শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০১ পি.এম
বগুড়ার একটি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস প্ল্যান্টে বিকট বিস্ফোরণের ফলে অটোরিকশাচালকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার সময় গ্যাস নিতে আসা কয়েকটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দের কারণে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বগুড়ার শহরতলীর তিনমাথা এলাকায় অতিথি ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের ফলে ফিলিং স্টেশনের গ্যাস প্ল্যান্টের ছাউনি সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নিরাপত্তাদেয়াল, ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের কারণে কয়েকটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা সোয়া একটার দিকে গ্যাস প্ল্যান্টের ভেতরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তখন সেখানে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা গ্যাস নিচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে চালকসহ পাঁচজন আহত হন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অটোরিকশা চালকসহ তিনজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান, গ্যাস রিফিলের স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিথি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, কীভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জাতীয় ক্রীড়া আইন মেনে চলতে রাজি নয়। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছে কেন বিসিসিআই অন্যান্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির মতো কেন্দ্রীয় সরকারের আইন মানবে না। বোর্ড তাদের অবস্থানের পক্ষে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেছে। কিছু বিষয় নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
বিসিসিআই কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল নয়, যা অন্যান্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বরং, তারা সরকারকে কর বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করে। বিসিসিআই একটি স্বশাসিত সংস্থা হিসেবেও পরিচিত। তবে, জাতীয় ক্রীড়া আইনের আওতায় থাকতে তাদের আপত্তি নেই।
শুক্রবার বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সচিব দেবজিৎ শইকীয়া বলেছেন, "আমরা নিয়মিত কর দেই। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কর দেয় বিসিসিআই। বার্ষিক সাধারণ সভায় আমরা এই তথ্য জানিয়েছি। এই তথ্য প্রকাশ করার পর উপস্থিত প্রতিনিধিরা হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।"
বোর্ড সচিব আরও জানিয়েছেন, "ক্রীড়া আইন সম্পর্কে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেক কাজ করতে হবে। সেই কাজগুলো হওয়ার পর বিসিসিআই আইনের আওতায় এলে, সেটা স্বীকৃতি দিতে হবে। তার জন্য আবার একটা বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। তার আগে পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই। সেই বিজ্ঞপ্তি পেলেই আমরা কাজ শুরু করে দেব। আমরাও নতুন ক্রীড়া আইন অনুযায়ী কাজ করব। সুপ্রিম কোর্টে যে আলোচনা হয়েছিল, তেমন কিছুই এখনও পর্যন্ত হয়নি। আগামী ২৭ অক্টেবর পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিন আমরা আদালতকে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেব।"
শইকীয়া উল্লেখ করেছেন, বিসিসিআই যেহেতু কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল নয় এবং বোর্ডের কাছ থেকেই সরকার আয় করে, তাই বর্তমান আইন মেনে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা সংশোধন হলে বোর্ডের আইন মানতে সমস্যা নেই। অন্য খেলার জাতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে বিসিসিআই নিজেকে এক পঙ্ক্তিতে বসাতে রাজি নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, সরকার অবশেষে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে গেছে।
নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই। এই তারিখ থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধা নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ১ জুলাই থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত আহরিত বিশেষ সুবিধা আদেশের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
তবে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীরা অবসরোত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বিশেষ সুবিধা পেতেন, সেই হারে সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৫টি। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন এবং নারী শিক্ষক ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭০ জন।
এদিকে, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত আরও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের আগামী ১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাটের দক্ষিণে নীড বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ বাবুলকে স্থানীয়রা প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসির উদ্দীন বাবুল মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ভাই। সম্প্রতি স্থানীয় এক পুলিশ সদস্যকে অপহরণের মামলায় আব্দুল করিম আটক হওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে বাবুলের ওপর কারা এবং কী কারণে হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মামলা বা কাউকে আটকের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন হালদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠকের সময় জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—মো. শিহাব উদ্দিন (৩২), মারজুক আহমেদ (২৬), সাইফুর রহমান খান (৩২), মো. রাম্মি মিয়া (২৯), মো. কামিছুল ইসলাম (৩৬), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২), আফিফ আহমেদ (২০), মো. মোহাইমিনুল হক (২৭), জাওজি চৌধুরী (১৯), শাহাদাত হোসেন (২৫), সাব্বির আহমোদ (২৬) ও জুনায়েদ আহমেদ (২১)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামিরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছেন এবং জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহ করছেন। তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সে তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ-উর-রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়ানো এবং বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন যুবক তেজগাঁও কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আবেদনে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই গ্রুপের মাধ্যমে তারা উগ্রবাদী কথাবার্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করতেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সাইবার তথ্য বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত এবং উগ্রবাদী কার্যক্রমের অর্থের উৎস ও অর্থদাতাদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ