বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:৪৫ পি.এম
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের টিকিট পায় আলবিসেলেস্তারা। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম এ ঘটনা ঘটে। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পরও রোমাঞ্চকর জয় অর্জন করেছিল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ১৫ জুলাই, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল জয়ের মাস পেরোনোর আগেই ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এএফএ। এ কারণে প্রতিবছর এই দিনটি দেশে বিশেষভাবে পালন করা হবে। বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এএফএ’র নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক বিবৃতিতে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা জানায়, লিওনেল স্কালোনির দল শুরুতে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েনি। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া গোলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দল জয় পায়। সেই ঐতিহাসিক জয় পুরো আর্জেন্টিনা জাতিকে আনন্দাশ্রুতে ভাসিয়েছিল এবং দেশটির লাখো মানুষ রাজপথে নেমে জয়োল্লাসে মেতে উঠেছিলেন। আর্জেন্টিনার সেই জয়ের পরপরই বিতর্কও শুরু হয়, যা গড়ায় ফিফা তদন্ত পর্যন্ত। খেলা শেষে গ্যালারি থেকে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার মাঠে ছুড়ে দেন এক সমর্থক। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো সেটি কুড়িয়ে নেন এবং খেলোয়াড়রা তা উঁচিয়ে ধরে উল্লাস করেন। সেই ছবি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তার অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারান, আর জয় পায় যুক্তরাজ্য। রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক এই সংবেদনশীলতার কারণে ব্যানার কাণ্ড নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানায় ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ চালু করার কথা জানান। এ উদ্যোগটি শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ ঘোষণা তিনি বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজের আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে দেন। এই সম্মেলনটি ক্রস-কালচারাল ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন দেশের গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশগ্রহণ করেন।
উপাচার্য এ সময় বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, যা প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজারের বেশি কলেজ নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করা হয় এবং মনোবিজ্ঞান এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেক দেশবাসী শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
ড. আমানুল্লাহ জানান, বর্তমানে দেশে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড এবং সোশ্যাল সাইকোলজিস্টের তীব্র অভাব রয়েছে। বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য অন্তত ৩০ হাজার মনোবিজ্ঞানীর প্রয়োজন, কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৩০০ জন। এ সংকট কাটাতে প্রত্যেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে কাউন্সেলিং সেবা চালু এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, একাডেমিক বিনিময় এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। শিগগিরই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হবে।
তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়সহ নেপালের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্কভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত স্কলারশিপের সুযোগ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ-নেপালের শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অচ্যুত ওয়াগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রাসেল (১৭) নামে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে।
নিহত রাসেল হলেন ওই এলাকার মো. আবুল কালামের ছেলে এবং তিনি দুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতঘরের মেঝের কাজের জন্য একটি বৈদ্যুতিক মোটর পুকুরে স্থাপন করা হয়েছিল। ওই মোটরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডের সংযোগ দেওয়ার সময় রাসেল অসাবধানবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুধু একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন মো. আবুল কালাম। তিনি বলেছেন, ‘আমার চারটি মেয়ে ও একটি মাত্র ছেলে। সে এ বছর দুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। খুবই মেধাবী ছিল। তাকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
আরো জানা যায়, হাসপাতালে যারা কর্তব্যরত ছিলেন তাদের মধ্যে ডা. মুনতাসীর বিল্লাহ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই রাসেল মারা গেছে।
দুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, রাসেল আমাদের বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত। তার পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।
দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দেওয়ার জন্য তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার ঘটনা ও পেপার স্প্রে প্রয়োগ করার মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষ করার পর এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার সময় রাজধানী ভাটারা এলাকার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার পর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সাথে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামি এবং অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করেন। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে রাস্তা বন্ধ করে ফেলেন। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন, সে কারণে তারা রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গেলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। তারা বিভিন্ন ট্রাক, বালুর ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করেও আসামিদের বাধা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে উক্ত আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৩/১৪৭/১৪৮/৩৪১/৩৪২/৩৪৩/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ এর ১৫(১)বি ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফিরলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জুলাই শহীদদের পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে এই মাধ্যমে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে- একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু, এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
রিজভী এরপর বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে আবার রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে কাজ করতে হবে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে ভাগাভাগি করলে ক্ষতি সবারই হবে। পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটলে এ দেশ চিরদিনের জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হারাবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
এই অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সভাপতিত্বে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মো. কামরুজ্জামান, ফাহিমা নাসিরসহ আরো অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ