০৬:২০ এম
ঘুমের মধ্যে কথা বলা কেন ঘটে তা অনেক মানুষের পরিচিত অভিজ্ঞতা। কিছু মানুষ বিড়বিড় করেন, আবার কেউ স্পষ্ট বাক্য বলেন এবং অনেক সময়ে হাসিও করে। অনেকের মধ্যে ধারণা আছে যে, ঘুমের মধ্যে বলা কথাগুলো মনের গভীরে লুকানো গোপন সত্য অথবা অব্যক্ত ইচ্ছার প্রকাশ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন।
ঘুমের মধ্যে কথা বলা কোনো ধরনের রোগ নয়, বরং এটি মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক আচরণ। যদিও এটি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কিন্তু যেকোনো বয়সের মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মধ্যে কথা বলাকে 'সোমনিলোকুই' বলা হয়। এটি ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটে। মাঝে মাঝে পুরো বাক্য, কখনও অস্পষ্ট শব্দ এবং কখনও হাসি বা চিৎকারের মতো শব্দ শোনা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলেন এবং শিশুদের মধ্যে এই হার আরো বেশি, প্রায় অর্ধেক শিশু ঘুমের মধ্যে কথা বলে।
আমেরিকান ঘুমবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ জেনিফার মার্টিনের মতে, বেশিরভাগ শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও এটি ফিরে আসতে পারে।
অনেকে বিশ্বাস করেন, ঘুমের মধ্যে কথা বললে মনের গোপন কথাগুলো বেরিয়ে আসে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
বিজ্ঞানী গবেষকদের মতে, ঘুমের মধ্যে বলা কথাগুলোর বেশিরভাগই অসংলগ্ন এবং এর সাথে বাস্তব জীবনের গোপন সত্যের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুন: ডিকশনারি ডটকমের বর্ষসেরা শব্দ ‘ম্যাক্সিং’, জনপ্রিয় হলো কিভাবে
একটি গবেষণায় জানা গেছে, ঘুমের মধ্যে বলা প্রায় অর্ধেক কথাই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না এবং গবেষণায় রেকর্ড করা কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ হলো 'না'।
শিশুদের মধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বলার প্রবণতা বেশি কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মস্তিষ্ক তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে এবং ঘুমের বিভিন্ন ধাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াও তখন সম্পূর্ণ পরিণত হয় না। এর জন্য শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এর কারণ কী? গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমের মধ্যে কথা বলার পেছনে বংশগত কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় একই পরিবারের একজনের মধ্যে এই অভ্যাস দেখা যায়।
এছাড়া কিছু ঘুমজনিত সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে, বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ব্যক্তির ঘুমের ব্যাঘাত অথবা অন্যান্য ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: প্রেম খুঁজতে ফিনল্যান্ডে বিনা খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন কারা?
গবেষকরা জানান, ঘুমের মধ্যে বলা কথাগুলো কখনও কখনও স্মৃতির অংশ হতে পারে, যা ঘুমানোর সময় মস্তিষ্ক প্রক্রিয়াকরণ করে।
অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যে উচ্চারিত শব্দ বা বাক্য সব সময় সচেতন চিন্তা অথবা ইচ্ছার প্রতিফলন নয়। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
এটা কি উদ্বেগের কারণ? বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে কথা বলা ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু একই বিছানায় বা পাশের মানুষের জন্য এটি কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে।
জেনিফার মার্টিনের পরামর্শ হলো, কেউ ঘুমের মধ্যে কথা বলতে শুরু করলে তাকে আলতোভাবে স্পর্শ বা হালকা ধাক্কা দিলে অনেক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইলন মাস্কের সাফল্য নিয়ে ৮টি অনুপ্রেরণামূলক উক্তি
তাহলে ঘুমের মধ্যে কথা বললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা সাধারণত মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক আচরণ, যা সাধারণত গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন