০৯:৪৫ পি.এম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ হওয়া ছাত্রদল নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার এক আসামি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নাম জিয়া রনি। পুলিশি নথিতে তাকে একেএম জিয়াউদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুই নামে একই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ওয়াসিম হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ জুন একেএম জিয়াউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। চলতি বছরের ১৪ মে ঘোষিত এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রকাশিত কমিটির তালিকাতেও জিয়া রনির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৬ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির রিকশা শোভাযাত্রায় একেএম জিয়াউদ্দিন (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। ওই দিন বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওয়াসিম হত্যার ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তার মা মোসাম্মৎ জোসনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৮।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন এজাহারভুক্ত আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছিলেন আশরাফ চৌধুরী মুন্না, আরিফ শওকত, সজিব হাসাম ও একেএম জিয়াউদ্দিন (৪৪)। প্রথম তিনজনের নাম এজাহারে থাকলেও জিয়াউদ্দিনের নাম ছিল না। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের চালান নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদনে জিয়াউদ্দিনকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কনফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ইশরাক
পরদিন, ২৬ জুন জিয়াউদ্দিনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে তার বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার ফরিদারপাড়া এলাকার নজু মিয়া মহলের আবুল কালাম সামশুদ্দিনের ছেলে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একেএম জিয়াউদ্দিন। বাঁ থেকে চতুর্থ। ছবি : সংগৃহীত
মামলার নথিতে ওয়াসিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মুরাদপুরের বারকোড রেস্টুরেন্টের সামনে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় আসামিরা সশস্ত্র হামলা চালান। তারা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। একপর্যায়ে আসামিদের ছোড়া গুলি ওয়াসিমের পেটে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউদ্দিনের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে জানা যায়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক নুরুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তদন্তাধীন বিষয়ে কথা বলতে চাই না।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই ফৌজদারি বিবিধ (মিস) মামলা নম্বর ৪৫২৫/২৫-এর আদেশে জিয়াউদ্দিন জামিন পান। পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে কারা জামিনে আছেন, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন, ‘এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের কারা জামিনে আছেন, এ বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। জামিনের কাগজ আমাদের কাছে আসে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন