০২:২৪ পি.এম
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের সাখালিন দ্বীপে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক জাপানি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ তথ্য রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যা আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) এই খবর প্রকাশ করে।
সংস্থাটির অভিযোগ, ওই সাংবাদিক জাপানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। যদি এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকের নাম ইমাই ইউকি। তিনি জাপানের হোক্কাইডো শিম্বুন সংবাদপত্রের কর্মী ছিলেন।
জাপানের কিয়োডো সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, মস্কোতে অবস্থিত জাপানি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকের আটকের খবরটি যাচাই করার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানিয়েছে, সাখালিন দ্বীপের প্রধান শহর ইউঝনো-সাখালিনস্ক থেকে রাশিয়া ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ওই সাংবাদিককে আটক করা হয়। পরে তাকে বিমানে করে মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আদালত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাসের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এফএসবির মুখোশধারী কর্মকর্তারা একটি হোটেল কক্ষে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরাচ্ছেন। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে আরো দেখা যায়, ওই ব্যক্তিকে এফএসবির দুই কর্মকর্তার সঙ্গে বিমানে তোলা হচ্ছে। পরে মস্কোর একটি আদালতে তাকে খাঁচার মতো ঘেরা আসামির কাঠগড়ায় দেখা যায়। আদালত তাকে প্রায় দুই মাস আটক রাখার অনুমতি দেন।
রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। দ্বীপপুঞ্জটির মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছে।
সাখালিন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সাখালিন দ্বীপ এবং কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দক্ষিণের দ্বীপ। জাপান এই দ্বীপগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে দাবি করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এর প্রধান কারণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির কর্তৃপক্ষ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বহু বিদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত
এ ধরনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো, ২০২৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচকে আটক করা। পরে রাশিয়ার একটি আদালত তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পান গার্শকোভিচ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন