প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের বৃদ্ধি ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে দেশের ভোক্তাপণ্যের বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার সবচেয়ে বেশি চাপের সম্মুখীন হয়েছে। গত দুই থেকে তিন বছরে এই খাতে বিক্রি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এক সময় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকায় কেনা যেত যে টয়োটা করোলা অ্যাক্সিও, বর্তমানে তার দাম ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। গাড়ির দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ক্রেতারা বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন। এর ফলে আমদানি ও বিক্রি কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন কালের কণ্ঠকে জানান, দেশে ডলার সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় উঠায়, এর ফলে গাড়ির দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে। উচ্চ শুল্ক, ব্যাংকঋণের সুদের বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে গত দুই থেকে তিন বছরে গাড়ির বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্কহার ৮২৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এত বেশি শুল্কের কারণে গাড়ির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অথচ দেশে এখনও মানসম্মত ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ভালো মানের সিটি বাস ও পর্যাপ্ত ট্যাক্সিক্যাবের অভাব রয়েছে। ফলে অনেকের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি শুধুমাত্র বিলাসপণ্য নয়, প্রয়োজনের অংশ হয়ে উঠেছে।
হাবিব উল্লাহ ডনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে টয়োটা করোলা অ্যাক্সিও ১৮ থেকে ১৯ লাখ টাকায় কেনা গেলেও এখন দাম ২৬ থেকে ২৭ লাখ টাকা। পাঁচ বছরের পুরনো টয়োটা প্রিমিওর দাম আগে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৪৫ থেকে ৪৬ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ যুক্ত হওয়ায় গাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, অটো লোনের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা গেলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গাড়ির পাশাপাশি স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও প্রসাধনসামগ্রীর বাজারেও ক্রেতাদের অনীহা বাড়ছে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে মানুষ তুলনামূলক দামি পণ্য কেনা থেকে বিরত হচ্ছে। অনেকেই নতুন পণ্য না কিনে পুরনো পণ্য মেরামত করে ব্যবহার করছেন।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জাহাজীকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বে, বিশেষ করে বিকাশমান অর্থনীতিগুলোতে বিলাসপণ্যের চাহিদা কমে গেছে। নতুন চাকরির সুযোগ না বাড়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ কেনাকাটায় কাটছাঁট করছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতায় এমন কোনো খাত নেই, যেখানে বিক্রি কমেনি। বিলাসপণ্যের বাজারে এর প্রভাব আরো বেশি। ক্রেতা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় খুচরা ব্যবসা থেকে শুরু করে উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও বিপণন খাতও চাপে পড়ছে। এর প্রভাব কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব আদায়েও পড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন