০৫:৩৪ এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একসঙ্গে তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক নামে তিনটি যুদ্ধজাহাজকে শনিবার (২০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মোদি জানিয়েছেন, ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এই তিন যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপইয়ার্ডে নির্মিত এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন মোদি। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এদিকে আইএনএস দুনাগিরি ও আইএনএস অগ্রয় উদ্বোধনের পর নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। আন্দামানের উদ্দেশে রওনা হতে যাচ্ছে আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস অগ্রয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গে আসতে পেরে আমি গর্বিত। ভারতের পুনর্জাগরণে গতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক ও আইএনএস অগ্রয়। নৌবাহিনী শক্তিশালী না হলে কোনও রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। ভারত এখন আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত। বাংলা থেকেই আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত ভারতের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি মন্তব্য করেছেন, "মিসাইল বহনে সক্ষম আইএনএস দুনাগিরিসহ তিনটি যুদ্ধজাহাজই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ভারত শুধু ভোক্তা নয়, নির্মাতা হতে চায়। দেশ যেদিন নির্মাতা হবে, সেদিনই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। তিনটি জাহাজের নকশাও ভারতের নিজস্ব। আজ বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস, আর আজই আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জাহাজেরও সূচনা হলো।"
আইএনএস সংশোধকে হালকা ওজনের টর্পেডো ও রকেট লঞ্চার রয়েছে। এটি ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম জরিপ জাহাজ। উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক খাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
তিনটি জাহাজের মধ্যে আইএনএস দুনাগিরি প্রজেক্ট-১৭এ স্টেলথ ফ্রিগেট শ্রেণির একটি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত এই ফ্রিগেট ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এটি ভূমি থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে হামলা চালাতে পারে।
আইএনএস অগ্রয় সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চল ও গভীর পানিতে জরিপ পরিচালনা করতে সক্ষম। এতে অত্যাধুনিক সার্ভে সিস্টেম রয়েছে। এটি আর্নালা শ্রেণির চতুর্থ অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ। অগভীর সমুদ্রে শত্রু সাবমেরিন মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। সমুদ্রের নিচ থেকে আসা যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্য এতে টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার রয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার ভারতীয় নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তিনটি জাহাজই সমুদ্রযুদ্ধ, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন অভিযানে সক্ষম। এগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত। জাহাজগুলোর নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। আর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)।
ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্যমতে, উদ্বোধনের পর তিনটি জাহাজই সমুদ্রে একযোগে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এছাড়া ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েই জাহাজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যবহৃত উপকরণের ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়। জাহাজ নির্মাণে ২০০টির বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন