বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৬ পি.এম
রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে একজন ব্যক্তিকে গাছের নিচে বসে বাঁশ কাটতে বাধা দিতে প্রায় ১২ বছর বয়সী একটি পাইকর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ছায়াদানকারী বড় গাছটি কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তিকে সরাতে গাছ কাটাই কি একমাত্র সমাধান ছিল?
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ পাশে বেশ কিছু খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখ চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ কাঠা জায়গাজুড়ে এসব চাষাবাদ চলছে। এর পাশেই ছিল পাইকর গাছটি। তবে গাছটির কোনো ডালপালা বা পাতা নেই। কেটে ফেলার পর পড়ে আছে শুধু অবশিষ্ট অংশ।
কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত গাছটির নিচে বসতেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সময় সেখানে তারা বিশ্রাম নিতেন। দাফন কাজে ব্যবহৃত বাঁশ কাটার শ্রমিকরাও গাছটির নিচে বসতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের গাছটির নিচে বসা নিয়ে আপত্তির জেরেই গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। তবে গাছ কাটার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে কোনো নথি বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবা কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, কমপ্লেক্সের বিভিন্ন খালি জায়গায় সবজি, কলা ও আখসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছেন অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম। উৎপাদিত সবজির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হলেও অধিকাংশ বাজারে বিক্রি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মচারী আরও বলেন, সরকারি জায়গা নিয়ম মেনে কোনো স্থানীয় উদ্যোক্তাকে ইজারা দেওয়া হলে সরকার রাজস্ব পেতে পারত। আবার খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হলেও প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ, দুই দিক থেকেই উপকার পাওয়া সম্ভব ছিল।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী মুঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গাছটির নিচে স্থানীয় একজন ব্যক্তি জায়গা দখল করে বাঁশ কাটার কাজ করতেন। তাকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শুনতেন না। এ কারণে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।
একজন ব্যক্তিকে সরাতে একটি বড় গাছ কেটে ফেলার প্রয়োজন হলো কেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
গাছ কাটার বিষয়ে রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের উপপরিচালক মনিরা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাইরের লোকজন গাছের নিচে বসবে কেন?
বাইরের কেউ অনুমতি ছাড়া সেখানে বসলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া কিংবা থানায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপপরিচালক বলেন, আসলে বিষয়টি আমার জানা নেই, জেনে জানাব।
এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান চত্বরে থাকা একটি পরিণত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় গাছটির কাটার অনুমোদন ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া গাছটি কাটা হয়ে থাকলে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।
অন্যদিকে, সমাজসেবা কমপ্লেক্সের খালি জায়গায় চাষাবাদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চাষাবাদ হয়ে থাকলে এর অনুমোদন কী, উৎপাদিত পণ্য কোথায় যাচ্ছে এবং এ থেকে সরকার বা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজস্ব পাচ্ছে কি না, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সরকার যখন দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন একটি সরকারি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের চত্বরে ছায়াদানকারী গাছ কেটে ফেলার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি গাছ কাটার বিষয়টি শুধু পরিবেশের ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা এবং সরকারি জায়গার যথাযথ ব্যবহারের প্রশ্নও জড়িত। তাই গাছ কাটার অনুমোদন, চাষাবাদ এবং পুরো ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ২৫ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ বা ন্যাশনাল কমিটি অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স (এনসিসিএফ) গঠন করেছে, যা জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট ও কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনবে।
১ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সহসভাপতি হিসেবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু থাকবেন, এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ কমিটির সমন্বয়ের মুখ্য দায়িত্বে থাকবেন। প্রজ্ঞাপনে তাকে কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। কমিটি কার্বন ক্রেডিট এবং জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেবে এই কমিটি। একই সঙ্গে দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে।
নবগঠিত কমিটি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা; বিদ্যমান নীতি-কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ; দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ; অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।
জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি ও কারিগরি কমিটিগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্বও জাতীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিগত বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনেও কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির সভা বছরে ন্যূনতম দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটি কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিথ্যা তথ্য শনাক্তের উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ বিষয়টি জানানো হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার লক্ষ্যে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ স্থায়ীভাবে কার্যরত রয়েছে। এ কমিটির নির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করে থাকে।
অপতথ্য ও গুজব দ্রুত শনাক্ত করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসংবলিত সরকারি ‘ফ্যাক্টচেক’ বার্তা এবং স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি তথ্য অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলোর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
লিখিত জবাবে আরও বলা হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৩০৬টি প্রতিবেদন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর করা হয়েছে।
এছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগ ১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে মোট ৭৩৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ে ১৪টি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এসব প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। গত দুই বছরে পিআইবি আয়োজিত প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। এ ছাড়া সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রচারণা ও অপতথ্য প্রচার করে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায় এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস তার দায়িত্ব গ্রহণের পর একটি বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, ১৫ বছর ধরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা টিম কুক এখন নতুন ভূমিকায় যাচ্ছেন।
অ্যাপল কর্তৃপক্ষ টার্নাস ও কুকের পারিশ্রমিকের তথ্য প্রকাশ করেছে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টার্নাসের লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক মোট পারিশ্রমিক ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার হবে।
ভারতীয় মুদ্রায় এই পরিমাণ প্রায় ৫৫১ কোটি রুপি। তবে উল্লেখ্য, এই অর্থ পুরোটা বেতন নয়, বরং এতে মূল বেতন ও শেয়ার পুরস্কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের বার্ষিক মূল বেতন ৩০ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে
এছাড়া, ২০২৭ অর্থবছরে তিনি প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার পাবেন। এই শেয়ার পুরস্কারের ৭৫ শতাংশ কর্মদক্ষতাভিত্তিক হবে, অর্থাৎ অ্যাপলের শেয়ার পারফরম্যান্স এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কেমন করছে, তার ওপর এটি নির্ভর করবে।
বাকি ২৫ শতাংশ হবে সময়ভিত্তিক সীমিত শেয়ার ইউনিট বা RSU, যা চার বছরের মধ্যে প্রতি ছয় মাসে নির্দিষ্ট অংশ করে প্রদান করা হবে।
এছাড়া, ২০২৬ অর্থবছরে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের জন্য টার্নাসকে প্রায় ২৫ লাখ ডলার মূল্যের প্রোরেটেড RSU দেওয়া হচ্ছে।
টিম কুক সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে বিদায় নিচ্ছেন না। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন পদে কুকের বার্ষিক মূল বেতন হবে ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
সিইও হিসেবে কুকের মূল বেতন ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফলে, তার মূল বেতন কমেছে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এছাড়া, ২০২৭ অর্থবছরে কুক পাবেন প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের শেয়ার পুরস্কার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে, তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক পারিশ্রমিক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
২০২৫ সালে সিইও হিসেবে কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছিল ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বেতন, ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কর্মদক্ষতাভিত্তিক নগদ পুরস্কার এবং প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ৭০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার।
নতুন দায়িত্বে তার লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক প্যাকেজ ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের মোট পারিশ্রমিকের তুলনায় এটি প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার কম। তবে, দুই বছরের পারিশ্রমিক কাঠামো পুরোপুরি এক নয়, তাই এটিকে সরাসরি বেতন কমার হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
এর মূল কারণ হলো কুক ও টার্নাসের দায়িত্বের পরিবর্তন। টার্নাস এখন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পুরো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে, কুক এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে কৌশলগত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
কুকের নতুন শেয়ার পুরস্কারের ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতাভিত্তিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ সময়ভিত্তিক। এই শেয়ারগুলোও চার বছর ধরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
জন টার্নাসের হাতে অ্যাপলের সিইওর দায়িত্ব যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। এই শতকে এটি অ্যাপলের মাত্র দ্বিতীয় সিইও পরিবর্তন। ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে সিইওর দায়িত্ব নিয়েছিলেন টিম কুক। প্রায় ১৫ বছর অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার তিনি নতুন ভূমিকায় গেলেন।
এদিকে, নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের সামনে রয়েছে এআই, নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ পণ্য নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার নেতৃত্বে অ্যাপল কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আজ বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে- মতিঝিল থানায় তিন জন, পল্টন মডেল থানায় নয় জন, সবুজবাগ থানায় তিন জন, খিলগাঁও থানায় ১২ জন, রামপুরা থানায় তিন জন, শাহজাহানপুর থানায় তিন জন এবং মুগদা থানায় নয় জন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ