শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৩ পি.এম
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা জারি করা জরুরি অবস্থা এবং গভর্নরের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে পেশোয়ার হাইকোর্টে পিটিশনের প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মামলার প্রথম শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চেয়ারম্যান গোহর আলী খান এই আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে, ১৪ অক্টোবর পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আবেদনে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে, প্রদেশে সেনা মোতায়েন এবং জরুরি অবস্থা জারির পর গৃহীত অন্যান্য আদেশগুলোর বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
মামলার অন্যতম প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডির প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য গঠিত ১১ সদস্যের খাইবার পাখতুনখোয়া উপদেষ্টা পরিষদের গঠন প্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন। এছাড়া, জরুরি অবস্থা জারির পেছনে কী ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার সমস্ত দালিলিক প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপনের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।
পিটিআইয়ের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, সংবিধানের ২৩২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের ক্ষমতা প্রাদেশিক পরিষদের কাছে হস্তান্তরের আগে যে বাধ্যতামূলক পূর্ব রেজুলেশন প্রয়োজন ছিল, তা মানা হয়নি। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্র এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের নীতির পরিপন্থী। তাছাড়া, আদেশে যুদ্ধ বা বাহ্যিক আগ্রাসনের মতো কোনো গুরুতর জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ নেই এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের যে কথা বলা হয়েছে, তার পেছনেও কোনো বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তি ছিল না।
একই দিনে (২০ অক্টোবর) ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের নেতা মহসিন দাওয়ার এবং বুশরা গোহারের করা একটি যৌথ রিট পিটিশনেরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তারা ১১ অক্টোবরের প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশটিকে বেআইনি ঘোষণা করার এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন। সোর্স: ইউএ নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং সারা দেশে মানসম্মত প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রসারিত করা।
বৈঠকে দুই দেশ চীনা মানদণ্ডভিত্তিক ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন এবং সারা দেশে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণসহ শিক্ষা সহযোগিতার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একমত হয়েছে।
গতকাল রাতে চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাষা শিক্ষা ও সহযোগিতা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ইউ ইউনফেং, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের উপমহাপরিচালক লিউ ইয়ং এবং কারিগরি ও প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা বিভাগের উপমহাপরিচালক চি ইয়ানওয়েই।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বৈঠকে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি চীনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার আহ্বান জানান, যাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চীনা মানদণ্ড ভিত্তিক ডিপ্লোমা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— চীনা সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, সকল কারিগরি কলেজে “চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন” বিশেষ কোর্স চালু করা এবং সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চীনা ভাষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।
চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইয়ৌছুন শিক্ষামন্ত্রীর এসব প্রস্তাবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক শিক্ষা কাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে চীনের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে টিভিইটি সংস্কার, স্মার্ট ক্লাসরুম নির্মাণ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন এবং জাতীয় পর্যায়ে চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণে চীন সরকার পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।
শিক্ষা সহযোগিতার ৯টি প্রধান ক্ষেত্র:
১. কারিগরি শিক্ষা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় দক্ষতা সনদায়ন অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ টিভিইটি দল’ গঠন করা হবে।
২. চীনের কারিগরি সহায়তা, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা ও শিল্পখাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে মডেল প্রদর্শনী (ডেমনস্ট্রেশন) টিভিইটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
৩. চীনা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে বিদ্যমান কারিগরি কলেজসমূহের সার্বিক মান ও পদ্ধতিগত মূল্যায়ন করে উন্নয়ন ঘটানো হবে।
৪. চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশের কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সরাসরি শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদার করা হবে।
৫. প্রকৌশল, উৎপাদন, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সেবাখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশব্যাপী সমন্বিত “চীনা ভাষা + কারিগরি দক্ষতা” প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
৬. পেশাগত প্রশিক্ষণ, আনুষ্ঠানিক সনদ, শিল্পকারখানায় ইন্টার্নশিপ এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।
৭. বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরতদের জন্য বার্ষিক শিক্ষক বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে।
৮. দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক বিনিময় এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বহুগুণ সম্প্রসারণ করা হবে।
৯. গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সামগ্রিক সহযোগিতার প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই গৃহীত এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নের সুদৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন৷ সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
নিহত সাংবাদিকের নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির৷ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়৷
কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনাই গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। এছাড়া ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজও পরিচালনা করতেন৷ ‘ডিটেক্টিভ আর্টিকেল’--এ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন তিনি৷
গতকাল রাত ৮টার দিকে একটি দোকানে বসে অন্যদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া বলেন ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত।এছাড়াও সরকারি দলের নেতা কর্মীদের দ্বারা হামলা মামলার শিকার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যমকর্মীরা। তাই প্রতিটি ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। যারা অপরাধের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের করে বিচারের দাবি জানান ৷
তিনি আরও বলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের ওপর গত বছরের ১০ নভেম্বরও দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর তীরে তেরিবাজার ঘাটের কাছে হামলা হয়েছিল৷ সেবার দৃর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছিল৷
বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ৷
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেছেন, ‘‘সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও ভয়াবহ আঘাত। গণতান্ত্রিক উত্তরণ সত্ত্বেও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্ম স্থান তৈরি হয়নি এটাই সবচেয়ে হতাশার। তাই সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের যে দাবি দাওয়া বতর্মান সরকারের কাছে পেশ করেছেন তা মেনে নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা হউক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান কক্সবাজারের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে সংবাদমাধ্যমে ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় থাকলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।"
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দৈনিক কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, "কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এ জেলার উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা এবং ইতিবাচক দিকগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।" তিনি আরো বলেন, "এতে পর্যটকদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আগামী পর্যটন মৌসুম ও শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, "সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ।" তিনি বলেন, "বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অনিয়ম-অসংগতি চিহ্নিত করা এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।" কক্সবাজারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা ও অনিয়মের বিষয়গুলোও যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে জেলার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, অধ্যাপক আজিজুর রহমান, সফওয়ানুল করিম ও সাংবাদিক শামসুল হক শারেক।
বক্তারা বলেন, "স্থানীয় উন্নয়ন, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।" তারা যোগ করেন, "দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে কক্সবাজারের সম্ভাবনা, সমস্যা ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।"
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দৈনিক কালবেলার কক্সবাজার প্রতিনিধি এম আর মাহবুব। এতে স্থানীয় সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে কেক কেটে দৈনিক কাল বেলাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ও পাঁচন্দর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসব ঝটিকা মিছিল বের হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে। আকস্মিকভাবে অনুষ্ঠিত এসব মিছিলের কারণে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কয়েক মিনিট স্থায়ী এসব ঝটিকা মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা দ্রুত সটকে পড়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিকভাবে মশাল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সরকারবিরোধী ও দলীয় স্লোগান দেন।
রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বের হওয়া পৃথক দুটি মিছিল কলমা ও পাঁচন্দর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয় এবং এরপর অংশগ্রহণকারীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ