০৯:৩৪ পি.এম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নয়, তাদের পরিবারও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, যাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে তারা সেই সুযোগ পাননি। তাই একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।
আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
বিএনপির অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের আহতদের আরোগ্য কামনায় এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। এই পরিবারে কোনো প্রতিহিংসা নেই। কিন্তু এই পরিবারই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, অনেকে বিভিন্ন ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। কিন্তু দেশবাসী গণঅভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
তিনি এ কথাও বলেন, ‘একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে।’
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এবং তিনি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাব এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, সারা জীবন তারা মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি সালাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশের বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন