ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাতেনাতে মাদকাসক্তকে ধরলেন ইউএনও, ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেন


হাতেনাতে মাদকাসক্তকে ধরলেন ইউএনও, ছয় মাসের কারাদণ্ড দিলেন

জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ফেরদৌস (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাট্টাজোর ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফেরদৌস বাট্টাজোর ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: পায়রা নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য, ইলিশ ও জেলেদের জীবন হুমকিতে

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে বাট্টাজোর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফেরদৌসকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ হোসেন জানান, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এক যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: কুকি-চিনের নাথান বম আবার আলোচনায়, সিআইডির বিরুদ্ধে মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব নেতা আব্বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


ইসরাইলের নির্বাচনে আরব নেতা আব্বাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আরব রাজনীতিক মানসুর আব্বাস। তিনি একবার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রেখেছিলেন। এবারও সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মধ্য-বামপন্থি ইহুদি নেতা ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন আব্বাস। তবে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশ নেওয়ার যে কৌশল তিনি নিয়েছেন, তা নিয়ে আরব ও ইহুদি—দুই পক্ষের রাজনীতিকদেরই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রচারেও বারবার উঠে আসছে মানসুর আব্বাসের নাম। তার দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আমের নেতা আব্বাসকে কেন্দ্র করে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করছেন নেতানিয়াহু। তার প্রচারের বক্তব্য, নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে পরবর্তী সরকারে প্রকৃত ক্ষমতাধর হয়ে উঠবেন আব্বাস। তিনি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম চালিকাশক্তি।

তবে আব্বাসের ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে পশ্চিম তীর ও গাজার চেয়ে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যার সম্পর্ক বেশি। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব। তাদের বড় সমস্যা সহিংস অপরাধ, অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আবাসনের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি।

নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক আক্রমণের পেছনে নির্বাচনে আব্বাসের সম্ভাব্য ভূমিকা বড় কারণ। ইসরাইলের বহুদলীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় তিনি হয়ে উঠতে পারেন সরকার গঠনের নির্ণায়ক শক্তি। বিরোধী নেতারা তার সমর্থন নিতে রাজি না হলে নেতানিয়াহুকে সরানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠন তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।

এ কারণে আব্বাসকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব রাজনীতিকদের একজন বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ তার দল রা’আম সামাজিকভাবে রক্ষণশীল। ১৯৯৬ সালে ইসরাইলের ইসলামি আন্দোলনের একটি শাখা দলটি প্রতিষ্ঠা করে। মুসলিম পরিচয় শক্তিশালী করা এবং ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন দলটির অন্যতম লক্ষ্য। এ অবস্থানে থেকেও উদারপন্থি ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন আব্বাস।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার লক্ষ্য শুধু বর্তমান সরকারকে পরাজিত করা নয়। এই সরকারকে তিনি ‘বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী’ বলে অভিহিত করেন। তার লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন, যেখানে আরব নাগরিকেরা অংশীদার হবেন, নিজেদের কথা বলতে পারবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে পারবেন।

ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বেদুইন অধ্যুষিত শহর তুবা-জাঙ্গারিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে শত শত সমর্থকের সামনে তিনি বলেন, ক্ষমতাবানদের টেবিলে আরবরা অনাথ হয়ে পড়ে থাকবেন না। আরব ও ইহুদিদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে একবার সরিয়েছিলেন আব্বাস

অনেকে আব্বাসকে ইসরাইলের সবচেয়ে কৌশলী রাজনীতিকদের একজন মনে করেন। ২০২১ সালে তিনি প্রথম বড় আলোচনায় আসেন। ওই সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি। এতে একটি ইসলামপন্থি দলের সরকারে অংশ নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সঙ্গে জোট বাঁধেন আব্বাস। সেই জোটের হাত ধরেই ক্ষমতা হারান নেতানিয়াহু।

পরের বছর আবার প্রধানমন্ত্রী হন নেতানিয়াহু। তিনি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার গঠন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলা হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। হামলার পর অনেক ইসরাইলির মধ্যে ফিলিস্তিনিদের—এমনকি ইসরাইলের আরব নাগরিকদেরও—নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ইহুদিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আরো সক্রিয় হন ৫২ বছর বয়সি আব্বাস। ৭ অক্টোবরের হামলার দিনই তিনি এর নিন্দা জানান। গাজা সীমান্ত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ইসরাইলিদের থাকার ব্যবস্থা করতেও সহায়তা করেন। হামাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সহিংসতার পথ ফিলিস্তিনিদেরই ক্ষতি করেছে।

কিন্তু ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে এখন প্রায় সব দিক থেকেই আক্রমণের মুখে তিনি। নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা আব্বাসকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, যে ইহুদি জাতীয়তাবাদী বিরোধী নেতারা একসময় তাকে সাহসী পথিকৃৎ বলে প্রশংসা করেছিলেন, তাদেরও এখন দূরত্ব বজায় রাখছেন। ডানপন্থি ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই তাদের এই অবস্থান।

আরব দলগুলোর অন্য নেতারাও আব্বাসের সমালোচনা করছেন। তারা সাধারণত ইসরাইলের সরকারগুলোর বিরোধিতা করেন, কিন্তু সরকারে অংশ নেন না। তাদের কেউ কেউ আব্বাসকে কার্যত আপসকামী বা নিজেদের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া নেতা হিসেবে দেখছেন।

তবে এসব সমালোচনায় দমে যাননি আব্বাস। তুবা-জাঙ্গারিয়ায় এক সমাবেশে মুসলিম পুরুষদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদের নেতৃত্ববিষয়ক শিক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন নেতার নিজের পথের ওপর আস্থা থাকা প্রয়োজন।

এর কয়েক দিন পর নাজারেতে এক সংবাদ সম্মেলনে আরো বড় পদক্ষেপ নেন আব্বাস। তিনি ঘোষণা করেন, মধ্য-বামপন্থি রাজনীতিক ও পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিৎজ তার দল রা’ামের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবেন। মূলধারার আরব ও ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকদের মধ্যে এ ধরনের জোট ইসরাইলের রাজনীতিতে নজিরবিহীন।

সেগালোভিৎজকে পাশে নিয়ে হিব্রু ভাষায় আব্বাস বলেন, পরিবর্তন আনতে হলে অন্য ব্যক্তিকে শত্রু হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।

আরব নাগরিকদের ‘জ্বলন্ত সমস্যা’ সমাধানের চেষ্টা

গালিলি অঞ্চলের দ্রুজ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর মাগারে জন্ম আব্বাসের। রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা কখনোই তার ছিল না।

তার বাবা ছিলেন মুদি দোকানি। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহরের মানুষ নানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তার বাবার কাছে যেতেন। আব্বাস বলেন, স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠীরা তাকে বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব দিত।

পরে দন্তচিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন আব্বাস। একসময় তার নিজ শহরে দ্রুজ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়, হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত করতে নিজের চিকিৎসাকেন্দ্র এক মাস বন্ধ রাখেন তিনি। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। পরে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়।

মানুষের জন্য আরো বেশি কিছু করার ইচ্ছা থেকেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আব্বাস। তার উপলব্ধি হয়েছিল, রাষ্ট্রের হাতিয়ার ব্যবহার করেই বড় পরিসরে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

২০১৯ সালে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে যোগ দেওয়ার পর থেকে আরব নাগরিকদের ‘জ্বলন্ত সমস্যা’ সমাধানে মনোযোগ দেন তিনি। বিশেষ করে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি ঠেকানো তার অন্যতম অগ্রাধিকার।

তুবা-জাঙ্গারিয়া থেকে ফেরার পথে আব্বাস বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে তিনিও হুমকির মুখে পড়েছেন। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পাশাপাশি আরব, ইহুদি ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকেও সহিংসতার হুমকি পেয়েছেন তিনি।

তবে ইসরাইলের জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি বেশি ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগের কারণে। ২০২১ সালের মে মাসে ইসরাইলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তিনি লোদের একটি পুড়ে যাওয়া সিনাগগ পরিদর্শন করেন। শহরের ডানপন্থি ইহুদি মেয়রকে সঙ্গে নিয়ে সেটি পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে সহিংসতার নিন্দা জানান।

তখন অনেক আরব তার পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, ইসরাইলি পুলিশ যখন আরব নাগরিকদের আটক করছিল, তখন আব্বাস ভুল জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছেন।

আরব সাংবাদিক মোহাম্মদ মাগাদলি বলেন, ওই সময় আব্বাসের অবস্থান গ্রহণযোগ্য মনে করেননি অনেকে। ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা তাকে ফোন করে বলেছিলেন, আব্বাস তাদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে ফেলেছেন বলে তিনি লিখতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আব্বাস নিজের অবস্থানের যথার্থতা বোঝাতে সক্ষম হন।

সরকারে অংশ নেওয়া নিয়ে আরবদের মধ্যেও বিতর্ক

২০২১ সালে নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে রা’আমের যোগদান ছিল ইসরাইলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে আরব দলগুলো সাধারণত সরকারের বাইরে থেকে নীতির সমালোচনা ও প্রতিবাদ করত।

আব্বাসের যুক্তি, ক্ষমতায় অংশ নেওয়া ছাড়া বড় ধরনের অর্জন সম্ভব নয়। আরব নাগরিকদের অপছন্দের কোনো নীতির দায়ও যদি নিতে হয়, তাতে তিনি প্রস্তুত। তার ভাষায়, এর জন্য মূল্য দিতে হলেও তারা রাজি।

তবে আরব নাগরিকদের একটি অংশ মনে করে, এই কৌশলের জন্য আব্বাসকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তিনি খুব কম কথা বলেন। ইসরাইলের ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে ওঠায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকেন তিনি।

গত আগস্টে দলের এক সম্মেলনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংক্ষেপে কথা বলেছিলেন আব্বাস। এরপর তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গী বিরোধী নেতাদের কয়েকজনই ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হলেও এ বিষয়ে আরো জোরালোভাবে কথা না বলায় আরব নাগরিকদের একাংশ আব্বাসের সমালোচনা করেছে।

ইসরাইলে আরব-ইহুদি সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা সংস্থা আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের সহসভাপতি বাশায়ের ফাহুম-জাইউসি বলেন, আব্বাসের কৌশলগত আপসের বিষয়টি আরব সমাজে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে।

কারো মতে, এ জন্য তাকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, তিনি ইহুদি জাতীয়তাবাদী দলগুলোর শর্তে বেশি ছাড় দিচ্ছেন। অন্য আরব দলগুলোর অবস্থান হলো, তাদের নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান মেনেই গ্রহণ করতে হবে।

ইসরাইলের ইসলামি আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাফওয়াত ফ্রেইজ বলেন, আরব নাগরিকেরা আব্বাসের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তবে তাদের অনেকেই বোঝেন, তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হলো সমঝোতা।

অন্যদিকে, অতীতে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য ডানপন্থীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ছেন আব্বাস। একসময় তিনি বলেছিলেন, জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলিদের কোনো অধিকার নেই এবং তারা ওই ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশকারী।

রাজনীতিতে আসার আগে ইহুদি ইসরাইলিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল বলে জানান আব্বাস। তার ভাষায়, এতে পরিস্থিতি, বাস্তবতা ও অন্য পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার বোঝাপড়ায় প্রভাব পড়েছিল। সময়ের সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। অতীতের কিছু বক্তব্য এখন আর দেবেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

আব্বাসের দাবি, তার এই অবস্থান ফিলিস্তিনি প্রশ্ন থেকে সরে আসার অর্থ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত সমাধানের পথ তৈরি করতে চান তিনি।

তার মতে, ইসরাইলের ভেতরেই আরব ও ইহুদিরা একসঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারেন—এটি প্রমাণ করা জরুরি। এর মধ্য দিয়েই যৌথ ভবিষ্যৎ গড়ার আশা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ইহুদি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে নতুন জোট

সেগালোভিৎজের সঙ্গে আব্বাসের জোট এই কৌশলের একটি উদাহরণ হতে পারে। নেসেটে একসময় তারা একসঙ্গে নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে রসিকতা করেছিলেন। ওই সময় সেগালোভিৎজ ছিলেন আব্বাসের অংশ নেওয়া জোট সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী।

আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অপরাধ দমনে কাজ করাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছিলেন সেগালোভিৎজ। তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ দলও গঠন করেন। তার দাবি, ওই উদ্যোগের সময় হত্যাকাণ্ডের হার ১৬ শতাংশ কমেছিল।

এ কারণে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০২২ সালে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফেরার পর পুলিশের দায়িত্ব দেন উগ্র-ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন গভিরকে। এরপর সেগালোভিৎজের উদ্যোগগুলো পরিত্যক্ত হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইসরাইলে রেকর্ড ২৫২ জন আরব নাগরিক নিহত হন।

তবে আব্বাস ও সেগালোভিৎজের জোটে মতপার্থক্যও রয়েছে। সেগালোভিৎজ আরবি জানেন না, যা নির্বাচনী প্রচারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। আব্বাস সমকামীদের অধিকারের বিরোধী। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ সেগালোভিৎজ এসব অধিকারের সমর্থক; তার মেয়েও সমকামী। আরো বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতভেদ রয়েছে।

তবে তারা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে একমত না হলেও একসঙ্গে কাজ করতে চান।

সাবেক প্যারাট্রুপার সেগালোভিৎজকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে আব্বাসের জন্য দুটি সুবিধা হতে পারে। প্রথমত, ডানপন্থিদের আক্রমণের জবাব দেওয়া সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, রা’আমের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগ কমতে পারে।

এক সাক্ষাৎকারে সেগালোভিৎজ বলেন, ইসলামপন্থি দলের প্রার্থী তালিকায় যোগ দেওয়ায় নেসেটের অনেকের কাছ থেকেই আক্রমণের শিকার হবেন বলে তিনি জানেন। তবে আব্বাসের ওপর তার আস্থা রয়েছে। তার ভাষায়, আব্বাস সাহসী মানুষ এবং সেই সাহসের জন্য তাকে মূল্য দিতে হয়। ইসরাইলের ভবিষ্যতের জন্য আব্বাসকে একধরনের আশার প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনেই এই আশার বাস্তব পরীক্ষা হবে।

অপরাধ কমানোর আশায় আব্বাসকে সরকারে দেখতে চান ভোটাররা

উত্তর ইসরাইলের আরেক শহর সাখনিনে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সমাবেশ শেষে দীর্ঘ সময় সমর্থকদের সঙ্গে কাটান আব্বাস। পরিচিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, ছবি তোলেন। সেখানে ৫৩ বছর বয়সি ভোটার ইহসান বশির তাকে পরবর্তী সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার হলেও তাতে অংশ নিতে বলেন তিনি। তার আশা, এতে অপরাধের মাত্রা কমবে।

বশির বলেন, তার এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের বাইরে যেতে দিতে তিনি ভয় পান।

আব্বাস তার কথা শুনে হাসেন ও মাথা নাড়েন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রা’আম নির্বাচনে অনেক আসন পাবে এবং নতুন সরকার বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত হবে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের তরুণদের অবস্থা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


ভারতের তরুণদের অবস্থা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

ভারতের তরুণরা মানসিক স্বাস্থ্য এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার শিকার হন—এমন অভিযোগ জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জিনা রোমেরো করেছেন, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারত সরকারের দাবি, এ অভিযোগ বেনামি ও যাচাই না করা বক্তব্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটির ৮১তম অধিবেশনে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুজ স্বরূপ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

অনুজ স্বরূপ বলেন, "ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন, কথা বলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, মুক্ত গণমাধ্যম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এসব অধিকার রক্ষায় কাজ করে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

জিনা রোমেরোর প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের হয়রানির শিকার হওয়ার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরূপ। তিনি বলেন, "প্রতিবেদনে কয়েকটি নাম-পরিচয়হীন বক্তব্যের উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের প্রমাণ দেওয়া হয়নি।"

তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তরুণের বসবাস ভারতে। সেই দেশের তরুণদের নিয়ে এত বড় অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।" স্বরূপ জানান, বেনামি ও যাচাই না করা বক্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না এবং তার প্রতিনিধিদল এসব অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।

প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে করা মূল্যায়নেরও সমালোচনা করেন স্বরূপ। তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, "প্রতিবেদনে ভারতের তরুণদের একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।" এই আন্দোলনের তরুণেরা সরকারকে প্রশ্ন করেন, রাজধানীতে মিছিল করেন এবং পরে দেশের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। স্বরূপের প্রশ্ন, "এমন সুযোগ কোনো দমনমূলক রাষ্ট্রে পাওয়া সম্ভব কি না।"

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের একটি বক্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। স্বরূপ বলেন, "গত মাসে মানবাধিকার পরিষদে হাইকমিশনার বলেছিলেন, ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের ক্ষেত্রে তরুণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা বেশি কার্যকর।" তবে বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদনে বিষয়টি যথাযথভাবে উঠে আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের উদাহরণও দেন স্বরূপ। তিনি বলেন, "এ বছরের গ্রীষ্মে পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা করে।" কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পার্লামেন্টে সরকারি পরীক্ষা আইন সংশোধন করা হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি দ্বিগুণ করা হয় এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হয়। এ ছাড়া পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয়।

স্বরূপের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার তরুণদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার উদাহরণ। ভারতের উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে স্বরূপ ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’-এর উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে ৫০ লাখের বেশি তরুণ অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।

স্বরূপ বলেন, "তরুণেরাই ভারতের শক্তি ও ভবিষ্যৎ।" প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অন্য মন্ত্রীরা সরাসরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদন তৈরিতে আরো সতর্কতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ভারতের এই কূটনীতিক। তিনি বলেন, "১৪০ কোটি মানুষের একটি দেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে বেনামি বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।" কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে তা যাচাই করা এবং প্রতিবেদনে প্রমাণ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিনা রোমেরো বলেন, "পরদিন তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার নতুন প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।" তিনি আরও বলেন, "তরুণেরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অনেক রাষ্ট্র তাদের দমন করে, সামাজিকভাবে হেয় করে এবং সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।"

জিনা রোমেরো কলম্বিয়ার একজন মানবাধিকারকর্মী। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভালে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ এম


দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভালে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম

শারদীয় দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আবাসন ব্যবসায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

হোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। কিছু হোটেলে ছুটির গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য হোটেলকক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিনের ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল। দীর্ঘ ছুটি এবং উৎসবের কারণে কুয়াকাটায় দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিচ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে।

এদিকে, পর্যটকদের আগমন নির্বিঘ্ন করতে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা এবং বিচ কার্নিভাল সফল করতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছোট-বড় ৩০০টির বেশি আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ বাসাবাড়ি হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবাসিক হোটেল সরোয়ার প্যারাডাইসের ব্যবস্থাপক রিপন সাব্বির জানান, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করে কক্ষ চাইছেন, কিন্তু সবাইকে কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, বছরের যেসব সময়ে কুয়াকাটায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসেন, দুর্গাপূজার সময় তার অন্যতম। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ এখনো ফাঁকা রয়েছে। তিনি আশা করছেন, দুর্গাপূজা এবং কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের আরো দুই শতাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বন বিভাগের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ এম


ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই

ধূমপান না করলেও, ফুসফুসে ক্যানসারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের। বংশগত বৈশিষ্ট্য, বিরল জিনগত পরিবর্তন এবং পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এই ঝুঁকিকে বাড়াতে পারে। সম্প্রতি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও। পোপের ধূমপানের অভ্যাস বা অতীতে ধূমপানের ইতিহাস জানা যায়নি। অস্ত্রোপচারের পর টিস্যু পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। পোপের অসুস্থতা আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—ধূমপান না করেও কেন ফুসফুসের ক্যানসার হয় এবং কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে?

ভ্যাটিকান মঙ্গলবার জানায়, নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর পোপের ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডান ফুসফুসের নিচের খণ্ডটি অপসারণ করা হয়। পরে ওই টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যানসার নিশ্চিত করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে করা পরীক্ষাতেও ক্যানসারের সন্দেহ দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে হলি সি প্রেস অফিস।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী ধূমপান। তবে ধূমপান একমাত্র কারণ নয়। কখনো ধূমপান করেননি এমন ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাং ক্যানসার ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশই অ্যাডেনোকার্সিনোমা। ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যে এটি ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত মোফিট ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ল্যারি রবিনসন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ ধূমপায়ী অথবা অতীতে ধূমপান করেছেন। তবে কখনো ধূমপান করেননি এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যায়। তাদের মধ্যে আক্রান্ত পুরুষের হার আনুমানিক ১০ শতাংশ এবং নারীর হার ২৫ শতাংশ।

পোপের চিকিৎসা করেননি রবিনসন। তবে তার মতে, পোপের ফুসফুসে পাওয়া গাঁটটি ক্যানসারযুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের একটি খণ্ড অপসারণের সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা যায়, রোগটি সম্ভবত একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্যানসার প্রথম পর্যায়ে থাকলে নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তবে তা টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে। পোপের ক্যানসার কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পর আরো চিকিৎসা লাগবে কি না, তা জানতে টিস্যুর বিস্তারিত পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

রবিনসনের মতে, টিউমার যত বড় হয়, ক্যানসার অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছানো বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তত বাড়ে।

ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে বাড়ে ঝুঁকি

ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি শুধুমাত্র ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পারিবারিক ইতিহাস, জিনগত পরিবর্তন এবং পরিবেশের বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শও এ রোগের কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইজিএফআর টি৭৯০এম নামের একটি বিরল জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।

যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের মধ্যে এই জিনগত পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিবর্তনটি নেই—এমন ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৬২ গুণ বেশি।

এ ছাড়া সিগারেটের পাশাপাশি পাইপ ও চুরুটের মতো তামাকজাত দ্রব্য সেবন এবং অতিরিক্ত গাঁজা সেবনও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে জানান রবিনসন। ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া ও রেডনের মতো পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শও ঝুঁকির কারণ।

ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়। রবিনসনের ভাষ্য, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত অধূমপায়ীদের অর্ধেকের বেশি রোগী চতুর্থ পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। ধূমপায়ী বা সাবেক ধূমপায়ীদের তুলনায় তাদের রোগ শনাক্তের সময় অবস্থা বেশি জটিল হতে পারে।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না

ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। ফলে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে লক্ষণ দেখা দিলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার মতো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান রবিনসন।

তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার তুলনামূলক বিরল। তাই সবার জন্য নিয়মিত সিটি স্ক্যানের সুপারিশ করা হয় না। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ৫০ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ধূমপায়ী, যাদের ধূমপানের ইতিহাস অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার। প্যাক-ইয়ার দিয়ে ধূমপানের পরিমাণ ও সময়কাল বোঝানো হয়। যেমন—২০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়া বা ১০ বছর ধরে প্রতিদিন দুই প্যাকেট খাওয়া—দুটিই ২০ প্যাক-ইয়ারের সমান। এ ছাড়া যারা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন, তারাও উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে পড়েন।

রবিনসন বলেন, পরীক্ষার যোগ্য ব্যক্তিদের মাত্র ১৫ শতাংশের মতো নিয়মিত এ পরীক্ষা করান। ফলে ঝুঁকিতে থাকা অনেকেরই সময়মতো রোগ শনাক্ত হচ্ছে না।

তবে ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের প্রক্রিয়া আরো সহজ হতে পারে বলে আশা করছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার প্রত্যাশা, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তা নিশ্চিত করতে সিটি স্ক্যান করা সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষা করানো সহজ হবে এবং আরো বেশি রোগীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যেতে পারে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%