মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম):
০৬:০০ এম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চর খলিশাকুড়ি এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৫ ফুট উচ্চতার একটি পরিপক্ব গাঁজাগাছ, গাঁজা সেবনের সরঞ্জামসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মো. মজনু আলম (৫৫)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে ডাকাতদের কোপের আশোষনায় শাহজাহান মিয়া (৫০) নামক এক গৃহকর্তা নিহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে মাধবদী থানায় অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক এই তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ডাকাতদের মধ্যে রয়েছে- জুবায়ের হোসেন, আশিক আহমদ, মুজাহিদ রহমান অপু, মো. সুজন মিয়া, মো. ফারুক মিয়া, রোমান মিয়া ও হৃদয় মিয়া। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই দিবাগত রাতে মাধবদীর বলভদ্রদী এলাকায় ডাকাতির এই ঘটনাটি ঘটেছিল।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাতির এবং চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার সাথে যুক্ত এই ইস্যুর প্রেক্ষিতে নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা শহরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছয়তলা ভবনের একটি লিফটে আটকা পড়া সাত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
এটি ঘটে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল প্রায় পৌনে ১১টার দিকে, যখন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভবনের চতুর্থ তলায় লিফটটি আটকে পড়ে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন— মেহেদী হাসান (১৯), রিফাত (১৬), শুভ (১৬), মৌন (১৭), শ্রাবণ (১৮), পায়েল (১৭) ও সিয়াম (১৭)। তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ভবনটিতে গিয়েছিলেন।
নেত্রকোণা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খানে আলম খান জানান, খবর পেয়ে তার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হাইড্রোলিক স্প্রেডার ব্যবহার করে লিফটের দরজা খুলে ভেতরে আটকে থাকা সাত শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বের করে আনেন। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও জানান, লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছিল। তবে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ আহত হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি এ নিয়ে কড়া বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, “দেখতে চাই আপনার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কত রক্ত ঝরাতে পারেন।”
দক্ষিণাঞ্চলের জুলাই পদযাত্রার রোডম্যাপ অনুযায়ী, বুধবার মৌলভীবাজার জেলার দুটি পদযাত্রা সাময়িক স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, “পদযাত্রার পরিবর্তে আগামীকাল (বুধবার) বিকেল ৩টায় হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ওপর বিএনপির ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হবে।”
তিনি জানান, ওই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
এছাড়া এনসিপির উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহও এতে উপস্থিত থাকবেন।
সারজিস আলম আরও লেখেন, “এছাড়াও কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।”
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “জনাব তারেক রহমান, আমরাও দেখতে চাই—আপনি আপনার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কত রক্ত ঝরাতে পারেন, কত কিশোরের চোখ উপড়ে ফেলতে পারেন, কত মানুষের জীবন নিতে পারেন! দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে স্থানীয়দের নির্বাচন বর্জন আন্দোলন দমনে পাকিস্তানি বাহিনী ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিতে অন্তত ২০ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন, এছাড়াও ৫০ জনেরও বেশি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাওয়ালাকোটের দ্রিক এইথ এলাকায় প্রশাসন কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই সমবেত জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর চেষ্টা করছে।
কাশ্মিরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া অন্তত ২০ আন্দোলনকারীকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) মূল কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মিরির ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন।
গত ৫ জুন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে শুরু হওয়া নির্বাচনবিরোধী বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর সহিংসতায় মোট ৮০ জন নিহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করছে। অস্থিরতার সময় আন্দোলনকারীদের মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় দেখা যায়।
অধিকৃত কাশ্মিরের প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাওয়ালকোটে লাশ এবং আহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে গেছে। তিনি দৃঢ়ভাবেお願いします যে, সৃষ্টিকর্তার দোহাই, এই মুহূর্তে আমাদের পাশে দাঁড়ান; দয়া করে আমাদের সহায়তা করুন।
তিনি বলেন, আমি অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছি। এত ভাইকে শহীদ হতে দেখে নিজের জীবন নিয়ে আর পরোয়া করি না। হাত জোর করে আপনার কাছে মিনতি করতে এখানে এসেছি। দয়া করে আপনাদের বিবেককে জাগ্রত করুন; আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাদের সহায়তা করুন। আমরা শান্তিকামী মানুষ। অসংখ্য মরদেহ, অগণিত আহত ব্যক্তি। লাশ বইতে বইতে আমাদের কাঁধ অবশ হয়ে গেছে।
দলটি অভিযোগ করছে যে, ওই অঞ্চলে চলমান আইনসভা নির্বাচন বয়কটের প্রচারণায় নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (এএসি) সদস্যদের পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
সোমবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পুরো অঞ্চলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠন করতে ইসলামাবাদ থেকে ১৪ হাজারের বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্যকে কাশ্মিরে মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে স্নাইপারদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ইন্দো-এশীয় নিউজ সার্ভিসের (আইএএনএস) এক প্রতিবেদনে বলেন, কিছু সপ্তাহের ধরে চলা বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে ভিন্নমত দমনের জন্য নির্বাচন বয়কটকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের জনগণের ওপর চরম বল প্রয়োগের পাশাপাশি প্রশাসন ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা স্থগিত করেছে। এছাড়া, অঞ্চলের বেশ কিছু অংশে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
• অধিকৃত কাশ্মিরের নির্বাচন
পাক-অধিকৃত কাশ্মিরের ৪৫টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে, যাতে সরাসরি ৪৫টি আসনে নির্বাচন হয় এবং ৮টি আসন নারীদের, বিশেষজ্ঞ ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের জন্য সংরক্ষিত।
সোমবার সেখানে মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। মোজাফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনসহ শরণার্থীদের ১২টি আসনে আগামী ২ আগস্ট এবং পুঞ্চ বিভাগের ১১টি আসনে ১০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: আইএএনএস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ