ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাইয়ে ওয়াসিম হত্যা মামলার আসামি এখন চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা


জুলাইয়ে ওয়াসিম হত্যা মামলার আসামি এখন চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার এক আসামি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নাম জিয়া রনি। পুলিশি নথিতে তাকে একেএম জিয়াউদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুই নামে একই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওয়াসিম হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ জুন একেএম জিয়াউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। চলতি বছরের ১৪ মে ঘোষিত এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রকাশিত কমিটির তালিকাতেও জিয়া রনির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২৬ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির রিকশা শোভাযাত্রায় একেএম জিয়াউদ্দিন (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। ওই দিন বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওয়াসিম হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তার মা মোসাম্মৎ জোসনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৮।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন এজাহারভুক্ত আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছিলেন আশরাফ চৌধুরী মুন্না, আরিফ শওকত, সজিব হাসাম ও একেএম জিয়াউদ্দিন (৪৪)। প্রথম তিনজনের নাম এজাহারে থাকলেও জিয়াউদ্দিনের নাম ছিল না। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের চালান নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে জিয়াউদ্দিনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ইশরাক

পরদিন, ২৬ জুন জিয়াউদ্দিনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে তার বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ফরিদারপাড়া এলাকার নজু মিয়া মহলের আবুল কালাম সামশুদ্দিনের ছেলে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একেএম জিয়াউদ্দিন। বাঁ থেকে চতুর্থ। ছবি : সংগৃহীত

মামলার নথিতে ওয়াসিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় আসামিরা সশস্ত্র হামলা চালান। তারা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। একপর্যায়ে আসামিদের ছোড়া গুলি ওয়াসিমের পেটে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউদ্দিনের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে জানা যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক নুরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তদন্তাধীন বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই ফৌজদারি বিবিধ (মিস) মামলা নম্বর ৪৫২৫/২৫-এর আদেশে জিয়াউদ্দিন জামিন পান। পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন।

মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে কারা জামিনে আছেন, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ‘এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের কারা জামিনে আছেন, এ বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। জামিনের কাগজ আমাদের কাছে আসে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৎস্যজীবীদের পদচারণায় মুখরিত সুন্দরবনের দুবলার জেলে পল্লী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


মৎস্যজীবীদের পদচারণায় মুখরিত সুন্দরবনের দুবলার জেলে পল্লী

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান

খুলনা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : সুন্দরবনের দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। মৌসুমের প্রথম চার দিনে সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমানে দুবলার আলোরকোলসহ অন্যান্য তিনটি চর জেলে মৎস্যজীবীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচরের ৮১ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে দুবলা জেলে পল্লী অবস্থিত। দেশের মোট ৮০ শতাংশ শুঁটকি মাছ আহরণ করা হয় দুবলারচর থেকে। সাগর থেকে লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, রুপচাঁদা ও পোয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে শুঁটকিকরণের উদ্দেশ্যে দুবলার চারটি চরে ১০ হাজার জেলে সমবেত হয়েছেন।

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাস ধরে জেলেরা দুবলারচরে অবস্থান করে সাগরে মাছ ধরার কাজ করেন। শুঁটকি আহরণ মৌসুমে এবার জেলে-বহরদারদের জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো এবং বিভিন্ন নিত্যপণ্যের জন্য ১১৬টি দোকান ঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।

দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বাসসকে জানান, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব মাথায় নিয়ে এবারের শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ভালো থাকায় গত চারদিনে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়েছেন। এ বছর ১০ হাজার জেলে দুবলারচর অঞ্চলে এসেছেন।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী মোবাইল ফোনে বলেন, মৌসুমের প্রথম দিনেই আলোরকোলে এসে জেলেদের কেউ তাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরিতে ব্যস্ত এবং কেউ সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। গত চারদিনে সাগরে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়ে খুশী হয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাসসকে জানান, সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটিয়ে জেলেরা গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। তারা মোটেই সময় নষ্ট করতে চাননা। গত ৪ দিনে ধরা মাছ শুঁটকি করার জন্য তাদের বানানো মাচায় বিছিয়ে দিয়েছেন, কেউ মাটিতে ত্রিপলের উপর মেলে দিয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বাসসকে বলেন, দুবলার শুঁটকি পল্লীতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে জেলেদের প্রয়োজনীয় দেশীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাদের আবাসস্থল নির্মাণে সুন্দরবনের কোন গাছপালা ব্যবহার করতে পারবেনা।

তিনি জানান, এ বছর জেলেদের থাকার জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো এবং বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোরকোলে ১শ’ ১০টি, মাঝেরকেল্লায় ২টি, নারিকেলবাড়ীয়ায় ২টি এবং শেলারচরে ২টি দোকান বসবে।

তিনি আরও জানান, এ বছর দুবলারচর থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুবলারচর থেকে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিলো।

মাছ শিকারের আড়ালে কেউ যাতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি শিকারসহ কোনো গাছপালা কাটতে না পারে সে জন্য বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলেও উল্লেখ করেন এ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাঁঠালিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক, কাঁঠালিয়া

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


কাঁঠালিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে 'ফ্যামিলি কার্ড' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর, ২০২৬) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কাঁঠালিয়া উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ মকবুল হোসেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মাঠ পর্যায়ের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, নিবিড় যাচাই-বাছাই এবং আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জনাব মোঃ মকবুল হোসেন বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রকৃত সুফলভোগীদের কাছে সরকারি সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তাই তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও শতভাগ সঠিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কাঁঠালিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দেবনাথ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ১০টি নিয়ম ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানা হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ১০টি নিয়ম ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানা হতে পারে

থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মনোরম সমুদ্রসৈকত, দৃষ্টিনন্দন দ্বীপ, বৌদ্ধ মন্দির, সুস্বাদু খাবার এবং প্রাণবন্ত রাতের জীবনের কারণে প্রতিবছর লাখো পর্যটক দেশটিতে ভিড় করেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য।

তবে থাইল্যান্ডে ভ্রমণের পূর্বে কিছু আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিজের দেশে স্বাভাবিক মনে হওয়া কিছু কাজ থাইল্যান্ডে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, নিষিদ্ধ ই-সিগারেট বহন কিংবা মন্দিরে অনুপযুক্ত পোশাক পরিধান করার কারণে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

এজন্য থাইল্যান্ড ভ্রমণের আগে পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নিয়ম জানা প্রয়োজন।

১. ভিসা ও অবস্থানের মেয়াদ অতিক্রম করবেন না

থাইল্যান্ডে প্রবেশের ভিসার মেয়াদ এবং দেশটিতে থাকার অনুমোদিত সময় এক নয়। প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার দ্বারা পাসপোর্টে উল্লেখিত শেষ তারিখ মেনে চলা আবশ্যক।

অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে প্রতিদিন ৫০০ বাথ জরিমানা হতে পারে, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ ২০ হাজার বাথ। দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে অবস্থান করলে জরিমানার পাশাপাশি এক থেকে ১০ বছর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। গ্রেফতার হলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে।

সুতরাং, পাসপোর্টের প্রবেশ সিল ও থাকার শেষ তারিখ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে আবেদন করা প্রয়োজন।

২. কাস্টমসের নিয়ম না জেনে পণ্য বহন করবেন না

থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ ২০ হাজার বাথ মূল্যমানের পণ্য শুল্কমুক্তভাবে নেওয়া যায়। ২০ বছরের বেশি বয়সি যাত্রীরা সাধারণত সর্বোচ্চ এক লিটার অ্যালকোহল এবং ২০০টি সিগারেট অথবা ২৫০ গ্রাম তামাক বহন করতে পারেন। এই সীমা একাধিক যাত্রীর মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এছাড়া ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা তার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা বহন করলে কাস্টমসে ঘোষণা দিতে হয়। নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত পণ্য থাকলে গ্রিন চ্যানেলের পরিবর্তে রেড চ্যানেল ব্যবহার করে ঘোষণা করা উচিত। মাদক, ই-সিগারেট, অস্ত্র, নকল পণ্য এবং অনুমতি ছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বা বুদ্ধমূর্তি বহনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

৩. প্রেসক্রিপশনের ওষুধেও থাকতে পারে বিধিনিষেধ

নিজ দেশে বৈধ কোনো ওষুধ থাইল্যান্ডে বৈধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোডিন, মরফিন, ফেন্টানিল, মেথাডোনসহ কিছু ওষুধ এবং আলপ্রাজোলাম, ডায়াজেপাম ও জোলপিডেমের মতো নির্দিষ্ট ওষুধের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে।

ওষুধের ধরন ও অবস্থানের সময় অনুযায়ী থাই এফডিএর অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। কিছু নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বহনের জন্য আগাম অনুমোদন নিতে হয়।

তাহলে ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখুন, চিকিৎসকের ইংরেজি প্রেসক্রিপশন সঙ্গে নিন এবং ভ্রমণের আগে থাই এফডিএর নির্দেশনা যাচাই করুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা অন্যের জন্য ওষুধ বহন করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. পাসপোর্টের কপি ও ডিজিটাল ব্যাকআপ রাখুন

থাইল্যান্ডে অবস্থানকালে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রতিদিন ঘোরাঘুরির সময় মূল পাসপোর্ট সঙ্গে রাখলে হারানোর বা চুরির ঝুঁকি থাকে।

তাহলে পাসপোর্টের তথ্যসংবলিত পাতা, ভিসা ও প্রবেশের সিলের ফটোকপি এবং ডিজিটাল কপি রাখুন। হোটেলের ঠিকানা ও জরুরি যোগাযোগের নম্বরও সংরক্ষণ করুন। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা সরকারি কাজে অবশ্য মূল পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

৫. রাজপরিবার নিয়ে মন্তব্যে সতর্ক থাকুন

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটির ফৌজদারি আইনের ১১২ ধারায় রাজা, রানি, উত্তরাধিকারী বা রাজপ্রতিনিধিকে অপমান, মানহানি কিংবা হুমকি দেওয়ার অপরাধে ৩ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট, ছবি বা মন্তব্য করলেও আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই রাজপরিবার নিয়ে বিতর্ক, কটূক্তি বা অসম্মানজনক কনটেন্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। থাই মুদ্রা পায়ে মাড়ানোও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে গণ্য হয়।

৬. মন্দিরে পোশাক ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখুন

থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ মন্দিরগুলো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত পবিত্র স্থান। তাই মন্দিরে প্রবেশের সময় কাঁধ ও হাঁটু ঢাকা পোশাক পরা উচিত। অতিরিক্ত খোলামেলা বা আঁটসাঁট পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকুন।

মন্দিরে জুতা খোলার নিয়ম থাকলে তা মেনে চলুন। উচ্চস্বরে কথা বলা, বুদ্ধমূর্তির সঙ্গে অসম্মানজনক ভঙ্গিতে ছবি তোলা কিংবা মূর্তির ওপর ওঠা থেকে বিরত থাকুন। বসার সময় পায়ের তলা বুদ্ধমূর্তি বা ভিক্ষুদের দিকে রাখবেন না। বিশেষ করে গ্র্যান্ড প্যালেস ও ওয়াট ফ্রা কায়েওতে পোশাকের নিয়ম বেশ কঠোর।

৭. অ্যালকোহল কেনা ও পান করার নিয়ম জানুন

২০২৬ সালের ২৯ মে থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে সাধারণভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ও সুপারমার্কেটে সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অ্যালকোহল কেনা যায়। তবে হোটেল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট এলাকা ও অনুমোদিত বিনোদনকেন্দ্রে আলাদা বিধান থাকতে পারে।

মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, পেট্রল পাম্প ও নির্দিষ্ট গণপরিবহন এলাকায় অ্যালকোহল পান নিষিদ্ধ। বৌদ্ধ ধর্মীয় দিবস ও নির্বাচনের সময়ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।

৮. ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং ডিভাইস সঙ্গে নেবেন না

থাইল্যান্ডে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং পণ্য আমদানি এবং বহনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভ্যাপ পেন, ডিসপোজেবল ই-সিগারেট, ই-লিকুইড, পড ও হিটেড টোব্যাকো ডিভাইসও এর আওতায় পড়তে পারে। নিষিদ্ধ পণ্য বহন বা আমদানির ক্ষেত্রে জব্দ, জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হলেও এসব পণ্য থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

৯. গাঁজা ব্যবহারে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ

২০২২ সালে গাঁজার ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের পর থাইল্যান্ডকে অনেকে অবাধে গাঁজা ব্যবহারের দেশ মনে করেছিলেন। তবে ২০২৫ সালে নীতিতে পরিবর্তন এনে চিকিৎসাভিত্তিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজা ব্যবহার করতে থাইল্যান্ডের অনুমোদিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া গাঁজা কেনা, বহন বা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জনসমক্ষে গাঁজা সেবনের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। নিজের দেশ থেকে গাঁজা বা গাঁজাজাত পণ্য নিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

১০. নির্দিষ্ট সমুদ্রসৈকতে ধূমপান নিষিদ্ধ

থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় অনেক সমুদ্রসৈকতে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ধূমপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফুকেটের পাটং, কাটা ও কারন; পাতায়ার বিচ ও জোমতিয়েন; কোহ সামুইয়ের চাওয়েং ও বোফুটসহ বিভিন্ন সৈকতে নির্দিষ্ট এলাকায় ধূমপান করা যায় না।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক লাখ বাথ জরিমানা, এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা উভয় শাস্তি হতে পারে। কিছু সৈকতে আলাদা ধূমপান অঞ্চল থাকলেও সেখানে যাওয়ার আগে স্থানীয় সাইনবোর্ড ও নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত। বালুতে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলবেন না।

থাইল্যান্ড ভ্রমণের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ভ্রমণ নির্বিঘ্ন রাখতে পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ যাচাই করুন। থাকার শেষ অনুমোদিত তারিখ জেনে নিন। প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও অনুমতি সঙ্গে রাখুন। কাস্টমসের নিয়ম মেনে পণ্য ও নগদ অর্থ বহন করুন। পাশাপাশি পাসপোর্টের কপি, মন্দিরে পরার উপযোগী পোশাক এবং স্থানীয় আইন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখুন।

থাইল্যান্ড ভ্রমণ হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে বিদেশে গেলে নিজের দেশের নিয়ম নয়, গন্তব্য দেশের আইন ও সংস্কৃতিকে সম্মান করাই সবচেয়ে জরুরি। ভ্রমণের আগে বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনে নিলে অপ্রত্যাশিত জরিমানা ও আইনি জটিলতা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে উপভোগ করা যাবে ছুটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি সীমান্তে হুথিদের একাধিক স্থল অভিযান, নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


সৌদি সীমান্তে হুথিদের একাধিক স্থল অভিযান, নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি

ইয়েমেনের বাইরে সংঘাতের পরিধি বৃদ্ধি করে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে একাধিক স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে হুথিরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন চৌকিতে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম ও পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ছোট আকারে এসব অভিযান চালাচ্ছে হুথিরা। গত অক্টোবরের শেষের দিকে অন্তত একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই অভিযান নজরদারি সরঞ্জামের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তার মতে, হুথিরা অভিযান চালিয়ে সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু হালকা আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র সাধারণত সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তবে যদি তথ্যগুলো সত্য হয়, তাহলে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের স্থলপথে অনুপ্রবেশ ও হামলার এটি হবে প্রথম ঘটনা।

২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী শহর ও সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়মিত ঘটত। সে সময় ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে স্থল অভিযানও চালিয়েছিল।

ধাপে ধাপে বাড়ছে হামলার পরিধি

ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং বাশা রিপোর্ট রিস্ক অ্যাডভাইজরির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা জানিয়েছেন, তিনি সৌদি সীমান্তে হুতিদের সামরিক তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, হামলার পরিধি ও তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে গোষ্ঠীটি।

আল-বাশা বলেন, প্রথম পর্যায়ে দূরপাল্লার ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে যুক্ত হয়েছে মর্টার নিক্ষেপে সক্ষম ছোট কোয়াডকপ্টার ড্রোন এবং স্নাইপারদের অভিযান।

তার ধারণা, স্থলপথে হামলায় ফিরে আসা হুথিদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রাথমিক অভিযানগুলো ইয়েমেন যুদ্ধের শুরুর দিকের কৌশলের মতো হতে পারে। সে সময় হুতিযোদ্ধারা আকস্মিক হামলা চালিয়ে জোটের সদস্যদের আটক, অস্ত্র দখল এবং সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস করে দ্রুত সরে পড়ত। আল-বাশা যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সহযোগী ফেলো হিসেবেও কাজ করছেন।

সৌদি সীমান্তে সামরিক সহায়তা বাড়াতে পারে মিত্ররা।

হুতিদের নতুন করে সীমান্ত অভিযান সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহায়তা সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন এক আরব কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা চুক্তির মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতিমধ্যে দেশটিতে সামরিক সদস্য এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। গত সপ্তাহে মিসরের পার্লামেন্টও সৌদি আরবে প্রতিরক্ষামূলক বাহিনী পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি শনিবার জানিয়েছেন, দামেস্কও এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। পশ্চিমা ওই কর্মকর্তার দাবি, সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে সহায়তা করতে সিরিয়ার কয়েকজন ড্রোন বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে ইয়েমেনে পৌঁছেছেন।

ইয়েমেনের ভেতরেও অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা

সৌদি সীমান্তে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে হুথিরা। দেশটিতে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী তাদের অভিযান ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এডেন বন্দরের ৫০ মাইলের মধ্যে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজও ঘিরে রেখেছে তারা।

এর আগে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শত শত বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাও রয়েছে। হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও বাতিল করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি সীমান্তে সাম্প্রতিক স্থল অভিযান দেশটির প্রত্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। বিস্তীর্ণ ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা কঠিন, এসব ঘটনা তা আবারো স্পষ্ট করেছে।

সৌদি ভূখণ্ড নিয়ে হুতিদের পুরোনো দাবি

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে হুতিদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলেও দেশটির মধ্যে উদ্বেগ আছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে পরিচালিত হুতি প্রশাসন মূলত দেশটির অভ্যন্তরেই সামরিক কার্যক্রম চালালেও সৌদি আরবের কয়েকটি ভূখণ্ড নিয়ে তাদের ঐতিহাসিক দাবি রয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির, জাজান ও নাজরান প্রদেশ নিয়ে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ১৯৩৪ সালের তায়েফ চুক্তির মাধ্যমে এসব অঞ্চল সৌদি আরবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

সৌদি সীমান্তের দক্ষিণে ইয়েমেনের সাদা প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় হুতি আন্দোলনের উৎপত্তি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন বদরুদ্দিন আল-হুতির নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে। আন্দোলনটি শিয়া ইসলামের জায়েদি মতাদর্শ অনুসরণ করে। ইয়েমেনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজেদের দলে যুক্ত করলেও সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের হাশেমি বংশোদ্ভূত বলে দাবি করে। এর মাধ্যমে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কের দাবি তুলে ধরে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%