প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : সুন্দরবনের দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। মৌসুমের প্রথম চার দিনে সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমানে দুবলার আলোরকোলসহ অন্যান্য তিনটি চর জেলে মৎস্যজীবীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচরের ৮১ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে দুবলা জেলে পল্লী অবস্থিত। দেশের মোট ৮০ শতাংশ শুঁটকি মাছ আহরণ করা হয় দুবলারচর থেকে। সাগর থেকে লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, রুপচাঁদা ও পোয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে শুঁটকিকরণের উদ্দেশ্যে দুবলার চারটি চরে ১০ হাজার জেলে সমবেত হয়েছেন।
অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাস ধরে জেলেরা দুবলারচরে অবস্থান করে সাগরে মাছ ধরার কাজ করেন। শুঁটকি আহরণ মৌসুমে এবার জেলে-বহরদারদের জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো এবং বিভিন্ন নিত্যপণ্যের জন্য ১১৬টি দোকান ঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।
দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বাসসকে জানান, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব মাথায় নিয়ে এবারের শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ভালো থাকায় গত চারদিনে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়েছেন। এ বছর ১০ হাজার জেলে দুবলারচর অঞ্চলে এসেছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী মোবাইল ফোনে বলেন, মৌসুমের প্রথম দিনেই আলোরকোলে এসে জেলেদের কেউ তাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরিতে ব্যস্ত এবং কেউ সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। গত চারদিনে সাগরে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়ে খুশী হয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাসসকে জানান, সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটিয়ে জেলেরা গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। তারা মোটেই সময় নষ্ট করতে চাননা। গত ৪ দিনে ধরা মাছ শুঁটকি করার জন্য তাদের বানানো মাচায় বিছিয়ে দিয়েছেন, কেউ মাটিতে ত্রিপলের উপর মেলে দিয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বাসসকে বলেন, দুবলার শুঁটকি পল্লীতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে জেলেদের প্রয়োজনীয় দেশীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাদের আবাসস্থল নির্মাণে সুন্দরবনের কোন গাছপালা ব্যবহার করতে পারবেনা।
তিনি জানান, এ বছর জেলেদের থাকার জন্য ১ হাজার ১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো এবং বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোরকোলে ১শ’ ১০টি, মাঝেরকেল্লায় ২টি, নারিকেলবাড়ীয়ায় ২টি এবং শেলারচরে ২টি দোকান বসবে।
তিনি আরও জানান, এ বছর দুবলারচর থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুবলারচর থেকে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিলো।
মাছ শিকারের আড়ালে কেউ যাতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণি শিকারসহ কোনো গাছপালা কাটতে না পারে সে জন্য বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন বলেও উল্লেখ করেন এ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন