ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হুথিরা সউদীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফল হামলা চালাচ্ছে


হুথিরা সউদীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সফল হামলা চালাচ্ছে

সউদী আরবের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'সউদী আরামকো'-র প্রধান কার্যালয়ে একের পর এক সফল হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক এসব ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ হাব হয়ে ওঠার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বছরের সংঘাত, অস্ত্র জব্দকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী কীভাবে এত আধুনিক ও উন্নত সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সউদী আরবের পক্ষে এই বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে:

১. স্থানীয় পর্যায়ে অস্ত্র উৎপাদন: ইয়েমেনি প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়, হুথিরা এখন নিজেরাই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও জোড়া লাগাতে সক্ষম। ফলে, ইরানের সরাসরি সরবরাহের ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকটাই কমে গেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন, শত্রুকে তার ভূখণ্ডেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

২. বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ও প্রযুক্তি: Conflict Armament Research-এর তথ্য অনুযায়ী, হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক সাপ্লাই চেইন ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

৩. আঞ্চলিক যুদ্ধ ও ইন্টারসেপ্টর সংকট: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ও আঞ্চলিক মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে যাওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদি ও অবিরাম আক্রমণ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

অর্থনৈতিক উচ্চাভিলাষের ওপর প্রভাব

এই নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রকেই নয়, বরং সউদী আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ণ ও পর্যটন খাতের পরিকল্পনাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। দেশের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বারবার হামলার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের জনগণের সঙ্গে বিরোধ নেই, নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি

বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়ে বা আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান এবং হুথিদের অস্ত্র ও প্রযুক্তি পাওয়ার পথগুলো বন্ধ করাই এখন রিয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: Modern Diplomacy।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লাটভিয়ায় ইসরাইলি অস্ত্র সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


স্পেনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লাটভিয়ায় ইসরাইলি অস্ত্র সরবরাহ

স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, লাটভিয়াগামী সাঁজোয়া যানে ইসরাইলি অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে একটি স্পেনের অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি। বৃহস্পতিবার গ্লোবস, একটি ইসরাইলি বাণিজ্যিক সংবাদমাধ্যম, এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাটভিয়া গত বছর স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক জেনারেল ডায়নামিকস ইউরোপিয়ান ল্যান্ড সিস্টেমস-সান্তা বারবারা সিস্তেমাস (জিডিইএলএস-এসবিএস) এর কাছ থেকে ৮৪টি পদাতিক যুদ্ধযান কেনার জন্য আদেশ দেয়। এই চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৮০ কোটি ইউরো (৯২ কোটি ৯০ লাখ ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে সব যান সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মেদনিকস নামে পরিচিত এই পদাতিক যুদ্ধযানগুলোতে ইউটি৩০ এমকে২ নামক এক ধরনের চালকবিহীন টারেট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানি এলবিট দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে লাটভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাইভিস মেলনিস মন্তব্য করেন, পদাতিক যুদ্ধযান সরবরাহ দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই যানগুলো লাটভিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, দেশটির জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও ন্যাটোর মিত্রদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও দেশটির তৈরি অস্ত্রব্যবস্থা যুক্ত সামরিক যান লাটভিয়ায় সরবরাহের বিষয়টি স্পেনের অস্ত্র রপ্তানি নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা, পিটিআইর আইনি লড়াই শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৩ পি.এম


পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা, পিটিআইর আইনি লড়াই শুরু

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা জারি করা জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে পেশোয়ার হাইকোর্টে পিটিশনের প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মামলার প্রথম শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চেয়ারম্যান গোহর আলী খান এই আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদে, ১৪ অক্টোবর পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আবেদনে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে, প্রদেশে সেনা মোতায়েন এবং জরুরি অবস্থা জারির পর গৃহীত অন্যান্য আদেশগুলোর বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

মামলার অন্যতম প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডির প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য গঠিত ১১ সদস্যের খাইবার পাখতুনখোয়া উপদেষ্টা পরিষদের গঠন প্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন। এছাড়া, জরুরি অবস্থা জারির পেছনে কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার সমস্ত দালিলিক প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপনের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।

পিটিআইয়ের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, সংবিধানের ২৩২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের ক্ষমতা প্রাদেশিক পরিষদের কাছে হস্তান্তরের আগে যে বাধ্যতামূলক পূর্ব রেজুলেশন প্রয়োজন ছিল, তা মানা হয়নি। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্র এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নীতির পরিপন্থী। তাছাড়া, আদেশে যুদ্ধ বা বাহ্যিক আগ্রাসনের মতো কোনো গুরুতর জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ নেই এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের যে কথা বলা হয়েছে, তার পেছনেও কোনো বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তি ছিল না।

একই দিনে (২০ অক্টোবর) ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের নেতা মহসিন দাওয়ার এবং বুশরা গোহারের করা একটি যৌথ রিট পিটিশনেরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তারা ১১ অক্টোবরের প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশটিকে বেআইনি ঘোষণা করার এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। সোর্স: ইউএ নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন বৈঠকে কারিগরি শিক্ষা ও চীনা ভাষা প্রসারে সহযোগিতার অঙ্গীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন বৈঠকে কারিগরি শিক্ষা ও চীনা ভাষা প্রসারে সহযোগিতার অঙ্গীকার

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং সারা দেশে মানসম্মত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রসারিত করা।

বৈঠকে দুই দেশ চীনা মানদণ্ডভিত্তিক ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং সারা দেশে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণসহ শিক্ষা সহযোগিতার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একমত হয়েছে।

গতকাল রাতে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ইউ ইউনফেং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের উপমহাপরিচালক লিউ ইয়ং এবং কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক চি ইয়ানওয়েই।

শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বৈঠকে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি চীনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার আহ্বান জানান, যাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চীনা মানদণ্ড ভিত্তিক ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যায়।

শিক্ষামন্ত্রী বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— চীনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, সকল কারিগরি কলেজে “চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন” বিশেষ কোর্স চালু করা এবং সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চীনা ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন শিক্ষামন্ত্রীর এসব প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে চীনের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে টিভিইটি সংস্কার, স্মার্ট ক্লাসরুম নির্মাণ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে চীন সরকার পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।

শিক্ষা সহযোগিতার ৯টি প্রধান ক্ষেত্র:

১. কারিগরি শিক্ষা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় দক্ষতা সনদায়ন অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ টিভিইটি দল’ গঠন করা হবে।

২. চীনের কারিগরি সহায়তা, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা ও শিল্পখাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে মডেল প্রদর্শনী (ডেমনস্ট্রেশন) টিভিইটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৩. চীনা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে বিদ্যমান কারিগরি কলেজসমূহের সার্বিক মান ও পদ্ধতিগত মূল্যায়ন করে উন্নয়ন ঘটানো হবে।

৪. চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সরাসরি শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদার করা হবে।

৫. প্রকৌশল, উৎপাদন, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সেবাখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশব্যাপী সমন্বিত “চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা” প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

৬. পেশাগত প্রশিক্ষণ, আনুষ্ঠানিক সনদ, শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

৭. বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরতদের জন্য বার্ষিক শিক্ষক বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে।

৮. দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বহুগুণ সম্প্রসারণ করা হবে।

৯. গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সহযোগিতার প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই গৃহীত এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নের সুদৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিপোর্ট :

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


নেত্রকোণায় গুলি করে সাংবাদিক হত্যা, সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ

বাংলাদেশের নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৷ সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

নিহত সাংবাদিকের নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির৷ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়৷

কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন৷ ‘ডিটেক্টিভ আর্টিকেল’--এ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন তিনি৷

গতকাল রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।


সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া বলেন ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত।এছাড়াও সরকারি দলের নেতা কর্মীদের দ্বারা হামলা মামলার শিকার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যমকর্মীরা। তাই প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের করে বিচারের দাবি জানান ৷

তিনি আরও বলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের ওপর গত বছরের ১০ নভেম্বরও দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে হামলা হয়েছিল৷ সেবার দৃর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল৷

বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেছেন, ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত। গণতান্ত্রিক উত্তরণ সত্ত্বেও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্ম স্থান তৈরি হয়নি এটাই সবচেয়ে হতাশার। তাই সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের যে দাবি দাওয়া বতর্মান সরকারের কাছে পেশ করেছেন তা মেনে নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা হউক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%