ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে


পাঁচ দেশের পাসপোর্ট-তুর্কি পরিচয়, কিছুই রক্ষা করল না বেনজীরকে

একসময়কার প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক পরিচয় প্রদান করে এবং পাঁচটি দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সফল হননি। দুবাই পুলিশের কাছ থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য একটি চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারও আনুষ্ঠানিকভাকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে। আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিকতার ইঙ্গিত এসেছে। এই চিঠি চালাচালির প্রক্রিয়ায় দ্রুত বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশের এই অভিযানকে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানগুলোর একটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আইনি জটিলতা দূর করে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদের বিচার সম্পন্ন করা হলে দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির একটি মাইলফলক রচিত হবে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, ‘বিদেশ থেকে অপরাধী ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। সব বাধা দূর করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারলে এটি সরকারের জন্য বড় একটি সাফল্য হবে। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তারা স্পষ্ট বার্তা পাবে যে দুর্নীতি করে বিদেশে পালিয়ে থাকা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। যদি তাঁকে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দিতে সক্ষম হবেন, তাহলে পুলিশ বাহিনীও একটি বার্তা পাবে যে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত রক্ষা পাওয়া যাবে না।’

জানা গিয়েছে, যখন দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি নিজেকে তুরস্কের নাগরিক দাবি করে ওই দেশের পাসপোর্ট দেখান। তবে পরবর্তী নিবিড় তল্লাশির মাধ্যমে তাঁর কাছে ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি দেশের পাসপোর্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পাসপোর্ট এবং পর্তুগালসহ আরো দুটি দেশের পাসপোর্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এর মাধ্যমে ই-মেইলে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে। গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে ফেরত আনার প্রস্তুাব পাঠানোর বিষয়টি সেদিন জানানো হয়।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাই থেকে চিঠি পাওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে বেনজীরকে ফেরত আনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দুবাই পুলিশ ওই প্রস্তাব পাওয়ার পর দ্রুত ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বেনজীর আহমেদ কি না। সেই চিঠির সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তারের নথিপত্র ও ছবিও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার নথি সম্পর্কিত অনেক বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিলম্ব না করে আরবি ভাষায় একটি চিঠি পাঠিয়েছে যার মধ্যে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠানোর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মামলার নথি সহ বেশ কিছু বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে সেই জবাব প্রস্তুত করছে, জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলায় মোট ৭৪ কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে বেনজীর দেশে এবং বিদেশে বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বাণিজ্যিক শেয়ার কিনেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয় লুকিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে দুদকের অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলা বিচারাধীন এবং বাকিগুলো তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ এম


ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, প্রাণ গেল তিন দমকলকর্মীর

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়ছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল বাতাস, যা ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনজুড়ে দাবানলকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের মুখে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

গরমে দক্ষিণ ইউরোপের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঊর্ধ্বে চলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

কিছুদিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ইতালির সিসিলি দ্বীপ। সেখানে দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ছয় হাজার সদস্য, বনরক্ষী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য মারা যাওয়ার খবর ইতালি সরকার জানিয়েছে। পাশাপাশি কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের লে পর্জ এলাকায় দাবানলের মুখে নিরাপদে আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন জুলি লিওনার্দ নামের একজন ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন, বিকেলের মাঝামাঝি সময় আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ ছড়িয়ে পড়েছিল। বোর্দো এলাকার কাছে সমুদ্রতীরবর্তী পাইনবনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার ১০ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।

ফরাসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে লে পর্জের দাবানলে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এখনও কোনো বাড়িঘর ধ্বংস হয়নি এবং হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগের দিন মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি দাবানল নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী নিহত হন।

এদিকে স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এর ফলে সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল দেশটির জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মাদ্রিদের উত্তরে গুয়াদালাহারা প্রদেশে আরো বড় একটি দাবানল নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের শত শত কর্মী কাজ করছেন। এ দাবানলে ইতিমধ্যে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আইইএ’র প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ এম


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি।

বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রতি অর্থনীতির সংবেদনশীলতার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর এর প্রভাব পড়েছে।

গতকাল, বৃহস্পতিবার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার ফলে এসব দেশ সরাসরি সংকটে পড়েছে।

জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমেছে। আইইএ এর পর্যবেক্ষণের দ্বারা জানা যায় যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর দেশের বিদ্যুতের চাহিদা চাপের মধ্যে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার হচ্ছে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৮ শতাংশ বাড়বে। ২০২৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।

এ কারণে, ২০২৭ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে ৩০ হাজার ৭০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২৮ হাজার ৬০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার পর এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে এবং কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা কমিয়েছে, তবে গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আইইএ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-সৌদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


বাংলাদেশ-সৌদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)। এই লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রচার, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসএবিসিসিআই’র একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এসএবিসিসিআই’র সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী।

সাক্ষাৎকালে, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য এসএবিসিসিআই’র বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় তারা সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসএবিসিসিআই’র উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে মন্ত্রণালয়ের নিষ্ঠার সাথে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ‘দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন বাড়াতে হবে।’

শামা ওবায়েদ ইসলাম সৌদি বাজারে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা, সৃজনশীল শিল্প, হস্তশিল্প এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের প্রসারের ওপরেও গুরুত্ব দেন।

সাক্ষাৎ শেষে, এসএবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলায় রাশিয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ এম


সিআইএ স্থাপনায় ইরানের হামলায় রাশিয়ার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ চলাকালে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর একাধিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এসব হামলার পেছনে রাশিয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এক্ষেত্রে একই সঙ্গে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে মস্কো কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল কি না, এই বিষয়টিও তদন্ত করছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন চারটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলেছেন।

সূত্রগুলো জানায়, হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে কার্যকর হামলা, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ এবং ইরানকে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সময় ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সিআইএর স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দারা যে আলাদা তদন্ত করছে, সে তথ্য আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সিআইএর অন্তত দুটি স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। এর একটি ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন। অন্যটি ছিল ইরাকের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পৃথক স্থাপনা।

কয়েকটি সূত্র জানায়, আরও কিছু সিআইএ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে সেগুলোর অবস্থান বা বিস্তারিত তারা প্রকাশ করেনি।

গোয়েন্দা স্মারকে রাশিয়ার ভূমিকার ইঙ্গিত:

উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে রয়টার্স কথা বলেছে। তার কাছে পশ্চিমা একটি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ একটি স্মারক রয়েছে।

তিনি জানান, ওই নথিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে রাশিয়া সম্ভবত ভূমিকা রেখেছে। তবে নথিটি কোন গোয়েন্দা সংস্থা তৈরি করেছে, তা প্রকাশ করেননি তিনি।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবে হামলায় ইরান এমন দুটি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে, যেগুলো রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নত করা হয়েছে।

ওই দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, একটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসের ভবনের বাইরের একটি দুর্বল অংশে আঘাত করে ছিদ্র তৈরি করে। এরপর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই ছিদ্র দিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হননি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বিষয়টি সিআইএর কাছে পাঠিয়ে দেয়। তবে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সৌদি সরকারের কাছেও মন্তব্য জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে তারা কেউই জবাব দেয়নি। সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%