সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের নতুন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইরানের রাজধানী তেহরানে সফর করছেন। চরম আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে, তিনি তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছান।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং চলমান যৌথ পদক্ষেপগুলোর সমন্বয় সাধন।
পাকিস্তান শুরু থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর জন্য মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, নকভি এর আগে একাধিকবার তেহরান সফর করেছেন।
গত জুন মাসে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও পরবর্তীতে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী'তে অবাধ নৌ চলাচলের অধিকার নিয়ে দু'দেশের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ায় আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, যেকোনো সময় নতুন করে মার্কিন হামলা বা সামরিক সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আকস্মিক তেহরান সফর কূটনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে পূর্বশত্রুতার জেরে নিহত বৃদ্ধ ইসাহাক সরদার (৭৫) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দি এলাকায় নিহতের বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর জনারদন্দি গ্রামের ইসাহাক সরদারের সঙ্গে একই এলাকার ঝালু মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২২ আগস্ট রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঝালু মোল্লা, তুহিন মোল্লা, পারভেজ মোল্লাসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কালকিনি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি তুহিন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার অন্য আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বড় মেয়ে ফাহিমা বেগম, ছোট মেয়ে নাহিদা আক্তার, ভাতিজা আলাউদ্দিন সরদার, মামাতো বোন জেসমিন রহমান, ভাতিজা আনোয়ার হোসেন ও রাসেল সরদারসহ স্বজনরা বক্তব্য দেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে আনা ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বকশীগঞ্জ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে একটি অটোরিকশা থেকে এসব সার জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি অটোরিকশায় করে ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার পরিবহন করা হচ্ছিল। এ সময় অটোরিকশাটি থামিয়ে সারগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে চালক মো. মিল্লাত হোসেন জানান, তিনি যাত্রী নিয়ে পাশের শ্রীবরদী উপজেলায় গিয়েছিলেন। পরে তাহের নামে এক সার ব্যবসায়ী তাকে এসব সার বকশীগঞ্জের গোপালপুর বাজারে পৌঁছে দিতে বলেন। এর বিনিময়ে তাকে ৭০০ টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা ছিল।
অভিযানের পর জব্দ করা সারগুলো বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার কৃষি অফিসের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা বলেন, “সারগুলো যেহেতু অবৈধভাবে বকশীগঞ্জে প্রবেশ করেছে, তাই এগুলো কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে মিরসরাই উপজেলার ১১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সাকিব চৌধুরী (দৈনিক সরজমিন বার্তা) মনোনীত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্ব প্রাপ্তরা হলেন— সহ-সভাপতি আবু শাহাদাত নয়ন (মুভি বাংলা টেলিভিশন), সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (মাই টিভি), সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মিয়া (সংবাদ দিগন্ত), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত হোসেন (আমার বার্তা), প্রচার সম্পাদক জহির খান (এসটি বাংলা টিভি), অর্থ সম্পাদক তানভীর হোসেন (সাপ্তাহিক নিরর্বিক), দপ্তর সম্পাদক সুজিত বণিক (প্রাইম টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন (দৈনিক গণকণ্ঠ) এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ মেহেদী হাসান (এসটি বাংলা টিভি)।
সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত এ কমিটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এই মামলা মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর করা হয়। বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তিনি।
পুলিশ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এরপর রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
মামলার এজাহারে এস এম মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুন মাসে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় মরিয়ম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ন্যাম ভবনের ৫নং বিল্ডিং এর ৩য় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় মরিয়মের গাজী নজরুলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে মোবাইলে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখেন সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত। এরপর তিনি জানতে পারেন, মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি তার মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় বিছানার উপর একটি সুসাইড নোটও পাওয়া যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
গত জুলাই মাসে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার পর ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২নং ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ও মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ