প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শারদীয় দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির সাথে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আবাসন ব্যবসায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
হোটেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটার প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। কিছু হোটেলে ছুটির গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য হোটেলকক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিনের ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল। দীর্ঘ ছুটি এবং উৎসবের কারণে কুয়াকাটায় দুই থেকে তিন লাখ পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিচ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে।
এদিকে, পর্যটকদের আগমন নির্বিঘ্ন করতে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি সৈকত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুর্গাপূজা এবং বিচ কার্নিভাল সফল করতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছোট-বড় ৩০০টির বেশি আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ বাসাবাড়ি হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আবাসিক হোটেল সরোয়ার প্যারাডাইসের ব্যবস্থাপক রিপন সাব্বির জানান, দুর্গাপূজা, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে ফোন করে কক্ষ চাইছেন, কিন্তু সবাইকে কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, বছরের যেসব সময়ে কুয়াকাটায় সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসেন, দুর্গাপূজার সময় তার অন্যতম। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কক্ষের অগ্রিম বুকিং হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ এখনো ফাঁকা রয়েছে। তিনি আশা করছেন, দুর্গাপূজা এবং কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু জানান, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের আরো দুই শতাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি এবং বিচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বন বিভাগের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। আগত পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন