ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত


জিয়া সেদিন তাহেরের সাথে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে ফিরে আসতেন না: ব্রি. সাখাওয়াত

সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, জিয়া সেদিন তাহেরের সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে গেলে তিনি আর ফিরে আসতেন না। তিনি দাবি করেছেন যে, জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের কৃতিত্ব জাসদের নয়। তার মতে, জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করতে টু ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি এবং ফোর বেঙ্গলও চেষ্টা করেছিল।

শনিবার, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি (রাওয়া) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ব্রি. সাখাওয়াত বলেন, জাসদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু এই বক্তব্য সঠিক নয়। জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিলেন টু ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি। এ কাজে নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন কর্নেল মহিউদ্দীন। ফোর বেঙ্গলও তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল।

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

সাবেক উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘৭ নভেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি টু ফিল্ডে গিয়ে দেখেন, জিয়াউর রহমান ইউনিটটির অধিনায়কের কার্যালয়ে বসে আছেন। তার পাশে ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশন্স (ডিএমও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরউদ্দীন খান। আধা ঘণ্টা পর কর্নেল তাহের গণবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টু ফিল্ডে আসেন। সেখানে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার কথা হয়। তাহের জিয়াকে তাদের সঙ্গে যেতে এবং সৈনিকদের সামনে তাদের ২১ দফা বা ১৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলতে বলেন। তবে জিয়াউর রহমান তাতে রাজি হননি। তিনি আগেই রেডিও ও টেলিভিশনে নিজের বক্তব্য পাঠিয়ে দিয়েছেন তুলে ধরে কোথাও যেতে অস্বীকৃতি জানান।

জিয়াউর রহমানকে একবার বাইরে নিয়ে যেতে পারলে তিনি আর ফিরে আসতেন না। এতে কর্নেল তাহের ও জাসদের একাংশ নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে পারত, দাবি করেন সাখাওয়াত হোসেন।

জিয়াউর রহমানকে উদ্ধারে টু ফিল্ড ও ফোর বেঙ্গলের ভূমিকার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ওই দুটি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে অন্য কোথাও যেতে দেননি এবং টু ফিল্ড তাকে আগেই উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাখাওয়াত হোসেন তৎকালীন কিছু অমীমাংসিত রহস্যের প্রসঙ্গও সামনে আনেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ওই উত্তাল সময়ে কর্নেল হুদা কেন সম্পূর্ণ একটি ব্যাটালিয়ন (১০ বেঙ্গল) নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছিলেন, তা আজও বড় রহস্য।

আরও পড়ুন: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান ধর্মমন্ত্রীর

মূলত জাসদের গণবাহিনীর পাশাপাশি কর্নেল হুদাদের এমন সামরিক পদক্ষেপের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ইতিহাসের সেই অজানা দিকটি তুলে ধরতেই এ প্রসঙ্গ টানার কথা বলেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা প্রসঙ্গে বলেন, জিয়াউর রহমানের সততা ও সাহসিকতা ছিল অনন্য। তিনি হকি মাঠে লোডেড রাইফেল হাতে থাকা উচ্ছৃঙ্খল ট্রুপসদের সামনে নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে তাদের শান্ত করেন। তার মনে কোনো প্রতিশোধস্পৃহা ছিল না।

খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা এবং হায়দারকে বাঁচানোর জন্য তিনি নওয়াজেশ উদ্দিনকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তুলে ধরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাখাওয়াত বলেন, সেনাবাহিনীতে মুক্তিযোদ্ধা ও অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের মধ্যকার বিভেদ দূর করে মেজর জিয়া রিকনসিলিয়েশন বা ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেনাবাহিনীর বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান ভারতকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের হয়ে এসে স্বাধীন নীতির সূচনা করেন তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দেশ হিসেবে তিনি চীন সফর করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে আল কুদস কমিটিতে ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আজ পর্যন্ত ঠিক করতে পারিনি। আমরা অনেক বছর ভারতকেন্দ্রিক থেকেছি। আমি কেন পার্শ্ববর্তী ভারতে দায়ী করব, ভারতীয় হলে আমিও তাই করতাম। বাংলাদেশের সেই সাহস নেই দাবি করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যদিও ইরানের সাথে আমাদের তুলনা চলে না, কিন্তু আমাদের উচিত তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।

আরও পড়ুন: চিকিৎসার জন্য অনুদান নিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা

স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদেরও শর্তযুক্ত বিদেশি ঋণ পরিহার করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং স্বাধীনভাবে জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত ১৫ বছরে সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও নৈতিকতা ধ্বংস করা হয়েছে মন্তব্য করে সাখাওয়াত বলেন, একটি দেশকে শক্তিশালী করতে হলে সেনাবাহিনীকে পুনরায় চরম পেশাদারত্বে ফিরে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোদাসসের হোসেন খান বীর প্রতীক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ড. ইউনূসকে আমি এখনো দাঁড়িয়ে বলবো সবার সামনে, উনি মস্ত বড় একটা অপরাধ করে গেছেন। তড়িঘড়ি করে অল্প সময়ের মধ্যে ইলেকশনটা দিয়ে জাতির ক্ষতি করে দিয়ে গেছেন। এটা তো আপনার ম্যান্ডেট ছিল না।

মোদাসসের হোসেন খান গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে বলেন, জনতা এবং ছাত্ররা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আপনি কথা দিয়েছেন সংশোধন করবেন, স্বৈরাচারদের বিচার করবেন, হত্যার বিচার করবেন। এই কাজগুলো তো করলেন না। হঠাৎ করে আপনি রাজনৈতিক দলের চাপে নির্বাচন দিলেন।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কথায় কান দিয়ে সংস্কার না করেই মুহাম্মদ ইউনুস জাতির ক্ষতি করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে এসেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ভূরাজনীতি গবেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আমিনুল করিম, রাওয়া চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট আবু রুশদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. দেলোয়ার হোসেন খান প্রমুখ।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


সারজিস আলম: গণহত্যাকারী হাসিনার অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ন সদস্য সচিব সারজিস আলম ফেসবুকে ফ্যাসিবাদ হাসিনাকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "গণহত্যাকারী হাসিনা যে ডিসেম্বরে ফিরতে চায়, সেই অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে কখনোই আসবে না।"

শনিবার রাতে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেসবুক পেজে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করেন। সারজিস আলমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- "গণহত্যাকারী হাসিনা যে ডিসেম্বরে ফিরতে চায়, সেই অলীক ডিসেম্বর বাংলাদেশে কখনোই আসবে না।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ এম


মাদারীপুরে কৃষককে কুপিয়ে জখম, প্রধান আসামি জাকির গ্রেফতার

মাদারীপুরের ডাসারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে চাঁন মিয়া মাতুব্বর নামে এক কৃষককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির সরদারকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের আটিপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া জাকির ওই এলাকার আমজাদ সরদারের ছেলে। আহত চাঁন মিয়া মাতুব্বর (৪০) একই এলাকার বাদশা মাতুব্বরের ছেলে।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, আটিপাড়া গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী ইলিয়াস হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার জাকির সরদারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ইলিয়াস বিদেশে অবস্থান করায়, চাঁন মিয়া মাতুব্বর, যিনি আমেরিকা প্রবাসীর আত্মীয়, জমিজমা দেখভাল করেন। এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির লোকজন নিয়ে শুক্রবার রাতে একা পেয়ে চাঁন মিয়ার ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় কৃষককে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর মামলা হলে শনিবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত জাকির সরদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগী চাঁন মিয়া মাতুব্বর বলেন, ‘জাকির দেশীয় অস্ত্র ও দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। পূর্ব শত্রুতার জেরে এটা করে জাকির। আমি তার এবং তার দলের লোকজনের কঠিন বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ জানান, কৃষকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা জাকির সরদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান

প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী কাউনিয়া মহাশ্মশানে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দীপাবলি। ভূত চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মহাশ্মশান প্রাঙ্গণ এখন প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

শনিবার বিকেলে প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শতবর্ষের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও স্মৃতির আবহে মুখরিত হয়ে উঠেছে বরিশালের এই প্রাচীন মহাশ্মশান।

বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকায় প্রায় ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত এই মহাশ্মশানের ইতিহাস নগরীর পত্তনেরও আগের। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ধনাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় নতুন বাজার এলাকায় প্রথমে মহাশ্মশানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে তা বিস্তৃত হয়ে কাউনিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই শ বছরের প্রাচীন এই মহাশ্মশানে রয়েছে ৭০ হাজারেরও বেশি মঠ। এটি এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান হিসেবে পরিচিত।

১৯২৭ সাল থেকে এই মহাশ্মশানে দীপাবলি উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। কালীপূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়। পূর্বপুরুষ ও প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে ভারত ও নেপালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মানুষ এখানে সমবেত হন।

এদিন প্রিয়জনের সমাধিতে প্রদীপ, মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বজনরা। ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় প্রতিটি সমাধি। কেউ কেউ প্রয়াত ব্যক্তির জীবদ্দশায় পছন্দের খাবারও সঙ্গে নিয়ে আসেন। ইলিশ মাছ, পায়েসসহ নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার সমাধিতে নিবেদন করে তারা আত্মার শান্তি কামনা করেন। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই হাজারো প্রদীপ ও মোমের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মহাশ্মশান চত্বর। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের এক অপূর্ব মিলনমেলা বসে।

এই মহাশ্মশানের রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক গুরুত্বও। এখানে সমাহিত রয়েছেন বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দ দাশ। এ ছাড়া শায়িত রয়েছেন দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, কালিচন্দ্র ঘোষ ও মনোরমা বসুর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বাঙালি রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্মও এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ৮০ বছর পর ২০১২ সালে ভারতের কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে তাঁর চিতাভস্ম এনে এই মহাশ্মশানে স্থাপন করা হয়।

মহাশ্মশানে শায়িতদের স্বজন প্রিয়াংকা নন্দী জানান, প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতিবছর তাঁরা এখানে আসেন। প্রিয়জন জীবিত অবস্থায় যেসব খাবার পছন্দ করতেন, সেসব খাবারও সমাধিতে নিয়ে আসেন তাঁরা।

আরেক দর্শনার্থী অয়ন বিশ্বাস বলেন, ‘শ্মশান দীপাবলির দিন প্রতিটি সমাধিতে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালানো হয়। এর মাধ্যমে আমরা প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করি। প্রতিবছর এই বিশেষ দিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে মহাশ্মশানে আসি এবং প্রিয়জনদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।’

শ্মশান পরিচালনা কমিটির তথ্যমতে, দীপাবলি উপলক্ষে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে এই মহাশ্মশানে। কাউনিয়া মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত জানান, দীপাবলি উপলক্ষে মহাশ্মশানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবারের আয়োজনে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

কাউনিয়া মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি অসীম কুমার দাস মুরালী জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আসা অসংখ্য মানুষের পদচারণায় মহাশ্মশান এলাকা এক উৎসবমুখর রূপ নিয়েছে।

এদিকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুরো মহাশ্মশান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার জানান, শ্মশান দীপাবলির সার্বিক নিরাপত্তায় প্রায় তিন শ পুলিশ সদস্য ও এপিবিএনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। মহাশ্মশানের নির্দিষ্ট পয়েন্টে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় নিয়মিত ফুট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন

একটি ইনিংসে ২৪২ রান। এই রানেই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের বইয়ে নতুন করে অনেক পাতা লেখা হয়েছে। সিলেটের উইকেটে তাওহীদ হৃদয় যেন ব্যাট হাতে একের পর এক সীমারেখা ভেঙেছেন। ২৪২ রানের এই ইনিংসটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠেছে। এটি শুধুমাত্র একটি ডাবল সেঞ্চুরি নয়, বরং একাধিক রেকর্ডের গল্পও বয়ে এনেছে।

১. বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস

২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে হৃদয় বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড নিজের নামে করেছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের, যিনি ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অপরাজিত ২১৯ রান করেছিলেন।

২. প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপান্তর

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে হৃদয় নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছেন। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল মুমিনুল হকের ১৮১ রান।

৩. ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ বাংলাদেশি

হৃদয়ের আগে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। তাদের মধ্যে মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি তিনটি, তামিম ও সাকিবের একটি করে। হৃদয় এখন এই তালিকার চতুর্থ সদস্য।

৪. বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা

হৃদয়ের ১১টি ছক্কা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল তামিম ইকবালের ৭টি। বিশ্ব ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১১ ছক্কা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; টেস্টে সর্বোচ্চ ১২টি ছক্কার রেকর্ড ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সওয়ালের।

৫. বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান

২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় বাউন্ডারি থেকে ১৫৪ রান করেছেন হৃদয়। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের টেস্টের এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এটি সর্বোচ্চ রান। আগের রেকর্ডটি ছিল সাকিব আল হাসানের, যিনি ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৭ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে ১২৪ রান করেছিলেন।

৬. দলের ইনিংসে এক ব্যাটারের সর্বোচ্চ অবদান

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানের মধ্যে হৃদয়ের অবদান ২৪২ রান, অর্থাৎ দলের মোট রানের প্রায় ৬২.৬৯ শতাংশ। পূর্ণাঙ্গ টেস্ট ইনিংসে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ অবদান। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪৩ রানে অলআউট হওয়া ইনিংসে লিটন দাসের ২৫ রান, যা ৫৮.১৩ শতাংশ।

৭. সিলেটের মাঠে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডও এখন হৃদয়ের। এর আগে এই মাঠে সর্বোচ্চ ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান, যা ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হয়েছিল।

৮. ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস

ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও এখন হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২। আগের রেকর্ডটি ছিল মাহমুদউল্লাহর।

৯. অষ্টম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ রানের জুটি

তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রান যোগ করেছেন হৃদয়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অষ্টম উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এই জুটির মাধ্যমে বিপর্যয় সামলে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

১০. শেষ তিন উইকেটে সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট ১৮৪ রানে পড়েছিল, এরপর তারা আরো ২০২ রান যোগ করেছে। শেষ তিন উইকেটে এটিই তাদের সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেষ তিন উইকেটে ১৯৮ রান করেছিল বাংলাদেশ।

১১. টেস্টে এক দিনের সর্বোচ্চ রান

২৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে হৃদয় আরো ২১৩ রান যোগ করেছেন। এটি বাংলাদেশের হয়ে এক দিনের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%