ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে উপসাগরীয় দেশগুলো


ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরান ও তার সহযোগীদের হামলার ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন এবং কুয়েতে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও এসব দেশের প্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অমিল রয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও বন্দরেও হামলার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য তুলে ধরেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হওয়ার পর তেহরান পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলস্বরূপ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়। সম্প্রতি সৌদি আরবও ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: লন্ডনে বিক্ষোভের ডাক দিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ইরান ও হুথিরা পাইপলাইন, জ্বালানি স্থাপনা এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের এই মূল্যায়ন উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তাদের দেওয়া বিবরণ সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, হুথিদের একটি ড্রোন হামলায় আরামকোর ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরে ‘সীমিত অগ্নিকাণ্ড’ ঘটেছে। কিন্তু বুধবার রয়টার্স জানায়, হামলায় দপ্তরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, আরামকোর সদর দপ্তরের ওপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আমিন নাসেরের কার্যালয়ও রয়েছে। ভবনটির ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং জানালা ও দরজা উড়ে গেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিবরণের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির ধারাবাহিক অমিল দেখা যাচ্ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু মিথ্যাবাদী, ফিলিস্তিনি শিশুদের রক্ত তার হাতে’

নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার কথা স্বীকার করলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির জন্য আকাশ থেকে পড়ে আসা ধ্বংসাবশেষকে দায়ী করেছে। কিন্তু উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে দেখা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল ব্যাপক। হামলার ধরন থেকেও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে হামলাকারীদের বিস্তারিত তথ্য ও নিখুঁত নিশানার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের ছাদে হামলা হয়েছিল। এতে কেন্দ্রটির চারটি চুল্লির একটিকে জরুরি ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। রয়টার্সকে একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রটির অবস্থান সম্পর্কে ইরানের কাছে তথ্য ছিল।

কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ইরানের হামলাতেও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রমাণ পাওয়া যায়। হামলায় গ্যাসকে তরলে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় শীতলীকরণ সরঞ্জাম রাখা ‘কোল্ড বক্স’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের সরঞ্জাম তৈরি করতে কয়েক মাস সময় লাগে।

আরও পড়ুন: মিশিগানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

উপসাগরীয় দেশগুলোর দেওয়া বিবরণের সঙ্গে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির সবচেয়ে বড় অমিলের উদাহরণ হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিকবার বন্দরটিতে হামলা চালিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা করা হয় এবং কখনো কখনো মেরামতকাজ শেষ হওয়ার পরও আবার হামলা চালানো হয়েছে।

গত ৩ মার্চ ফুজাইরা বন্দরে প্রথম হামলায় দুটি তেলের ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক দিন ধরে সেগুলো জ্বলতে থাকে। উপগ্রহচিত্রের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানায়, দ্বিতীয় হামলায় বন্দরের একটি ‘ম্যাট্রিক্স ম্যানিফোল্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি ৬২টি পাইপলাইনের সমন্বয়ে তৈরি একটি স্থানান্তরব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তেলের টার্মিনাল থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য জাহাজে তোলার স্থানে নেওয়া হয়।

আমিরাতের কর্মকর্তারা দুটি হামলারই ক্ষয়ক্ষতির জন্য আকাশ থেকে পড়ে আসা ধ্বংসাবশেষকে দায়ী করেছিলেন। তবে রয়টার্সের মূল্যায়নে দেখা যায়, এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্রের মিল নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রামানান কৃষ্ণমূর্তি আমিরাতের সরকারি ব্যাখ্যার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমিরাতের মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে আঘাত।’

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ১০ বছরে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু অভিবাসীর মৃত্যু: আইওএম

রয়টার্স জানায়, মার্চে ফুজাইরা বন্দরে পরবর্তী হামলায় অন্য একটি ম্যাট্রিক্স ম্যানিফোল্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেয় আমিরাত। মার্চের শেষ নাগাদ বন্দরটি পুরোপুরি সচল হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু মে মাসে ইরান আবারও সেখানে হামলা চালায়। এবার একটি ড্রোন মার্চে প্রথম হামলার শিকার ম্যাট্রিক্স ম্যানিফোল্ডের সঙ্গে যুক্ত পাইপলাইনে আঘাত হানে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরা বন্দর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে।

এএম

আরও পড়ুন: নেহা বোরাকে মুক্তি দিল পুলিশ, দীপকেকে আদালতে তোলা হবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আজ অফিস খোলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ এম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আজ অফিস খোলা

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি চলছে। তবে আজ শনিবার, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কার্যালয় খোলা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম অবশ্য বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে গত ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) শ্রেণি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি শুরু হবে। এই ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে, তবে জরুরি দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কার্যালয় খোলা রাখা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে অফিস খোলা রাখার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির সূচিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, এদিন নিয়মিত পাঠদান বন্ধ থাকবে।

ছুটির সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রয়োজন মেটাতে ভোগান্তি এড়াতে অফিস খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফরম পূরণসহ বিভিন্ন জরুরি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক চিঠিতে ১৭ অক্টোবর শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অফিস খোলা রাখার নির্দেশনা প্রদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিক্রি ৬০ শতাংশ কমেছে, রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ এম


রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিক্রি ৬০ শতাংশ কমেছে, রাজস্ব আয় ক্ষতিগ্রস্ত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের বৃদ্ধি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশের ভোক্তাপণ্যের বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার সবচেয়ে বেশি চাপের সম্মুখীন হয়েছে। গত দুই থেকে তিন বছরে এই খাতে বিক্রি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এক সময় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকায় কেনা যেত যে টয়োটা করোলা অ্যাক্সিও, বর্তমানে তার দাম ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গাড়ির দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ক্রেতারা বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন। এর ফলে আমদানি ও বিক্রি কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন কালের কণ্ঠকে জানান, দেশে ডলার সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় উঠায়, এর ফলে গাড়ির দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। উচ্চ শুল্ক, ব্যাংকঋণের সুদের বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে গত দুই থেকে তিন বছরে গাড়ির বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্কহার ৮২৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এত বেশি শুল্কের কারণে গাড়ির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ দেশে এখনও মানসম্মত ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো মানের সিটি বাস ও পর্যাপ্ত ট্যাক্সিক্যাবের অভাব রয়েছে। ফলে অনেকের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি শুধুমাত্র বিলাসপণ্য নয়, প্রয়োজনের অংশ হয়ে উঠেছে।

হাবিব উল্লাহ ডনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে টয়োটা করোলা অ্যাক্সিও ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকায় কেনা গেলেও এখন দাম ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকা। পাঁচ বছরের পুরনো টয়োটা প্রিমিওর দাম আগে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৪৫ থেকে ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ যুক্ত হওয়ায় গাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, অটো লোনের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা গেলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গাড়ির পাশাপাশি স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও প্রসাধনসামগ্রীর বাজারেও ক্রেতাদের অনীহা বাড়ছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে মানুষ তুলনামূলক দামি পণ্য কেনা থেকে বিরত হচ্ছে। অনেকেই নতুন পণ্য না কিনে পুরনো পণ্য মেরামত করে ব্যবহার করছেন।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জাহাজীকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বে, বিশেষ করে বিকাশমান অর্থনীতিগুলোতে বিলাসপণ্যের চাহিদা কমে গেছে। নতুন চাকরির সুযোগ না বাড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ কেনাকাটায় কাটছাঁট করছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতায় এমন কোনো খাত নেই, যেখানে বিক্রি কমেনি। বিলাসপণ্যের বাজারে এর প্রভাব আরো বেশি। ক্রেতা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও বিপণন খাতও চাপে পড়ছে। এর প্রভাব কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব আদায়েও পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতেনাতে মাদকাসক্তকে ধরলেন ইউএনও, ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ এম


হাতেনাতে মাদকাসক্তকে ধরলেন ইউএনও, ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেন

জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ফেরদৌস (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাট্টাজোর ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরদৌস বাট্টাজোর ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বাট্টাজোর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফেরদৌসকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন জানান, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এক যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব নেতা আব্বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


ইসরাইলের নির্বাচনে আরব নেতা আব্বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আরব রাজনীতিক মানসুর আব্বাস। তিনি একবার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। এবারও সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মধ্য-বামপন্থি ইহুদি নেতা ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন আব্বাস। তবে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশ নেওয়ার যে কৌশল তিনি নিয়েছেন, তা নিয়ে আরব ও ইহুদি—দুই পক্ষের রাজনীতিকদেরই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রচারেও বারবার উঠে আসছে মানসুর আব্বাসের নাম। তার দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আমের নেতা আব্বাসকে কেন্দ্র করে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করছেন নেতানিয়াহু। তার প্রচারের বক্তব্য, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে পরবর্তী সরকারে প্রকৃত ক্ষমতাধর হয়ে উঠবেন আব্বাস। তিনি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম চালিকাশক্তি।

তবে আব্বাসের ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে পশ্চিম তীর ও গাজার চেয়ে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যার সম্পর্ক বেশি। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। তাদের বড় সমস্যা সহিংস অপরাধ, অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আবাসনের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি।

নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক আক্রমণের পেছনে নির্বাচনে আব্বাসের সম্ভাব্য ভূমিকা বড় কারণ। ইসরাইলের বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় তিনি হয়ে উঠতে পারেন সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তি। বিরোধী নেতারা তার সমর্থন নিতে রাজি না হলে নেতানিয়াহুকে সরানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।

এ কারণে আব্বাসকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব রাজনীতিকদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ তার দল রা’আম সামাজিকভাবে রক্ষণশীল। ১৯৯৬ সালে ইসরাইলের ইসলামি আন্দোলনের একটি শাখা দলটি প্রতিষ্ঠা করে। মুসলিম পরিচয় শক্তিশালী করা এবং ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন দলটির অন্যতম লক্ষ্য। এ অবস্থানে থেকেও উদারপন্থি ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন আব্বাস।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য শুধু বর্তমান সরকারকে পরাজিত করা নয়। এই সরকারকে তিনি ‘বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তার লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন, যেখানে আরব নাগরিকেরা অংশীদার হবেন, নিজেদের কথা বলতে পারবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে পারবেন।

ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বেদুইন অধ্যুষিত শহর তুবা-জাঙ্গারিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে শত শত সমর্থকের সামনে তিনি বলেন, ক্ষমতাবানদের টেবিলে আরবরা অনাথ হয়ে পড়ে থাকবেন না। আরব ও ইহুদিদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে একবার সরিয়েছিলেন আব্বাস

অনেকে আব্বাসকে ইসরাইলের সবচেয়ে কৌশলী রাজনীতিকদের একজন মনে করেন। ২০২১ সালে তিনি প্রথম বড় আলোচনায় আসেন। ওই সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি। এতে একটি ইসলামপন্থি দলের সরকারে অংশ নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সঙ্গে জোট বাঁধেন আব্বাস। সেই জোটের হাত ধরেই ক্ষমতা হারান নেতানিয়াহু।

পরের বছর আবার প্রধানমন্ত্রী হন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার গঠন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলা হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। হামলার পর অনেক ইসরাইলির মধ্যে ফিলিস্তিনিদের—এমনকি ইসরাইলের আরব নাগরিকদেরও—নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ইহুদিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আরো সক্রিয় হন ৫২ বছর বয়সি আব্বাস। ৭ অক্টোবরের হামলার দিনই তিনি এর নিন্দা জানান। গাজা সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ইসরাইলিদের থাকার ব্যবস্থা করতেও সহায়তা করেন। হামাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সহিংসতার পথ ফিলিস্তিনিদেরই ক্ষতি করেছে।

কিন্তু ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে এখন প্রায় সব দিক থেকেই আক্রমণের মুখে তিনি। নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা আব্বাসকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, যে ইহুদি জাতীয়তাবাদী বিরোধী নেতারা একসময় তাকে সাহসী পথিকৃৎ বলে প্রশংসা করেছিলেন, তাদেরও এখন দূরত্ব বজায় রাখছেন। ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই তাদের এই অবস্থান।

আরব দলগুলোর অন্য নেতারাও আব্বাসের সমালোচনা করছেন। তারা সাধারণত ইসরাইলের সরকারগুলোর বিরোধিতা করেন, কিন্তু সরকারে অংশ নেন না। তাদের কেউ কেউ আব্বাসকে কার্যত আপসকামী বা নিজেদের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া নেতা হিসেবে দেখছেন।

তবে এসব সমালোচনায় দমে যাননি আব্বাস। তুবা-জাঙ্গারিয়ায় এক সমাবেশে মুসলিম পুরুষদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদের নেতৃত্ববিষয়ক শিক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন নেতার নিজের পথের ওপর আস্থা থাকা প্রয়োজন।

এর কয়েক দিন পর নাজারেতে এক সংবাদ সম্মেলনে আরো বড় পদক্ষেপ নেন আব্বাস। তিনি ঘোষণা করেন, মধ্য-বামপন্থি রাজনীতিক ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজ তার দল রা’ামের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবেন। মূলধারার আরব ও ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের মধ্যে এ ধরনের জোট ইসরাইলের রাজনীতিতে নজিরবিহীন।

সেগালোভিৎজকে পাশে নিয়ে হিব্রু ভাষায় আব্বাস বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে অন্য ব্যক্তিকে শত্রু হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।

আরব নাগরিকদের ‘জ্বলন্ত সমস্যা’ সমাধানের চেষ্টা

গালিলি অঞ্চলের দ্রুজ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর মাগারে জন্ম আব্বাসের। রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা কখনোই তার ছিল না।

তার বাবা ছিলেন মুদি দোকানি। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহরের মানুষ নানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তার বাবার কাছে যেতেন। আব্বাস বলেন, স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠীরা তাকে বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব দিত।

পরে দন্তচিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন আব্বাস। একসময় তার নিজ শহরে দ্রুজ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়, হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজের চিকিৎসাকেন্দ্র এক মাস বন্ধ রাখেন তিনি। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। পরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়।

মানুষের জন্য আরো বেশি কিছু করার ইচ্ছা থেকেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আব্বাস। তার উপলব্ধি হয়েছিল, রাষ্ট্রের হাতিয়ার ব্যবহার করেই বড় পরিসরে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

২০১৯ সালে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে যোগ দেওয়ার পর থেকে আরব নাগরিকদের ‘জ্বলন্ত সমস্যা’ সমাধানে মনোযোগ দেন তিনি। বিশেষ করে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি ঠেকানো তার অন্যতম অগ্রাধিকার।

তুবা-জাঙ্গারিয়া থেকে ফেরার পথে আব্বাস বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে তিনিও হুমকির মুখে পড়েছেন। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পাশাপাশি আরব, ইহুদি ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকেও সহিংসতার হুমকি পেয়েছেন তিনি।

তবে ইসরাইলের জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি বেশি ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগের কারণে। ২০২১ সালের মে মাসে ইসরাইলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তিনি লোদের একটি পুড়ে যাওয়া সিনাগগ পরিদর্শন করেন। শহরের ডানপন্থি ইহুদি মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে সেটি পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সহিংসতার নিন্দা জানান।

তখন অনেক আরব তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ইসরাইলি পুলিশ যখন আরব নাগরিকদের আটক করছিল, তখন আব্বাস ভুল জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছেন।

আরব সাংবাদিক মোহাম্মদ মাগাদলি বলেন, ওই সময় আব্বাসের অবস্থান গ্রহণযোগ্য মনে করেননি অনেকে। ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা তাকে ফোন করে বলেছিলেন, আব্বাস তাদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে ফেলেছেন বলে তিনি লিখতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আব্বাস নিজের অবস্থানের যথার্থতা বোঝাতে সক্ষম হন।

সরকারে অংশ নেওয়া নিয়ে আরবদের মধ্যেও বিতর্ক

২০২১ সালে নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে রা’আমের যোগদান ছিল ইসরাইলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে আরব দলগুলো সাধারণত সরকারের বাইরে থেকে নীতির সমালোচনা ও প্রতিবাদ করত।

আব্বাসের যুক্তি, ক্ষমতায় অংশ নেওয়া ছাড়া বড় ধরনের অর্জন সম্ভব নয়। আরব নাগরিকদের অপছন্দের কোনো নীতির দায়ও যদি নিতে হয়, তাতে তিনি প্রস্তুত। তার ভাষায়, এর জন্য মূল্য দিতে হলেও তারা রাজি।

তবে আরব নাগরিকদের একটি অংশ মনে করে, এই কৌশলের জন্য আব্বাসকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তিনি খুব কম কথা বলেন। ইসরাইলের ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন তিনি।

গত আগস্টে দলের এক সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংক্ষেপে কথা বলেছিলেন আব্বাস। এরপর তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গী বিরোধী নেতাদের কয়েকজনই ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হলেও এ বিষয়ে আরো জোরালোভাবে কথা না বলায় আরব নাগরিকদের একাংশ আব্বাসের সমালোচনা করেছে।

ইসরাইলে আরব-ইহুদি সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা সংস্থা আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের সহসভাপতি বাশায়ের ফাহুম-জাইউসি বলেন, আব্বাসের কৌশলগত আপসের বিষয়টি আরব সমাজে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে।

কারো মতে, এ জন্য তাকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, তিনি ইহুদি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর শর্তে বেশি ছাড় দিচ্ছেন। অন্য আরব দলগুলোর অবস্থান হলো, তাদের নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান মেনেই গ্রহণ করতে হবে।

ইসরাইলের ইসলামি আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাফওয়াত ফ্রেইজ বলেন, আরব নাগরিকেরা আব্বাসের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তবে তাদের অনেকেই বোঝেন, তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হলো সমঝোতা।

অন্যদিকে, অতীতে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য ডানপন্থীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ছেন আব্বাস। একসময় তিনি বলেছিলেন, জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলিদের কোনো অধিকার নেই এবং তারা ওই ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশকারী।

রাজনীতিতে আসার আগে ইহুদি ইসরাইলিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে জানান আব্বাস। তার ভাষায়, এতে পরিস্থিতি, বাস্তবতা ও অন্য পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার বোঝাপড়ায় প্রভাব পড়েছিল। সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। অতীতের কিছু বক্তব্য এখন আর দেবেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

আব্বাসের দাবি, তার এই অবস্থান ফিলিস্তিনি প্রশ্ন থেকে সরে আসার অর্থ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত সমাধানের পথ তৈরি করতে চান তিনি।

তার মতে, ইসরাইলের ভেতরেই আরব ও ইহুদিরা একসঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারেন—এটি প্রমাণ করা জরুরি। এর মধ্য দিয়েই যৌথ ভবিষ্যৎ গড়ার আশা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ইহুদি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে নতুন জোট

সেগালোভিৎজের সঙ্গে আব্বাসের জোট এই কৌশলের একটি উদাহরণ হতে পারে। নেসেটে একসময় তারা একসঙ্গে নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে রসিকতা করেছিলেন। ওই সময় সেগালোভিৎজ ছিলেন আব্বাসের অংশ নেওয়া জোট সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী।

আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অপরাধ দমনে কাজ করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছিলেন সেগালোভিৎজ। তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলও গঠন করেন। তার দাবি, ওই উদ্যোগের সময় হত্যাকাণ্ডের হার ১৬ শতাংশ কমেছিল।

এ কারণে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০২২ সালে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফেরার পর পুলিশের দায়িত্ব দেন উগ্র-ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন গভিরকে। এরপর সেগালোভিৎজের উদ্যোগগুলো পরিত্যক্ত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইসরাইলে রেকর্ড ২৫২ জন আরব নাগরিক নিহত হন।

তবে আব্বাস ও সেগালোভিৎজের জোটে মতপার্থক্যও রয়েছে। সেগালোভিৎজ আরবি জানেন না, যা নির্বাচনী প্রচারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। আব্বাস সমকামীদের অধিকারের বিরোধী। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ সেগালোভিৎজ এসব অধিকারের সমর্থক; তার মেয়েও সমকামী। আরো বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে।

তবে তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে একমত না হলেও একসঙ্গে কাজ করতে চান।

সাবেক প্যারাট্রুপার সেগালোভিৎজকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে আব্বাসের জন্য দুটি সুবিধা হতে পারে। প্রথমত, ডানপন্থিদের আক্রমণের জবাব দেওয়া সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, রা’আমের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগ কমতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে সেগালোভিৎজ বলেন, ইসলামপন্থি দলের প্রার্থী তালিকায় যোগ দেওয়ায় নেসেটের অনেকের কাছ থেকেই আক্রমণের শিকার হবেন বলে তিনি জানেন। তবে আব্বাসের ওপর তার আস্থা রয়েছে। তার ভাষায়, আব্বাস সাহসী মানুষ এবং সেই সাহসের জন্য তাকে মূল্য দিতে হয়। ইসরাইলের ভবিষ্যতের জন্য আব্বাসকে একধরনের আশার প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনেই এই আশার বাস্তব পরীক্ষা হবে।

অপরাধ কমানোর আশায় আব্বাসকে সরকারে দেখতে চান ভোটাররা

উত্তর ইসরাইলের আরেক শহর সাখনিনে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সমাবেশ শেষে দীর্ঘ সময় সমর্থকদের সঙ্গে কাটান আব্বাস। পরিচিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, ছবি তোলেন। সেখানে ৫৩ বছর বয়সি ভোটার ইহসান বশির তাকে পরবর্তী সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার হলেও তাতে অংশ নিতে বলেন তিনি। তার আশা, এতে অপরাধের মাত্রা কমবে।

বশির বলেন, তার এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের বাইরে যেতে দিতে তিনি ভয় পান।

আব্বাস তার কথা শুনে হাসেন ও মাথা নাড়েন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রা’আম নির্বাচনে অনেক আসন পাবে এবং নতুন সরকার বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত হবে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%