মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:০০ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দূরত্ব চার হাজার মাইলের বেশি। সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় রয়েছে বিস্তর ফারাক। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন দেশ দুটির পতাকা স্ব-গৌরবে ওড়ে, তখন দুদেশের পতাকার মাঝখানের সাদৃশ্য সবার চোখে ধরা পড়ে। একটি পতাকার পটভূমি শান্ত সাদা, অন্যটির সতেজ গাঢ় সবুজ। তবে উভয়ের বুকেই টকটকে লাল বৃত্ত।
বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকার দৃশ্যত নকশা কাছাকাছি মনে হলেও, এই দুই পতাকার রঙের ভাষা ও পেছনের গল্পে লুকিয়ে আছে নিজ নিজ জাতির আত্মত্যাগ, পুনর্জন্ম ও বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস।
জাপানের জাতীয় পতাকাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘হিনোমারু’ (Hinomaru), যার অর্থ ‘সূর্যের বৃত্ত’। এর সাদা পটভূমি জাপানি সংস্কৃতির সততা, পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। মাঝের লাল বৃত্তটি প্রতিনিধিত্ব করে উদীয়মান সূর্যের। প্রাচীনকাল থেকেই জাপান ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত, আর তাদের জাতীয় পতাকা সেই পরিচয়েরই ঐতিহাসিক ধারক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পতাকার গাঢ় সবুজ পটভূমি এদেশের গ্রাম বাংলার চিরসবুজ প্রকৃতি, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস এবং নবীন প্রাণের শক্তির প্রতীক। আর মাঝের লাল বৃত্তটি নির্দেশ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লাখো শহীদের তাজা রক্ত এবং পরাধীনতার অন্ধকার ভেদ করে উদিত হওয়া স্বাধীনতার নতুন সূর্যকে। জাপানের লাল বৃত্ত যেখানে শান্তির বুকে উদীয়মান সূর্য, বাংলাদেশের লাল বৃত্ত সেখানে রক্তস্নাত স্বাধীনতার প্রতীক।
এক পলকে দেখতে প্রায় অভিন্ন লাগলেও, দুই দেশের পতাকার নকশায় একটি সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণ জ্যামিতিক পার্থক্য রয়েছে। জাপানের পতাকার লাল বৃত্তটি পতাকার একেবারে কেন্দ্রস্থলে (মাঝখানে) অবস্থিত। কিন্তু বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তটি ঠিক মাঝখানে নয়, বরং পতাকাদণ্ডের (বাঁ দিকে) দিকে সামান্য সরানো থাকে। এর পেছনে একটি ব্যবহারিক ও দৃষ্টিগত কারণ রয়েছে— পতাকা যখন পতাকাদণ্ডে বেঁধে ওড়ানো হয় এবং তা বাতাসে উড়তে থাকে, তখন লাল বৃত্তটিকে যেন ঠিক মাঝখানেই দেখা যায়, সে জন্যই এই অফসেট বা সরানো নকশাটি করা হয়।
সর্বোপরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে জাপান যেমন বিশ্বের বুকে নিজের শক্তিমত্তার নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছিল, তেমনি নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের পর বাংলাদেশ ছিনিয়ে এনেছিল মহান স্বাধীনতা। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব ছাপিয়ে দুই দেশের পতাকার ‘লাল বৃত্ত’ কেবল কাকতালীয় নকশা নয়, বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার প্রতীক। দুদেশের পতাকার অদ্ভুত মিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় আবুধাবিতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ‘এমিরেটস ইন্টারন্যাশনাল কোরআন অ্যাওয়ার্ড’-এর চূড়ান্ত পর্ব। এই প্রতিযোগিতাটি দেশটির জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে পবিত্র কোরআনের হাফেজ, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং কোরআনের সেবায় অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
জেনারেল অথরিটি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, এনডাউমেন্টস অ্যান্ড জাকাতের চেয়ারম্যান ড. ওমর হাবতুর আল দারঈ জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া চূড়ান্ত পর্বটি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই পর্বের ধারাবাহিকতা। এই পর্যায়ে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শীর্ষস্থানীয় কারিদের অংশগ্রহণ, স্বীকৃত কিরাতের দক্ষতা যাচাই, সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ, সুমধুর তিলাওয়াতের প্রতিভা অন্বেষণ এবং আমিরাতের তরুণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
আল দারঈ আরও জানান, প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা পবিত্র কোরআনের সেবা, এর শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রচার এবং দেশি-বিদেশি হাফেজদের সম্মানিত করার প্রতি আমিরাতের নেতৃত্বের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের আদর্শ অনুসরণ করে এ উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দেশে ও দেশের বাইরে কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোরআনের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। স্থানীয় বিভিন্ন বিভাগে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪৬৪ জন প্রতিযোগী। প্রাথমিক মূল্যায়নের ধাপ পেরিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮৯ জন চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১১২ জন প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ২৭টি দেশ থেকে ধর্মীয় ও কোরআনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের ভিত্তিতে এসব আবেদন জমা পড়ে। নির্ধারিত মানদণ্ড ও শর্ত পূরণ করে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১ জন আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে বিশেষায়িত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্বাচন করা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক প্যানেলের ৮০ শতাংশ সদস্যই আমিরাতি নারী। কোরআন শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিষয়টিও এ উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আল দারঈ আরো বলেন, আমিরাতের কোরআনভিত্তিক প্রতিভা বিকাশ, পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে পাঠ ও মুখস্থ করার চর্চা জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে কোরআন শিক্ষার প্রসারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মো. আজিম (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ পুলিশ কর্তৃক ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে।
মরদেহটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমোড়া গ্রামের ‘বড় পুকুর’ এলাকার একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত যুবকের নাম আজিম, যিনি ওই গ্রামের আলী আজগর মিয়ার পুত্র। আটক রফিকুল ইসলাম একই গ্রামের হাসেম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, আজিম ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার দিন ভোরে রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল।
সোমবার রাতে রফিকুলের বাড়ির সামনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে আজিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা সিরিজ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর নতুন ছবি ‘সানরাইজ অন দ্য রিপিং’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দর্শকদের সুবিধার্থে, আনুষ্ঠানিক মুক্তির দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১৮ নভেম্বর ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সিনেমাটি ২০ নভেম্বর থেকে দেখার সুযোগ মিলবে, তবে এর টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৮ অক্টোবর থেকে।
নতুন এই প্রিক্যুয়েলটি মূল ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ গল্পের ২৪ বছর আগে ঘটছে। সুজান কলিন্সের লেখা উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত এই সিনেমায় ৫০তম হাঙ্গার গেমসের নির্মম প্রতিযোগিতার কাহিনী তুলে ধরা হবে। ভক্তদের প্রিয় চরিত্র হেইমিচ অ্যাবারনাথির মাত্র ১৬ বছর বয়সে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন লড়াই এবং প্রেসিডেন্ট স্নোর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের গল্প এতে উঠে আসবে। এই গেমসে প্রতিযোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায়, বেঁচে থাকার লড়াইটি আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ফ্রান্সিস লরেন্স। তরুণ হেইমিচের চরিত্রে জোসেফ জাদা এবং মেসিলি ডনারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাকেনা গ্রেস। এছাড়া এতে রয়েছেন র্যালফ ফিনেস, জেসি প্লেমনস, গ্লেন ক্লোজ, কিয়েরা কালকিন ও এল ফ্যানিংয়ের মতো তারকারা। সিনেমাটির সহিংস দৃশ্য ও অ্যাকশনের জন্য পিজি-১৩ রেটিং দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ভক্তদের জন্য এই নতুন সিনেমাটি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যখন একটি গাড়ির পূর্ণাঙ্গ রূপ সবার সামনে উন্মোচিত হয়, তখন এর পেছনের প্রকৌশলগত উদ্ভাবন ও গবেষণার কাহিনী অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। বিশ্বখ্যাত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার নতুন রোডস্টার মডেলের আন্ডারবডি তৈরির প্রকৌশলগত কাজে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্নশিপ করার সময় তিনি গাড়িটির আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব পালন করেন। তিন বছর পর সেই গাড়ির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এই প্রকৌশলী।
গাড়ি নির্মাণশিল্পে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিল প্রকৌশলগত হিসাবনিকাশ থাকে। একটি গাড়ির বাহ্যিক নকশা যতটা আলোচনায় আসে, এর কাঠামো তৈরির পেছনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো ততটা দৃশ্যমান হয় না। টেসলার রোডস্টার তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেই অদৃশ্য কর্মপ্রক্রিয়ার একটি অংশ সামনে এনেছেন তারেক সরোয়ার।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী ২০২৩ সালে টেসলায় ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান। সে সময় রোডস্টারের নতুন মডেলের আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ছিল তার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া ফল পরবর্তী সময়ে যন্ত্রাংশটির চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে টেসলার উদ্ভাবন
একটি গাড়ির আন্ডারবডি তার কাঠামোগত দৃঢ়তা ও সামগ্রিক কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতিতে এ ধরনের কাঠামো তৈরি করতে একাধিক ধাতব পাত ও যন্ত্রাংশ জোড়া দিতে হয়। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে আলাদা কাজ করতে হয় এবং একাধিক যন্ত্রাংশের সমন্বয় নিশ্চিত করতে হয়।
টেসলা এই প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পুরো আন্ডারবডিকে একটি মাত্র যন্ত্রাংশ হিসেবে তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও কার্যকর করা এবং গাড়ির কাঠামো নির্মাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সহজ ছিল না। এত বড় একটি কাঠামো একবারে ঢালাই করে তৈরি করতে হলে উপাদানের বৈশিষ্ট্য, ঢালাই প্রক্রিয়া এবং তৈরি হওয়া যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব—সবকিছুই নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সামান্য ত্রুটিও যন্ত্রাংশটির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ও বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ
তারেক সরোয়ারের বর্ণনা অনুযায়ী, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেসলা বিশেষ ধরনের অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত একটিমাত্র যন্ত্রাংশ হিসেবে আন্ডারবডি ঢালাই করার প্রক্রিয়া আয়ত্তে আনে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তারেক প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একটি করে যন্ত্রাংশ তৈরির কথা উল্লেখ করেছেন। উত্তর আমেরিকায় এত বড় একটি যন্ত্রাংশ একবারে ঢালাই করার আর কোনো উদাহরণ তার জানা নেই বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন তিনি। একটি মাত্র যন্ত্রাংশে বড় কাঠামো তৈরি করার ধারণা বাস্তবায়নে উপযুক্ত উপাদান নির্বাচন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধু বড় আকারের একটি যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারলেই প্রকৌশলগত সাফল্য আসে না; সেটিকে নির্ধারিত মান বজায় রেখে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্ডারবডির স্থায়িত্ব যাচাইয়ে তারেকের ভূমিকা
প্রকল্পটিতে তারেক সরোয়ারের কাজের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন তীব্র আবহাওয়ায় আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করা। একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরিবেশে ব্যবহৃত হলে এর উপাদানের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্ষমতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা বোঝার জন্য এ ধরনের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
বিশেষ করে ধাতব যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এর স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা মূল্যায়ন করতে হয়। নকশা চূড়ান্ত করার আগে এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা পাওয়া গেলে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সহজ হয়। ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ধাতব পদার্থের গঠন, বৈশিষ্ট্য, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করা হয়। গাড়ি নির্মাণের মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে এ জ্ঞানের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেকের দায়িত্বও ছিল সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ করা। তার কাজের ফলাফল পরবর্তী সময়ে যন্ত্রাংশটির চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এই মূল্যায়নের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
তিন বছর পর পূর্ণাঙ্গ গাড়ি দেখে ফিরে দেখা
২০২৩ সালে টেসলায় কাজ করার সময় রোডস্টারের যে প্রকৌশলগত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারেক সরোয়ার, তিন বছর পর সেই গাড়ির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখতে পাওয়া তার জন্য ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে কাজ করার সময় চূড়ান্ত পণ্যটি কেমন হবে, তা পুরোপুরি উপলব্ধি করা সবসময় সম্ভব হয় না। পরে সেই কাজের বাস্তব রূপ সামনে এলে নিজের অবদানের সঙ্গে চূড়ান্ত পণ্যের যোগসূত্র নতুনভাবে অনুভব করা যায়। তারেকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উঠে এসেছে এমনই এক অভিজ্ঞতা, যেখানে একটি গাড়ির দৃশ্যমান নকশার আড়ালে থাকা প্রকৌশলগত কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার স্মৃতি রয়েছে। প্রযুক্তির জগতে বড় কোনো উদ্ভাবন সাধারণত একজনের একক প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয় না। এর পেছনে থাকে বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী ও গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উপাদান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং অসংখ্য কারিগরি সিদ্ধান্ত। একটি যন্ত্রাংশের নকশা তৈরি থেকে শুরু করে সেটিকে বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। টেসলার রোডস্টার প্রকল্পে তারেক সরোয়ারের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। বুয়েটে অর্জিত প্রকৌশলজ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন তার পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়, তেমনি এটি আধুনিক গাড়ি নির্মাণে উপাদানবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্লেষণের গুরুত্বও তুলে ধরে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ