০৩:২২ এম
বাংলাদেশি পর্যটকদের অভাবে কলকাতার বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোতে ব্যবসায় ধ্বস দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ দুই বছরের বিরতির পর অবশেষে ভারতীয় পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি। কলকাতার তথাকথিত ‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকার ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য পণ্যের দাম ও সেবামূল্য যৌক্তিক ও ন্যায্য রাখার একটি অভূতপূর্ব ঘোষণা করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, গত দুই বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এক ঢিলে পুষিয়ে নেওয়ার আগে ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট, সাডার স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং কলিন স্ট্রিট এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, খুচরা দোকান ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোর মালিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই বাণিজ্যিক অঞ্চলটি মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: বিএনপির দুই সদস্য সিউলে আইসিএপিপি সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগ
সম্প্রতি কলকাতার আতিথেয়তা, পরিবহন, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বাণিজ্য খাতের অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত দুই বছর ধরে চলা চরম অর্থনৈতিক মন্দার পর ব্যবসায়ীদের এই মানসিকতার পরিবর্তনকে ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিসা চালুর খবরের মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলেও ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে অতিরিক্ত দাম বা ভাড়া আদায় করে তারা পর্যটকদের তাড়িয়ে দিতে চান না। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশি পর্যটকদের সামনে অন্য দেশে ভ্রমণের একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান জানিয়েছেন, গত দুই বছর তারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তবে রাতারাতি সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ভাবনা বর্তমানে তাদের নেই। তিনি বলেছেন, "যদি পর্যটকরা এসে দেখেন যে তারা ন্যায্য মূল্যে সঠিক সেবা ও পণ্য পাচ্ছেন, তবে তারা বারবার কলকাতায় ফিরে আসবেন এবং অন্যদেরও আসতে উৎসাহিত করবেন। এই দীর্ঘমেয়াদি সুনাম ও সদ্বিচ্ছা সাময়িক আর্থিক লাভের চেয়েও মূল্যবান।"
একই সুর শোনা গেছে ক্যালকাটা হোটেলস, গেস্ট হাউসেস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সম্পাদক আফাক শামিমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, "আমরা বাংলাদেশি পর্যটকদের কলকাতায় আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি এবং অতীতের মতোই ন্যায্য মূল্যে সেরা সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণকর এই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য।"
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার কারণে ভারতীয় পর্যটন ভিসা স্থগিত করা হয়েছিল। যার ফলে কলকাতার এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছিল। যে হোটেল কক্ষগুলোর ভাড়া আগে প্রতি রাতে প্রায় ২,০০০ রুপি ছিল, পর্যটক সংকটে তা কমিয়ে ৯০০ থেকে ১,০০০ রুপি করতে বাধ্য হন মালিকরা। তারপরও হোটেলগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে থাকত।
আরও পড়ুন: টেস্ট ড্রাইভের নামে মোটরসাইকেল নিয়ে উধাও, সন্দেহে গণপিটুনির শিকার সিয়াম
একইভাবে, কলকাতার বিখ্যাত নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বিক্রির একটি বড় অংশ বাংলাদেশিদের হাত ধরে আসছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই ‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকাতেই গত দুই বছরে ১,০০০ কোটি রুপি লোকসান হয়েছে।
এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে ‘মিনি বাংলাদেশ’ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রধান লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র ব্যবসার পরিধি বাড়ানো নয়, বরং কলকাতাকে আবারও একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও বন্ধুবৎসল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন: সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবুর এপিএস ওয়ালী উল্লাহ গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন