ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য পতিত সরকারের নীতি ও আমদানিনির্ভরতা দায়ী : তিতুমীর


বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য পতিত সরকারের নীতি ও আমদানিনির্ভরতা দায়ী : তিতুমীর

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য পতিত সরকারের ভুল নীতি, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে ব্যর্থতার দায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণকে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন যে, বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সংকটের একটি বড় অংশ অতীতের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ। যদি জনগণ এই পার্থক্য বুঝতে পারে, তাহলে তারা জবাবদিহিতামূলক সরকারের কার্যকারিতা বিচার করতে সক্ষম হবেন।

আজ রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ : আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১১ ডলার ব্যয় হচ্ছে। যদি দেশে পর্যাপ্ত নিজস্ব গ্যাস সরবরাহ ও অনুসন্ধানের সক্ষমতা থাকত, তাহলে এর তুলনায় অনেক কম খরচে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের উন্নয়ন না করা এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তিতুমীর উল্লেখ করেন, অতীতের জ্বালানি নীতির কারণে যে ‘কস্ট অব ইনঅ্যাকশন’ বা সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অর্থনৈতিক ব্যয় তৈরি হয়েছে, তা এখন নিরূপণ করা জরুরি। এর পাশাপাশি ‘কস্ট অব রং ডুইং’ বা ভুল সিদ্ধান্তের ব্যয় এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও জ্বালানি খাতের দায়-দেনার হিসাবও করতে হবে।

আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ‘কস্ট অব ইনঅ্যাকশন’, ‘কস্ট অব রং ডুইং’, পাচার হওয়া অর্থ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর সৃষ্ট ঋণ ও দায়-এই চারটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়, থিংক ট্যাংক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্থের অপব্যবহার ও ভুল নীতির অর্থনৈতিক মূল্য নিরূপণ ছাড়া সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন।

তিনি বলেন, অতীতের স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা, আমদানিনির্ভরতা এবং জ্বালানি খাতে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি না করার নীতির কারণে দেশে একটি অলিগার্কিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল। এর ফলে জনগণের অর্থের অপচয় ও লুটপাটের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধুমাত্র অতীতে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলা করছে না, বরং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন

তিতুমীর বলেন, নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উৎপাদক হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ১৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা অনিয়মের কারণে অতীতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের সামান্য বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে ১২ বাংলাদেশি আটক, ৪৬৬ প্যাকেট কীটনাশক উদ্ধার

তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকে এসব বন্ধ শিল্পে অর্থায়ন শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ সাফল্যের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

তিনি গণমাধ্যমকে এসব পরিসংখ্যান যাচাই করে সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জনযোগ্য হচ্ছে, তা বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। সরকারের প্রথম প্রান্তিকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও অগ্রগতি তুলে ধরা হবে।

আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

তিতুমীর বলেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রাজস্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান-সব ক্ষেত্রেই সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অতীতের ক্ষতি কাটিয়ে একটি জবাবদিহিতামূলক, কার্যকর ও টেকসই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তান সিরিজে ভারত দলে ফিরলেন বুমরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


আফগানিস্তান সিরিজে ভারত দলে ফিরলেন বুমরাহ

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে।

জসপ্রিত বুমরাহ, নিতিশ কুমার রেড্ডি, হার্ষিত রানা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে না পারলেও দলে ফিরেছেন। তারা বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স থেকে ফিটনেস ছাড়পত্র পেলেই খেলতে পারবেন।

দলে আরও ফিরেছেন সঞ্জু স্যামসন, আর্শদিপ সিং, অক্ষর প্যাটেল এবং বরুণ চক্রবর্তী, যারা গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম পেয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন রিঙ্কু সিং, প্রাভসিমরান সিং, হার্শ দুবে, মায়াঙ্ক যাদব, সুরিয়ানশ শেডজে, আশোক শর্মা, প্রিন্স যাদব এবং জশ ঠাকুর।

অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে না পারায় আফগানিস্তান সিরিজে সুযোগ পাননি। ভারত-আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজ আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। পরবর্তী দুটি ম্যাচ যথাক্রমে ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো ম্যাচ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই সিরিজের অফিসিয়াল আয়োজক আফগানিস্তান।

ভারত টি-টোয়েন্টি দল : শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, বৈভব সুরিয়াবংশি, সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান, তিলক ভার্মা, শিভম দুবে, নিতিশ কুমার রেড্ডি, জসপ্রিত বুমরাহ, রবি বিষ্ণোই, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তী, আর্শদিপ সিং, হার্ষিত রানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডকে ‘না’ বলে অস্ট্রেলিয়ার কোচিংয়ে মাইকেল হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


ইংল্যান্ডকে ‘না’ বলে অস্ট্রেলিয়ার কোচিংয়ে মাইকেল হাসি

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি মাইকেল হাসি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) টেস্ট দলের ব্যাটিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৫১ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার পরিবর্তে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সঙ্গে খণ্ডকালীন পরামর্শক হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই তথ্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছে।

গত মাসে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের নতুন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে হাসি আলোচনা করেছিলেন। ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করেছেন তিনি। তবে, ফ্লেমিং এবার হাসিকে নিজের কোচিং প্যানেলে যুক্ত করতে পারেননি।

হাসি নিজের দেশে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাব গ্রহণের পেছনে কাজের নমনীয়তা উল্লেখ করেছেন। খণ্ডকালীন দায়িত্ব গ্রহণের ফলে তিনি দ্য হান্ড্রেড ও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে কোচিংয়ের পাশাপাশি ফক্স স্পোর্টসে ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকের কাজও চালিয়ে যেতে পারবেন।

এ বছর দ্য হান্ড্রেডে ওয়েলশ ফায়ারের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মাইকেল হাসি। ২০১৮ সাল থেকে তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে রয়েছেন।

হাসি এর আগে ইংল্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তবে, টেস্ট দলের পূর্ণকালীন ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব হাসির জন্য তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারত। কারণ, আগামী শীত মৌসুমে ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। এরপর আগামী গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।

হাসি ‘না’ বলার কারণে ইসিবিকে নতুন ব্যাটিং কোচের সন্ধানে যেতে হবে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে অন্তর্বর্তী দায়িত্বে ভালো কাজ করা মার্কাস ট্রেসকথিককে রেখে দেওয়ার বিষয়টি বোর্ডের ভাবনায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একজনকে ঠেকাতে কাটা হলো ১২ বছরের পাইকর গাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


একজনকে ঠেকাতে কাটা হলো ১২ বছরের পাইকর গাছ

রাজশাহী সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গাছ কাটায় প্রশ্ন, বাইরের লোক বসবে কেন উপপরিচালকের

 রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে একজন ব্যক্তিকে গাছের নিচে বসে বাঁশ কাটতে বাধা দিতে প্রায় ১২ বছর বয়সী একটি পাইকর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ছায়াদানকারী বড় গাছটি কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তিকে সরাতে গাছ কাটাই কি একমাত্র সমাধান ছিল?

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখ চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ কাঠা জায়গাজুড়ে এসব চাষাবাদ চলছে। এর পাশেই ছিল পাইকর গাছটি। তবে গাছটির কোনো ডালপালা বা পাতা নেই। কেটে ফেলার পর পড়ে আছে শুধু অবশিষ্ট অংশ।

কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত গাছটির নিচে বসতেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সময় সেখানে তারা বিশ্রাম নিতেন। দাফন কাজে ব্যবহৃত বাঁশ কাটার শ্রমিকরাও গাছটির নিচে বসতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের গাছটির নিচে বসা নিয়ে আপত্তির জেরেই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে কোনো নথি বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবা কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, কমপ্লেক্সের বিভিন্ন খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম। উৎপাদিত সবজির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হলেও অধিকাংশ বাজারে বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই কর্মচারী আরও বলেন, সরকারি জায়গা নিয়ম মেনে কোনো স্থানীয় উদ্যোক্তাকে ইজারা দেওয়া হলে সরকার রাজস্ব পেতে পারত। আবার খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হলেও প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ, দুই দিক থেকেই উপকার পাওয়া সম্ভব ছিল।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গাছটির নিচে স্থানীয় একজন ব্যক্তি জায়গা দখল করে বাঁশ কাটার কাজ করতেন। তাকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শুনতেন না। এ কারণে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।

একজন ব্যক্তিকে সরাতে একটি বড় গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজন হলো কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গাছ কাটার বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের উপপরিচালক মনিরা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরের লোকজন গাছের নিচে বসবে কেন?

বাইরের কেউ অনুমতি ছাড়া সেখানে বসলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া কিংবা থানায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপপরিচালক বলেন, আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই, জেনে জানাব।

এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান চত্বরে থাকা একটি পরিণত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় গাছটির কাটার অনুমোদন ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া গাছটি কাটা হয়ে থাকলে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে, সমাজসেবা কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় চাষাবাদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষাবাদ হয়ে থাকলে এর অনুমোদন কী, উৎপাদিত পণ্য কোথায় যাচ্ছে এবং এ থেকে সরকার বা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজস্ব পাচ্ছে কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সরকার যখন দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি সরকারি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে ছায়াদানকারী গাছ কেটে ফেলার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি গাছ কাটার বিষয়টি শুধু পরিবেশের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং সরকারি জায়গার যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্নও জড়িত। তাই গাছ কাটার অনুমোদন, চাষাবাদ এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ-লবা-য়ু অর্থায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ পি.এম


জ-লবা-য়ু অর্থায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সরকার ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ বা ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (এনসিসিএফ) গঠন করেছে, যা জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনবে।

১ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সহসভাপতি হিসেবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু থাকবেন, এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ কমিটির সমন্বয়ের মুখ্য দায়িত্বে থাকবেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। কমিটি কার্বন ক্রেডিট এবং জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।

প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেবে এই কমিটি। একই সঙ্গে দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে।

নবগঠিত কমিটি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা; বিদ্যমান নীতি-কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ; দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ; অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।

জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি ও কারিগরি কমিটিগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও জাতীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিগত বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনেও কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভা বছরে ন্যূনতম দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটি কার্যকর হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%