ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভালে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম


দুর্গাপূজা ও বিচ কার্নিভালে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম

শারদীয় দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আবাসন ব্যবসায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

হোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। কিছু হোটেলে ছুটির গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য হোটেলকক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিনের ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল। দীর্ঘ ছুটি এবং উৎসবের কারণে কুয়াকাটায় দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিচ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে সুর ছন্দ সংগীত একাডেমির শারদীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

এদিকে, পর্যটকদের আগমন নির্বিঘ্ন করতে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা এবং বিচ কার্নিভাল সফল করতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছোট-বড় ৩০০টির বেশি আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ বাসাবাড়ি হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবাসিক হোটেল সরোয়ার প্যারাডাইসের ব্যবস্থাপক রিপন সাব্বির জানান, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করে কক্ষ চাইছেন, কিন্তু সবাইকে কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল যুবদল নেতা তারেক হোসেন বাপ্পির

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, বছরের যেসব সময়ে কুয়াকাটায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসেন, দুর্গাপূজার সময় তার অন্যতম। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ এখনো ফাঁকা রয়েছে। তিনি আশা করছেন, দুর্গাপূজা এবং কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।

কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের আরো দুই শতাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বন বিভাগের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে আবাসিক হোটেল থেকে ইয়াবাসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ এম


ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই

ধূমপান না করলেও, ফুসফুসে ক্যানসারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের। বংশগত বৈশিষ্ট্য, বিরল জিনগত পরিবর্তন এবং পরিবেশের বিষাক্ত উপাদান এই ঝুঁকিকে বাড়াতে পারে। সম্প্রতি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিও। পোপের ধূমপানের অভ্যাস বা অতীতে ধূমপানের ইতিহাস জানা যায়নি। অস্ত্রোপচারের পর টিস্যু পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। পোপের অসুস্থতা আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—ধূমপান না করেও কেন ফুসফুসের ক্যানসার হয় এবং কারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে?

ভ্যাটিকান মঙ্গলবার জানায়, নির্ধারিত অস্ত্রোপচারের পর পোপের ফুসফুসে অ্যাডেনোকার্সিনোমা শনাক্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডান ফুসফুসের নিচের খণ্ডটি অপসারণ করা হয়। পরে ওই টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যানসার নিশ্চিত করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে করা পরীক্ষাতেও ক্যানসারের সন্দেহ দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছে হলি সি প্রেস অফিস।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের ক্যানসারে মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী ধূমপান। তবে ধূমপান একমাত্র কারণ নয়। কখনো ধূমপান করেননি এমন ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাং ক্যানসার ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ৪০ শতাংশই অ্যাডেনোকার্সিনোমা। ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যে এটি ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত মোফিট ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ল্যারি রবিনসন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ ধূমপায়ী অথবা অতীতে ধূমপান করেছেন। তবে কখনো ধূমপান করেননি এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও এ রোগ দেখা যায়। তাদের মধ্যে আক্রান্ত পুরুষের হার আনুমানিক ১০ শতাংশ এবং নারীর হার ২৫ শতাংশ।

পোপের চিকিৎসা করেননি রবিনসন। তবে তার মতে, পোপের ফুসফুসে পাওয়া গাঁটটি ক্যানসারযুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের একটি খণ্ড অপসারণের সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা যায়, রোগটি সম্ভবত একটি নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্যানসার প্রথম পর্যায়ে থাকলে নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তবে তা টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে। পোপের ক্যানসার কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পর আরো চিকিৎসা লাগবে কি না, তা জানতে টিস্যুর বিস্তারিত পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

রবিনসনের মতে, টিউমার যত বড় হয়, ক্যানসার অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছানো বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তত বাড়ে।

ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে বাড়ে ঝুঁকি

ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি শুধুমাত্র ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। পারিবারিক ইতিহাস, জিনগত পরিবর্তন এবং পরিবেশের বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শও এ রোগের কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ইজিএফআর টি৭৯০এম নামের একটি বিরল জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।

যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের মধ্যে এই জিনগত পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিবর্তনটি নেই—এমন ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৬২ গুণ বেশি।

এ ছাড়া সিগারেটের পাশাপাশি পাইপ ও চুরুটের মতো তামাকজাত দ্রব্য সেবন এবং অতিরিক্ত গাঁজা সেবনও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে জানান রবিনসন। ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া ও রেডনের মতো পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শও ঝুঁকির কারণ।

ধূমপান না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হয়। রবিনসনের ভাষ্য, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত অধূমপায়ীদের অর্ধেকের বেশি রোগী চতুর্থ পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। ধূমপায়ী বা সাবেক ধূমপায়ীদের তুলনায় তাদের রোগ শনাক্তের সময় অবস্থা বেশি জটিল হতে পারে।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না

ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। ফলে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে লক্ষণ দেখা দিলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার মতো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান রবিনসন।

তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার তুলনামূলক বিরল। তাই সবার জন্য নিয়মিত সিটি স্ক্যানের সুপারিশ করা হয় না। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ৫০ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ধূমপায়ী, যাদের ধূমপানের ইতিহাস অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার। প্যাক-ইয়ার দিয়ে ধূমপানের পরিমাণ ও সময়কাল বোঝানো হয়। যেমন—২০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়া বা ১০ বছর ধরে প্রতিদিন দুই প্যাকেট খাওয়া—দুটিই ২০ প্যাক-ইয়ারের সমান। এ ছাড়া যারা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন, তারাও উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে পড়েন।

রবিনসন বলেন, পরীক্ষার যোগ্য ব্যক্তিদের মাত্র ১৫ শতাংশের মতো নিয়মিত এ পরীক্ষা করান। ফলে ঝুঁকিতে থাকা অনেকেরই সময়মতো রোগ শনাক্ত হচ্ছে না।

তবে ভবিষ্যতে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তের প্রক্রিয়া আরো সহজ হতে পারে বলে আশা করছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার প্রত্যাশা, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসারের সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর তা নিশ্চিত করতে সিটি স্ক্যান করা সম্ভব হবে। এতে পরীক্ষা করানো সহজ হবে এবং আরো বেশি রোগীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যেতে পারে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার আকাশ মেঘলা, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; গরম বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


ঢাকার আকাশ মেঘলা, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই; গরম বাড়ার আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে দুপুরের পূর্ব পর্যন্ত আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে যে, বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। সংস্থাটি আরও পূর্বাভাস দিয়েছে যে, গরমের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে পারে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য এই পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। পাশাপাশি আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আরও জানানো হয়েছে, উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৭০ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৩ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল উপজীব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


প্রধানমন্ত্রী: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল উপজীব্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল উপজীব্য। তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মের অন্যতম মূল শিক্ষা। ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ স্থাপন ও রক্ষা করা সবার জন্য জরুরি।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, হিন্দু ধর্মমতে দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন জগতের মঙ্গল কামনায় এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা প্রদান করেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করছে এবং করবে। এটি বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা আমাদের অঙ্গীকার। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ।

সবশেষে বাণীতে সরকার প্রধান বলেন, ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন। আপনাদেরকে আবারও শুভেচ্ছা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সুযোগসন্ধানী মহলের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সুযোগসন্ধানী মহলের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, "সুযোগসন্ধানী মহলের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, পূজা উৎসবকে নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ সার্বিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পূজার নিরাপত্তায় পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। কোথাও কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বা বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। মহাষষ্ঠীর দিন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সম্পর্কে আশ্বস্ত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, "পুলিশের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা। আমরা সর্বদা সতর্ক আছি।" তিনি আরও জানান, সুযোগসন্ধানী মহলের বিরুদ্ধে পুলিশের রয়েছে কড়া নজরদারি।

ডিআইজি প্রথমে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি প্রাচীনতম কালভৈরব মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা আয়োজনকারী কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকীব উর রাজা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল আলম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি সঞ্জিব চন্দ্র সাহা বাপ্পী, জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জীবন ভট্টাচার্য প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%