প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পশ্চিম তীরের টেল গ্রামের ধ্বংসের আহ্বান জানাচ্ছেন ইসরায়েলি নেতারা। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ টেল, ইরাক বুরিন ও বেইত ফুরিক গ্রামগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই জনপদগুলোকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের পর নাবলুস ও তুলকারমের শরণার্থী শিবিরগুলোর মতো বানিয়ে দিতে হবে। স্মোট্রিচ গত শুক্রবার এক বক্তব্যে এ বিষয়ে বলেছেন, সেখানকার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আওতা থেকে এলাকাটি পুরোপুরি নিজেদের আওতায় নিতে হবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেতাদের সহিংস বক্তব্য এবং তাণ্ডব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ইহুদি হত্যার জন্য শত্রুপক্ষকে ভূমি ও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।’ সেখানকার পরিস্থিতি গাজা উপত্যকার মতো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শহরগুলো নিশ্চিহ্ন করার নীতির দিকে এগোচ্ছে।
স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সদস্য জভি সুকোটও একই বার্তা দিয়েছেন। তিনি চ্যানেল ফোরটিন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, টেল গ্রামটিকে ‘ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে হবে’। তিনি তার ফেসবুক পেজে ‘প্রতিশোধ’ ক্যাপশন সহ একটি কালো স্ক্রিনের ছবি পোস্ট করেছেন।
কেন এই পরিস্থিতি? সম্প্রতি, সশস্ত্র ইসরায়েলি দখলদাররা টেল গ্রামে হামলা চালায়, যা থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, সাইফি নামের একটি পরিবারের একজন সদস্য এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা হয়। ওই ঘটনার পর, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন সরাসরি ইসরায়েলের দখলদারদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিম তীরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ইসরায়েলি দখলদার রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই বসতিগুলো অবৈধ হলেও, উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জমি দখল, জলপাই বাগান ধ্বংস, বাড়িঘর ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং সরাসরি গুলি চালানোর মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন