১২:০৫ পি.এম
ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই নির্বাচনে কোনো পদে প্রার্থী হচ্ছেন না।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচনকে ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এবং হাজার হাজার রাজ্য পর্যায়ের পদে কারা দায়িত্ব নেবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।
যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে ট্রাম্পের নীতিমালা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে এবং তার প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ওয়াশিংটনে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
২০২৬ সালের নির্বাচনের চিত্র সংখ্যায় তুলে ধরা হলো। প্রতিনিধি পরিষদ : কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে মোট ৪৩৫ আসন রয়েছে। প্রতি দুই বছর পরপর এই আসনগুলোর জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা ২১৮। ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলের তুলনায় অন্তত আরও ৩টি আসন বাড়াতে হবে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু, পদত্যাগ এবং একজনের দল পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট, একজন স্বতন্ত্র সদস্য এবং দুটি শূন্য আসন রয়েছে।
অর্থাৎ, রিপাবলিকানরা নিট দুইটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। তবে তিনটি আসন হারালে তাদের জন্য এটি আর সম্ভব হবে না।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা ইসরাইল, দাবি মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের
সিনেট ও অঙ্গরাজ্যগুলো
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ৩৫ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে নিয়মিত ছয় বছরের মেয়াদ শেষে ৩৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি বিশেষ নির্বাচনও হবে।
বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র সিনেটরকেও ধরা হয়েছে, যারা সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়াতে হবে। ৫০-৫০ সমতা হলে সিদ্ধান্তমূলক ভোট দেবেন রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
আরও পড়ুন: ইতালিতে ১২ বার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
এবারের নির্বাচনে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্গরাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশে গভর্নর নির্বাচন হবে।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নিয়মিত নির্বাচনের আওতায় থাকা আসনের সংখ্যা ৬,১৩৯। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভা কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জনমত জরিপ কী বলছে?
৫৩-৪১ শতাংশ: কংগ্রেসে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪১ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে। ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর পরিচালিত পিবিএস নিউজ/এনপিআর/মারিস্টের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: স্থল অভিযান চালালে ইরান বিদেশি সেনাদের কবরস্থানে পরিণত হবে: আইআরজিসি জেনারেল
একই জরিপে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের ৫৭ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩২ শতাংশ সমর্থন পাওয়া যায়।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার চিত্র
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত কয়েকটি বড় জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩২ থেকে ৪১ শতাংশের মধ্যে ছিল।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, মারিস্টের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ইরানে নতুন হামলার ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, ট্রাম্পের দাবি তিনি কিছুই জানেন না
জরিপগুলোতে ভিন্ন পদ্ধতি ও ভিন্ন ধরনের জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই এসব ফলাফল সরাসরি একে অপরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তবে কোনো জরিপেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এমন চিত্র পাওয়া যায়নি, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় ধরনের বাড়তি সুবিধার ইঙ্গিত দেয়।
৫৫ শতাংশ: এনবিসি নিউজের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৫৫ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে, ২৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এসব নীতি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ছিল।
নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ
প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার: ২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
আরও পড়ুন: এসআইআর বাতিলের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশন অভিযান ঘিরে ফের উত্তপ্ত দিল্লি
বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এটি ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের রেকর্ড ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারকেও ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ের ব্যয়ের চেয়েও এটি বেশি হতে পারে।
৩৩০ মিলিয়ন ডলার: ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাথমিক দলীয় বাছাইপর্বে বিজ্ঞাপনে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে অ্যাডইমপ্যাক্ট জানিয়েছে। এর ফলে নভেম্বরের নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের এই প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল গভর্নর নির্বাচনে পরিণত হয়েছে।
এটি মূল নির্বাচনের আগে কেবল প্রস্তুতিপর্ব ছিল।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের দলীয় প্রাথমিক বাছাইপর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২,৪৯৭। অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের তুলনায় এটি সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ২,২৩২ জন প্রতিনিধি পরিষদের আসনের জন্য লড়ছেন।
আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিনিধি পরিষদের ৪৪টি আসনে ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একই প্রধান দুই দলের প্রার্থীরা এবারও পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছেন।
অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনও হিসাবের মধ্যে ধরলে সারা দেশে এমন ৪৭৪টি নির্বাচনী লড়াই রয়েছে, যেখানে আগের নির্বাচনের একই প্রার্থীরা আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন।
অর্থাৎ, আমেরিকান রাজনীতিতেও হলিউডের মতো পুরোনো লড়াইয়ের ‘সিক্যুয়েল’ দেখতে আপত্তি নেই!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন