুয়েল টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই স্বস্তি জনগণের কাছে সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পৌঁছানো হচ্ছে।

জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে এই প্রকল্পটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে। সংশোধন এনে দুই ও তিন চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে ২০ বছর পুরোনো গাড়িকেও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৯৭৭১ নম্বরে বিনামূল্যে এসএমএস পাঠিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সর্বনিম্ন ৫ লিটার জ্বালানি কেনার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও ভেরিফিকেশন সিস্টেম তৈরি করেছে দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে প্রচার কাজ চালিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কার এই সময়ে প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সরাসরি জনগণের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়, এই উদ্যোগকে বিশ্লেষকরা একটি সফল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিব্রিউন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গের ২ আসনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে উপ-নির্বাচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গের ২ আসনে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে উপ-নির্বাচন

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) নথিভুক্ত ১৮,৮৯৫টি আপিলের মধ্যে নন্দীগ্রামে ৮৬টি এবং রেজিনগরে ৪টি আপিলের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপ-নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে অস্বীকার করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, "এগুলো তো শুধুই উপ-নির্বাচন, আর কিছুই নয়।"

আগামীকাল ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এই দুটি কেন্দ্রে। তবে নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুটি কেন্দ্র থেকে মোট ১৮,৮৯৫টি আপিল নথিভুক্ত হয়েছিল। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপোলেট ট্রাইব্যুনালের ৩ নম্বর তালিকা অনুযায়ী—মোট ৯০টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। যার নিষ্পত্তির হার মাত্র ০.৪৭৬%। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৮৬টি এবং রেজিনগরে ৪টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে।

রেজিনগর: ১২,৪৫২টি আপিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত মাত্র ৪টিতে

মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে মুসলিম জনসংখ্যার হার ৬২.৪৬%। এখানে ১৯,৮০০ জন ভোটারকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামনে পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ১৫,৮৭৭ জনকে বৈধ হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ৩,৯২৩ জনকে 'অযোগ্য' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অযোগ্য চিহ্নিতদের মধ্যে ৩,৭৫২ জন অর্থাৎ ৯৫.৬% ভোটার মুসলিম ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা নির্বাচন কমিশনের ১০ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রেজিনগরে ১২,৪৫২টি আপিল জমা পড়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৪টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এটি ০.০৩২% নিষ্পত্তির হার, যেখানে পুরো রাজ্যজুড়ে নিষ্পত্তির হার ৩.২০১%। রাজ্য গড়ের তুলনায় রেজিনগরের ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম প্রায় একশত গুণ ধীরগতিতে চলছে।

গত ১৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৭৫ দিনে রেজিনগরে ৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রতি ৪৪ দিনে একটি করে মামলার সিদ্ধান্ত। এই গতিতে চললে সেখানে বাকি থাকা ১২,৪৪৮টি আপিল নিষ্পত্তি হতে প্রায় ১,৪৯০ বছর লাগবে!

নন্দীগ্রাম: ৬,৪৪৩টি আপিল, সিদ্ধান্ত ৮৬টিতে

নন্দীগ্রামের জনসংখ্যার চিত্র ভিন্ন হলেও প্রক্রিয়াগত সমস্যা একই। পূর্ব মেদিনীপুরের এই কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যার হার ২৩.০২%। বিশেষ সংশোধনের (এসআইআর) সময় ১০,৬১৬ জন ভোটারকে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ৭,১৫৪ জনকে অনুমোদন দেন এবং ৩,৪৬১ জনকে 'অযোগ্য' ঘোষণা করেন। অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩,২৭০ জন অর্থাৎ ৯৪.৫% মুসলিম, যদিও কেন্দ্রে মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার চারভাগের একভাগের চেয়েও কম।

নির্বাচন কমিশনের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে ৬,৪৪৩টি আপিল ছিল—যা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কারণে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদান থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে ৮৬টির সিদ্ধান্ত হয়েছে—যার নিষ্পত্তির হার ১.৩৮১% এবং বাকি ৬,৩৫৪টি মামলা এখনও বিচারাধীন।

৮৫ জন ভোটারকে দ্বিতীয়বার বৈধতা দেওয়া হয়েছে

তবে এই কম সংখ্যক সিদ্ধান্ত দিয়েও নন্দীগ্রামে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় থাকা ভোটারদের দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—যাদের অযোগ্য চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং যাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তবুও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাদ দেওয়ার জন্য আপিলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তালিকা অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের ৮৬টি সিদ্ধান্তের অর্থ বাদ পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনা নয়। এটি মূলত ৮৫ জন ভোটারের আপিল খারিজের ঘটনা, যাদের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আগেই বৈধ ঘোষণা করেছিলেন এবং তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পুনরায় আপিল করা হয়েছিল। মাত্র ১ জন ভোটারের নাম নতুন করে ফিরিয়ে আনা বা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

রেজিনগরে দেখা গেছে ঠিক বিপরীত চিত্র। সেখানকার ৪টি সিদ্ধান্তের সবগুলোতেই বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরত আনা হয়েছে এবং নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে করা কোনো আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি।

এই দুই কেন্দ্রে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা টিকে যাওয়া প্রতিটি ভোটারই মুসলিম। নন্দীগ্রামে এর অর্থ হলো, ৮৫ জন মুসলিম ভোটারকে দু'বার বৈধতার প্রমাণ দিতে হয়েছে—একবার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে এবং দ্বিতীয়বার ট্রাইব্যুনালে।

যে ১৭৭ জন ভোটার মামলা জিতেও অপেক্ষায় ছিলেন

এই অসম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ার আরেকটি স্তর রয়েছে। এপ্রিলে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর নন্দীগ্রামে ২৫৬টি এবং রেজিনগরে ৫টি মামলা "বিচারাধীন" অবস্থায় রয়ে যায়। ৭ আগস্টের মধ্যে নন্দীগ্রামের মাত্র একটি মামলা বিচারিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। বাকি মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আটকে ছিল। তাদের মধ্যে নন্দীগ্রামের ১৭৭ জন ভোটার ছিলেন, যাদের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা যোগ্য বলে রায় দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন এখনও স্পষ্ট করেনি যে সেই স্বাক্ষরগুলো পরবর্তীতে দেওয়া হয়েছিল কিনা এবং এই ১৭৭ জনের নাম উপ-নির্বাচনের আগে তালিকায় যোগ করা হয়েছে কিনা।

অন্যদিকে রেজিনগরে ৫ জন ভোটার বিচারাধীন অবস্থায় থেকে যান, আর আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশই করা হয়নি।

বিজেপির 'লক্ষ্যমাত্রা' এবং জয়ের ব্যবধান

নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ফলাফল ছোটখাটো পরিবর্তনের ওপর ভীষণভাবে সংবেদনশীল। গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্র থেকে ৯,৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন—তিনি পেয়েছিলেন ১,২৭,৩০১ ভোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর পেয়েছিলেন ১,১৭,৬৩৬ ভোট। সেখানে অযোগ্য ঘোষিত ৩,৪৬১ জন ভোটার মোট জয়ের ব্যবধানের প্রায় ৩৬%।

যদিও এই হিসাব থেকে বোঝা যায় না ওই ভোটাররা কাকে ভোট দিতেন, তবে এটি দেখায় যে নিষ্পত্তহীন ভোটার তালিকার আকার জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের তুলনায় কতটা প্রভাব ফেলবে। শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ফলতা পুনর্নির্বাচনে রেকর্ড করা ১.০৯ লাখের জয়ের ব্যবধান অতিক্রম করার একটি "লক্ষ্য" নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যেখানে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানী রথ এই ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে ১.৫০ লাখে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

সংখ্যানীতি অনুযায়ী এই ধরণের ব্যবধান কতটা বড় হতে পারে তা স্পষ্ট। নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় ২,৬৬,৪১৫ জন ভোটার ছিলেন। মে মাসের নির্বাচনে ২,৫২,৭২২টি ভোট পড়েছিল, যা মোট ভোটারের প্রায় ৯৪.৯%। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী বিজেপি ৫০.৩৭% এবং তৃণমূল ৪৬.৫৫% ভোট পেয়েছিল।

একই পরিমাণ ভোট পড়লে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে জিততে হলে জয়ী প্রার্থীকে প্রায় ১,৭৬,৩৬১টি ভোট পেতে হবে, যা বাকি সমস্ত প্রার্থীদের জন্য সম্মিলিতভাবে মাত্র ৭৬,৩৬১টি ভোট অবশিষ্ট রাখবে।

এর অর্থ দাঁড়ায় কোনো একটি দলকে মোট পড়া ভোটের প্রায় ৭০% পেতে হবে, যেখানে মে মাসে বিজেপি পেয়েছিল ৫০.৩৭% ভোট। এমনকি ১০০% ভোট পড়লেও, ১ লাখের ব্যবধান পেতে নিবন্ধিত মোট ভোটারের প্রায় ৬৯% মানুষের ভোট বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে যেতে হবে।

এই পরিমাণের একটি তুলনা টানা যেতে পারে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার আসন থেকে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৬৮.৪৮% ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন—যে ফলাফলকে বিজেপি প্রকাশ্যে বড় ধরনের কারচুপি বলে অভিহিত করেছিল। অধিকারী এখন যে ব্যবধানকে লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করছেন, তার জন্য তাঁর নিজের দল যাকে কারচুপিপূর্ণ বলেছিল তার চেয়েও বেশি শতাংশ ভোটের প্রয়োজন হবে।

'শুধুই একটি উপ-নির্বাচন' বলতে যা বোঝায়

যে ভোটার তালিকা সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন, এই দুটি কেন্দ্রের উপ-নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেই তালিকার প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা। এটি এমন দুটি আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে কমিশন সবচেয়ে কম মামলার নিষ্পত্তি করেছে।

নন্দীগ্রামে, ২০০৭ সালের আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত পরোয়ানার কারণে কংগ্রেস প্রার্থী ১৬ দিনের প্রচারণার মধ্যে ১১ দিনই হেফাজতে কাটিয়েছেন। তাঁর মুক্তির পরদিনই তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়, অন্যদিকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী প্রচারণার সময় আক্রান্ত হন। তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

রেজিনগরে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এইউজেপি) সমর্থিত প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করার পর দলটি প্রচারণা বন্ধ করে দেয়। প্রতীক না পেয়ে রেভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (আরএসপি) সরে দাঁড়ায়। এদিকে, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) 'আলমারি' প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে—কারণ তারা ২০২৪ সালে এবং এপ্রিলে যে 'খাম' প্রতীক ব্যবহার করেছিল, তা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%