মোঃ হুমায়ন কবির গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
০৪:৪৬ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসরত গর্ভবতী মায়েদের ভাতা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বিশেষ আবেদন সংগ্রহ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে নগর ভবন চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ক্যাম্পেইন উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন নগর ভবন চত্বরে স্থাপিত বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেবাগ্রহীতা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের কল্যাণে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম আঞ্জুমান আরা বেগম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক ইশরাত জাহান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোঃ সাদিক আলী এবং মনিটরিং অ্যাসিস্ট্যান্ট সুমাইয়া হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাজশাহীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিশেষ ক্যাম্পেইন ১০ ও ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় নগরীর ১৬ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসরত গর্ভবতী মায়েদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নতুন উপকারভোগী অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ১৭ বছরের একটি সময়কালে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে বিমান চালানোর অপরাধে কানাডার বিমান সংস্থা 'এয়ার কানাডা'-এর এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়ে গিয়ে গত মঙ্গলবার (২ জুন) তাকে গ্রেপ্তার করে কানাডীয় পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই বা কোনো বাধ্যতামূলক পরীক্ষা সম্পন্ন না করে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি, যার নাম জেফরি ওয়াল।
অন্টারিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ মন্তব্য করেন, 'এই তদন্ত এবং এর চারপাশের বিবরণগুলো একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো শোনায়। ওয়াল পাইলট ইন কমান্ড পদে উন্নীত হয়েছিলেন যেখানে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ বিমান উড়িয়েছেন এবং প্রায় ৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি) বেতন নিয়েছেন।'
এটি যেন ২০০২ সালের বিখ্যাত হলিউড সিনেমা 'ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান'-এর বাস্তব রূপ, যেখানে এক কিশোর মিথ্যা পরিচয়ে প্যানআম বিমান সংস্থার পাইলট সেজেছিল।
জেফরি ওয়াল এয়ার কানাডায় ২৭ বছর চাকরি করেছেন এবং তার কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৯ সালে যখন তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন, তখন তার যে 'এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স' বা এটিপিএল-এ থাকার প্রয়োজন ছিল, তা তিনি কখনোই ধারণ করেননি।
ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ বলেন, 'এটি অনেকটা এমন একজন ডাক্তারের মতো, যার পারিবারিক চিকিৎসা (ফ্যামিলি মেডিসিন) দেওয়ার লাইসেন্স রয়েছে কিন্তু তিনি নিজের চেম্বারে ব্রেন সার্জারি করছেন। পেশাদার উপাধির জন্য অতিরিক্ত প্রয়োজনীয়তা ও নিয়মকানুন রয়েছে এবং তা কোনো না কোনো কারণেই বিদ্যমান।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নিয়োগকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা উভয়ের কাছে তার যোগ্যতার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনা করেছিলেন।'
২০২৫ সালে পাইলটের নথিপত্র নিয়মিত যাচাই করার সময় জেফরি ওয়ালের লাইসেন্সে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দেয়। পরবর্তীতে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায়। তবে এই তদন্ত এবং 'প্রজেক্ট ইকারুস' নামের ফৌজদারি অভিযান গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার আগেই ২০২৫ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন জেফরি।
এ বিষয়ে সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানায়, 'এই ঘটনার কারণে নিরাপত্তার কোনো আপস করা হয়নি, কারণ এয়ার কানাডার সব পাইলটকে তাদের উড়ন্ত দক্ষতা যাচাই করার জন্য প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়, যার মধ্যে প্রতি ১২ মাসে একজন প্রত্যয়িত 'ট্রান্সপোর্ট কানাডা' চেক-পাইলটের সঙ্গে ফ্লাইট চেক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে উপযুক্ত লাইসেন্সিং বিমান শিল্পের বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, সুতরাং এয়ার কানাডা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।'
ইতিমধ্যে 'ট্রান্সপোর্ট কানাডা' জেফরি ওয়ালকে জরিমানা করেছে। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে ৫ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতি, জালিয়াতি করা নথিপত্র ব্যবহার এবং নকল সিল বা মার্ক রাখার অভিযোগসহ মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুন তার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োজিত আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বুধবার (১০ জুন) বিকেল তিনটায় কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনের আলোচনা চলছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনটি পরিচালনা করছেন।
আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয় নিয়ে একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কি সেই নির্দেশনাগুলো জানাবেন?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জবাব দেন যে, জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধন ও অন্যান্য কার্যক্রমে প্রশাসনিক কার্যক্রমের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগে হাত দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
এছাড়া, আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সরকারি সেবা প্রদানকে হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বুধবার (১০ জুন) দুপুরে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসলে সরকার দেড় শতাংশ কমিশন দিবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের শূন্য পদগুলোয় যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। একইসাথে, প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে চায় সরকার।
তিনি জানান, সেবাপ্রদান ব্যবস্থাকে আরও বেশি ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক দফতরে সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জনগণের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার তৎপর বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, সংসদীয় নেতা বলেছেন, সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রশ্নে দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাসী সরকার। সুতরাং, সরকার দলীয় সদস্যরা নিজ আসনের যেভাবে উন্নয়ন তদারকি করবেন, বিরোধী দলের সদস্যরাও সমসুযোগ ও বরাদ্দ পাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ