মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
০২:০৪ পি.এম
জামালপুরের দিগপাইত এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের চাপায় সাবেক এক শ্রমিক নেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দিগপাইত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নন্নী ড্রাইভার, জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (দিগপাইত শাখা) সাবেক সভাপতি এবং দিগপাইত এলাকার বাসিন্দা। অপর নিহত হাফেজ মিয়া (৪৫), তিনি মাটিয়াজানি এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী ও কয়েকজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নন্নী ড্রাইভার ও হাফেজ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ট্রাকটি শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতার সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে এই কথা জানিয়ে বলেন, এই জটিলতার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রবাসীদের জন্য যদি ভালো কিছু করা সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে আমার নিজেরও ভালো লাগবে এবং এটি সরকারের জন্যও ইতিবাচক হবে।
নুরুল হক আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে প্রবাসীদের ক্ষোভ থাকা একদম যৌক্তিক। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি, দেখা যাক কতটুকু আমি সফল হতে পারি। যদিও সময় লাগবে, তবুও আমি আশা করি ইনশাআল্লাহ নতুন ও ভালো কিছু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি নতুন অভিযানের খবর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামাল্লার পশ্চিমে নিলিন শহরে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি সেনারা বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংস করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা এলাকার জাবাল সালমান অঞ্চলেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব অভিযানের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানগুলোর গতিও বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা।
নাবলুসের কাছে একটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে গেছে। ওই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এসব অভিযান চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, সোমবার (২৭ জুলাই) রংপুর বাস টার্মিনাল এলাকার নির্মিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড-বিআরডিবি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষ করে গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি বিএনপির মহাসচিব, বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
তিনি আরো যোগ করেন, যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদ বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক দল এবং জামায়াতে ইসলামী গণতান্ত্রিক দল কি না, তা তাদের দলের নেতারাই বিবেচনা করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এরপর, মন্ত্রী রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে পল্লী মেলার উদ্বোধন করেন এবং স্টল পরিদর্শন করেন। পরে, তিনি রংपुर শিল্পকলা একাডেমি মিলন আয়তনে বিআরডিবি’র সুফলভোগীদের মধ্যে গাছের চারা ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম তীরের টেল গ্রামের ধ্বংসের আহ্বান জানাচ্ছেন ইসরায়েলি নেতারা। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ টেল, ইরাক বুরিন ও বেইত ফুরিক গ্রামগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই জনপদগুলোকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের পর নাবলুস ও তুলকারমের শরণার্থী শিবিরগুলোর মতো বানিয়ে দিতে হবে। স্মোট্রিচ গত শুক্রবার এক বক্তব্যে এ বিষয়ে বলেছেন, সেখানকার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আওতা থেকে এলাকাটি পুরোপুরি নিজেদের আওতায় নিতে হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সহিংস বক্তব্য এবং তাণ্ডব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ইহুদি হত্যার জন্য শত্রুপক্ষকে ভূমি ও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।’ সেখানকার পরিস্থিতি গাজা উপত্যকার মতো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শহরগুলো নিশ্চিহ্ন করার নীতির দিকে এগোচ্ছে।
স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সদস্য জভি সুকোটও একই বার্তা দিয়েছেন। তিনি চ্যানেল ফোরটিন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, টেল গ্রামটিকে ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে হবে’। তিনি তার ফেসবুক পেজে ‘প্রতিশোধ’ ক্যাপশন সহ একটি কালো স্ক্রিনের ছবি পোস্ট করেছেন।
কেন এই পরিস্থিতি? সম্প্রতি, সশস্ত্র ইসরায়েলি দখলদাররা টেল গ্রামে হামলা চালায়, যা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, সাইফি নামের একটি পরিবারের একজন সদস্য এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা হয়। ওই ঘটনার পর, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন সরাসরি ইসরায়েলের দখলদারদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ইসরায়েলি দখলদার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও, উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জমি দখল, জলপাই বাগান ধ্বংস, বাড়িঘর ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং সরাসরি গুলি চালানোর মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ