০৩:৫৭ পি.এম
দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার শিলংদহ-গুড়পিপুলের প্রায় সোয়া দুই কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ন গ্রামীণ সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। এর ফলে, বছরের ছয় থেকে সাত মাস কাদামাটিতে একাকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ হলো, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটির পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে এবং মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি ও শিশুদের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এই সড়কটির মাধ্যমে শিলংদহ, গুড়মা, আড়ংগাইল, ক্ষীরশিন, গুড়পিপুল, দোগাড়িয়া সহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের চলাচল হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
এ ছাড়াও, এই সড়কটি ব্যবহার করে শিলংদহ, গুড়মা ও ক্ষীরশিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৬০ থেকে ৩৮০ শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। একইভাবে, গুড়পিপুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ জন এবং আড়ংগাইল দাখিল মাদ্রাসার প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।
শিলংদহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, এই সড়ক দিয়েই এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য গুড়পিপুল, কাঁটাগাড়ি, গুল্টাসহ আশপাশের কয়েকটি হাট-বাজারে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
দোগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষক তাজআমিন বলেছেন, প্রায় এক মাস ধরে টানা বৃষ্টির কারণে শিলংদহ-গুড়পিপুল সড়কে হাঁটুসমান কাদা জমে আছে। ফলে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না, এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না।
ক্ষীরশিন গ্রামের কৃষক অনিমেষ সিং প্রকাশ করেছেন, ধান বিক্রি করতে না পেরে বহু কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সীমা বালা, পারুল খাতুন, রিপন সিং, পবন চন্দ্র এবং অকিল চন্দ্র মাহাতোসহ আরও অনেকেই জানিয়েছেন, কাঁচা সড়কের কারণে কাদামাটি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় বিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছাই করে না। উপজেলায় অনেক সড়ক পাকা হলেও আমাদের এই সড়কের দুরবস্থা কারো নজরে পড়ছে না। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হচ্ছে।
এদিকে এলাকার শিক্ষক আব্দুল হান্নান, গ্রামপ্রধান আব্দুল মালেকসহ স্থানীয়রা বলেছেন, সড়কটি পাকাকরণের দাবিতে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক জানিয়েছেন, সড়কটি পাকাকরণে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে সড়কটি পাকাকরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন