১১:২০ পি.এম
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে—এমন একটি শঙ্কার কথা ইরান জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সোমবার সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
একই সময় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে হামলার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা বার্তা আদান-প্রদান তেহরানের আলোচক দল উক্ত হামলায় বন্ধ করে দিচ্ছে। তিন মাস ধরে যেভাবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সংবাদমাধ্যম তাসনিমের দাবির ভিত্তিতে, ইরান ও তাদের 'প্রতিরোধ জোট' (ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলো) একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে। লক্ষ্যে রয়েছে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী পুনরায় সক্রিয় হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই পথটি সুয়েজ খালের সঙ্গে সংযুক্ত। তাই এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, একটি স্থানে হামলা মানে পুরো যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করা। তিনি সতর্ক সংকেত দিয়ে বলেন, এর দায় ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না হলে তারা কোনো আলোচনায় ফিরে আসবে না।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসব শিশুদের নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেয়: ডেপুটি স্পিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন