ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রশান্ত মহাসাগরে দুই মাসের বেশি ভেসে থাকার পর নাবিক ও তার কুকুর উদ্ধার


প্রশান্ত মহাসাগরে দুই মাসের বেশি ভেসে থাকার পর নাবিক ও তার কুকুর উদ্ধার

প্রশান্ত মহাসাগরে নিখোঁজ থাকার দুই মাসেরও বেশি সময় পর ৮৬ বছর বয়সী এক নাবিক এবং তার পোষা কুকুরকে উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূল থেকে প্রায় ৪৬০ মাইল দূরে কয়েক দিনের তল্লাশির পর তাদের উদ্ধার করে দেশটির কোস্ট গার্ড। এ খবরটি জানিয়েছে দ্য ডেইলি বিস্ট।

এনডিটিভি জানাচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাবিকের নৌযানটি ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসছিল। এই সময়ে তিনি এবং তার কুকুর স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে আটকা পড়ে যান। তাদের কাছে খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীও খুব বেশি ছিল না। গত ২০ আগস্টের পর থেকে ওই নাবিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

কোস্ট গার্ডের আলামেডা উদ্ধার সমন্বয়কেন্দ্র একটি জরুরি সংকেত পায়। পরে জানা যায়, সংকেত পাঠানোর যন্ত্রটি ‘উইলো উইন্ড’ নামের ওই নৌযানের নামে নিবন্ধিত। উদ্ধার অভিযানে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পণ্যবাহী জাহাজ সহায়তা করে। জাহাজটির কর্মীরা নাবিক এবং তার কুকুরকে নিরাপদে নিজেদের জাহাজে তুলে নেন। পরে চিকিৎসাকর্মীরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন।

আরও পড়ুন: ডিজেল নেই, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও নেই ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনের কার্যপ্রণালী

দুই মাসের বেশি সময় সাগরে আটকে থাকলেও নাবিক এবং তার কুকুরের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। তবে নাবিক কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে কোস্ট গার্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়, নাবিকের হাঁটাচলায় সমস্যা হচ্ছিল। তবে তার শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাত ছিল না। পরে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে স্ক্রিপস মার্সি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার কমান্ড সেন্টারের প্রধান কমান্ডার জেসন নগুয়েন এক বিবৃতিতে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বাণিজ্যিক জাহাজের কর্মী এবং কোস্ট গার্ড সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনা থেকে সমুদ্রে চলাচলের সময় জরুরি যোগাযোগের সরঞ্জাম সঙ্গে রাখার গুরুত্ব বোঝা যায়। একই সঙ্গে সমুদ্রযাত্রার আগে পরিকল্পনা তৈরি করে তা উপকূলে থাকা কাউকে জানিয়ে রাখা জরুরি। এতে যাত্রীর গন্তব্য এবং সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে উপকূলে থাকা ব্যক্তিরা জানতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে প্রকাশ্য পতিতাবৃত্তির বৃদ্ধি, ক্রেতাদের শাস্তির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


জাপানে প্রকাশ্য পতিতাবৃত্তির বৃদ্ধি, ক্রেতাদের শাস্তির দাবি

জাপানের রাজধানী টোকিওর কাবুকিচো এলাকায় প্রকাশ্যে রাস্তায় যৌনসেবা বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এই এলাকার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ার ফলে এ প্রবণতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে যৌনকর্মীরা সহিংসতা ও যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌনসেবার ক্রেতা পুরুষদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে দাবি উঠেছে।

টোকিওর শিনজুকু এলাকার কাবুকিচো রাতের বিনোদন ও পর্যটনের জন্য বিখ্যাত। ‘নিদ্রাহীন শহর’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলে খাবারের দোকান, পানশালা ও কারাওকে কেন্দ্র করে রাতভর মানুষের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে ঝলমলে আলোকসজ্জার আড়ালে এর বিভিন্ন গলিতে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে নারীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

জাপানে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যৌনসেবার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তবে করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর থেকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্রেতা খোঁজার নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জাপানি ভাষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বলা হয় ‘তাচিনবো’, যার অর্থ দাঁড়িয়ে থাকা।

কাবুকিচোতে কতজন নারী এভাবে যৌনসেবা দেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে গত বছর ওই এলাকার একটি পরিচিত পার্কের আশপাশে যৌনসেবা দেওয়ার অভিযোগে ১১২ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ পরিস্থিতিতে জাপান আন্তর্জাতিক যৌন পর্যটনের গন্তব্য হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনপ্রণেতা ও অধিকারকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, বর্তমান আইনে যৌনসেবা বিক্রির দায়ে নারীদের শাস্তির বিধান থাকলেও ক্রেতা পুরুষেরা শাস্তির আওতার বাইরে থাকছেন। ফলে তাদের মধ্যে অপরাধের ভয় কমে যাচ্ছে, যা এ প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।

১৯৫৬ সালের জাপানের পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ আইনে জনসমক্ষে অর্থের বিনিময়ে যোনিপথে যৌনমিলনের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার ইয়েন জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে যৌনসেবা কিনতে যাওয়া পুরুষদের জন্য একই ধরনের শাস্তির বিধান নেই।

কাবুকিচোর রাস্তায় যৌনসেবা নেওয়া ক্রেতাদের মধ্যে বিদেশি পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা এলাকাটির বিষয়ে জানতে পারছেন। পাশাপাশি স্মার্টফোনের অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে ভাষাগত বাধা ছাড়াই নারীদের সঙ্গে সরাসরি দর-কষাকষি করছেন। নিয়ন্ত্রিত যৌনসেবা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি ক্রেতাদের প্রবেশে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রাস্তায় সেই বাধা নেই।

কাবুকিচো এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা তরুণীদের সহায়তা দেওয়া অলাভজনক সংস্থা রেসকিউ হাবের প্রধান আরাতা সাকামোতো বলেন, এ পরিস্থিতির কারণে জাপানের ভাবমূর্তি বদলে যাচ্ছে, যা দুঃখজনক। তবে এটি বিদেশিদের সমস্যা নয়, বরং জাপানি সমাজেরই সমস্যা।

সাকামোতো মনে করেন, যৌনসেবার ক্রেতা পুরুষদের শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান আইনে পুরুষেরা জানেন, তাঁরা কোনো আইনি পরিণতির মুখে পড়বেন না। এ কারণে কেউ কেউ যৌনকর্মীদের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেন, এমনকি যৌন সম্পর্কের দৃশ্য ধারণ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শাস্তির বিধান চালু হলে রাস্তায় যৌনবাণিজ্য আরও গোপন স্থানে চলে যেতে পারে, যা নারীদের ঝুঁকি বাড়াবে।

গত সেপ্টেম্বরে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল আইনে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমান আইনটি ভারসাম্যহীন। যৌনসেবা প্রদানকারীদের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ করা হয়নি। প্রতিবেদনটি বর্তমানে বিচার মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য কাজুনোরি ইয়ামানোইও আইন পরিবর্তনের পক্ষে। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে যৌনসেবা কেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেখানে জাপানে ক্রেতারা নিরাপদে থাকছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও টোকিওতে কম খরচে তরুণীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি প্রচারিত হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কাবুকিচোর বাসিন্দাদের মধ্যেও রাস্তায় যৌনবাণিজ্য নিয়ে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ কর্মকাণ্ড এলাকার পরিবেশ ও সুনাম নষ্ট করছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দাদের সংগঠনগুলো নিয়মিত রাস্তায় টহল দিচ্ছে। জাপানি ও ইংরেজি ভাষায় প্রচার চালিয়ে সেখানে যৌনসেবা বিক্রি বেআইনি বলেও সতর্ক করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় এক কর্মকর্তার মতে, এসব উদ্যোগে তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। যৌনসেবা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টিও বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং গত বছর কাবুকিচোতে ৭৫ নারীকে গ্রেফতারের পর যৌনকর্মীরা এখন শিনজুকু স্টেশনের কাছাকাছি লাভ হোটেলের প্রবেশপথের পাশের সরু গলিগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন। গ্রেফতারের হওয়া নারীদের মধ্যে নয়জন কিশোরীও ছিল।

অধিকারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক ঘণ্টার যৌনসেবার গড় মূল্য ১৫ হাজার ইয়েন বা প্রায় ৯৫ ডলার। তুলনামূলক কম বয়সী কিংবা আকর্ষণীয় নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। সুরক্ষা ছাড়াই যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও বাড়তি অর্থের লেনদেন হয় বলে তাদের দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সরবরাহ চারদিন বন্ধ থাকবে এমন সংবাদ বিভ্রান্তিকর: পেট্রোবাংলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


গ্যাস সরবরাহ চারদিন বন্ধ থাকবে এমন সংবাদ বিভ্রান্তিকর: পেট্রোবাংলা

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : আগামী চার দিন দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা) জনগণের প্রতি বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলস্বরূপ, আগামী চার দিন দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে না। তবে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের সরবরাহ কমে গিয়ে স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে।

পেট্রোবাংলা জানায়, আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে এমন তথ্য দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে যে, এসব তথ্যের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে।

এ পরিস্থিতিতে জনগণকে এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে সৌদি আরামকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে সৌদি আরামকো

নতুন রপ্তানি পথ খুঁজছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কম্পানি সৌদি আরামকো। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনে দ্রুত তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতিও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন এইচ নাসের বিকল্প রপ্তানি পথ এবং বিদেশে অতিরিক্ত তেল মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালাপানি অবকাঠামোয় হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটকে আরো তীব্র করেছে।" এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে।

তবে তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী রয়েছে। তার ভাষ্য, "কর্মীদের নিষ্ঠা, কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা, ব্যবস্থার নমনীয়তা এবং কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা সরবরাহ নেটওয়ার্কের কারণে এ কঠিন সময়েও গ্রাহকদের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, বিকল্প রপ্তানি পথের মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূলে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নাসের উল্লেখ করেন, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ওপর ভর করে অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে সৌদি আরামকো। এর মাধ্যমে বিশ্বের পরিবর্তিত জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য সৃষ্টি অব্যাহত রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাতের কারণে রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ও তেল অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় আরামকোর উৎপাদন কমেছে। বিশেষ করে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি হামলার শিকার হওয়ায় তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে দেশটির পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগর পর্যন্ত তেল পরিবহন করে।

এ পরিস্থিতিতে বিকল্প রপ্তানি পথ তৈরি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে চাইছে সৌদি আরামকো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলফোর ঘোষণা থেকে নাকবা: ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সশস্ত্র তৎপরতা কতটা জানত ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


বেলফোর ঘোষণা থেকে নাকবা: ফিলিস্তিনে ইহুদিদের সশস্ত্র তৎপরতা কতটা জানত ব্রিটেন

ফিলিস্তিনে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রশাসন বিস্তারিত তথ্য জানত। এমনকি এই কর্মকাণ্ডগুলোকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তাও প্রদান করেছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব ব্রিটেনের ন্যাশনাল আর্কাইভসে সংরক্ষিত একসময়কার গোপন গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনে হাগানাহ, ইরগুন ও স্টার্ন গ্যাংয়ের মতো ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা হামলা, হত্যাকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। এসব হামলায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গ্রাম ধ্বংস, নারী ও শিশু হত্যা এবং ফিলিস্তিনের বাইরে ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল।

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস ব্যালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান ঘোষণা করেন। তবে ওই ঘোষণায় স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিদ্যমান অ-ইহুদি জনগণের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না করার শর্তও রাখা হয়েছিল। সে সময় ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার বড় অংশই ছিল অ-ইহুদি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইহুদিবাদী আন্দোলন বেলফোর ঘোষণাকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত ছিলেন না। ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর এমআই৫-এর মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের প্রধান জেমস রবার্টসন এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বেলফোর ঘোষণা ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটেনকে বাধ্য করেনি। তার মতে, ইহুদিবাদী আন্দোলন ঘোষণাটির মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছিল।

রবার্টসন ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ইহুদিবাদী আন্দোলনের তিনটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন—ব্যাপক প্রচার, অনিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনে অভিবাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তার এই মূল্যায়ন থেকে বোঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইহুদিবাদী আন্দোলনের রাজনৈতিক দাবি ও সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

সন্ত্রাসের নিন্দা করলেও সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহ

ব্রিটিশ নথিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের একাংশের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্যার হ্যারল্ড ম্যাকমাইকেল লন্ডনকে জানান, ইহুদি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠন সশস্ত্র হামলার নিন্দা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছিল না।

একই বছরের অক্টোবরে ম্যাকমাইকেল পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তার মূল্যায়ন ছিল, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের ইহুদি জনগণের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহানুভূতি বাড়ছিল। তবে তার এই পর্যবেক্ষণ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়ের সবাই হামলাকারীদের সমর্থন করতেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ব্রিটিশ গোয়েন্দা নথিতে ইরগুনের প্রচারপত্রের কথাও রয়েছে। এসব প্রচারপত্রে ফিলিস্তিনে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা বাড়ে যে, ফিলিস্তিন থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা থামবে না।

ইহুদি এজেন্সির কার্যালয়ে বোমা হামলা নিয়ে প্রশ্ন

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ জেরুজালেমে ইহুদি এজেন্সির সদর দপ্তরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ব্রিটিশ আর্কাইভের নথিতে উঠে এসেছে। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হন। নিহত সবাই ছিলেন ইহুদি। এ ছাড়া ৩৩ জন গুরুতর আহত এবং ৫১ জন সামান্য আহত হন।

ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ হাইকমিশনার স্যার অ্যালান কানিংহামের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে মার্কিন কনস্যুলেটের একটি গাড়ি ইহুদি এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করেছিল। গাড়িটির চালক ছিলেন মার্কিন কনস্যুলেটে কর্মরত ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান আন্তন কামিলো দাউদ। তিনি গাড়িটি চত্বরে রেখে ট্যাক্সিতে করে চলে যান।

ইহুদি এজেন্সির একজন নিরাপত্তাকর্মী গাড়িটি ও চালককে চিনতে পেরেছিলেন বলে তদন্তে জানান। পরে ওই ট্যাক্সিচালক তদন্তকারীদের বলেন, দাউদ তাঁকে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে গাড়িটি সেখানে রেখে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।

ব্রিটিশ তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, ইহুদি এজেন্সি তদন্তে সহযোগিতা করেনি। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাগানাহর সদস্যরা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এজেন্সির চত্বরে প্রবেশ করতে বাধা দেন। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নথিতে উত্থাপিত এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে ব্রিটিশ উদ্বেগ

১৯৪৮ সালের মার্চে এমআই৫-এর পরিচালক পার্সি সিলিটো দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের টনটনে এক গোপন বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, ইহুদি এজেন্সি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে তাদের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। ভবিষ্যতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে এসব প্রতিনিধি কূটনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন, যা বিদেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করতেন, নতুন রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা কাঠামো ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটেনের কৌশলগত স্বার্থের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ১৯৪৮ সালের একটি গোয়েন্দা নথিতে ইহুদি এজেন্সিকে সম্ভাব্য ইহুদি সরকারের মতো একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সেখানে নিজস্ব সামরিক ও রাজনৈতিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর হাগানাহর নজরদারির কথাও উল্লেখ ছিল।

ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা ও বাস্তুচ্যুতির তথ্য ছিল ব্রিটিশদের কাছে

১৯৪৮ সালের এপ্রিল নাগাদ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গ্রামে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিস্তারিত তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে থাকে। ৯ এপ্রিল জেরুজালেমের কাছাকাছি আল-কাস্তাল গ্রামে হামলার বিবরণ দিয়ে একটি বার্তা পাঠান হাইকমিশনার কানিংহাম। এতে বলা হয়, ইহুদিবাদী যোদ্ধারা মর্টার ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে গ্রামটির বাড়িঘরে হামলা চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

পরবর্তী একটি ব্রিটিশ বার্তায় এক ইহুদি মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই হামলায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরো ২০০ জন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

ওই মুখপাত্র আরো স্বীকার করেন, আল-কাস্তালে হামলার বিষয়ে হাগানাহর আগে থেকেই জানা ছিল। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বাইরেও তৎকালীন ট্রান্সজর্ডান পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিটিশ নথিতে তিবেরিয়াস হ্রদের কাছে নাসর আল-দিন গ্রামে প্রায় ২০০ ইহুদিবাদী যোদ্ধার হামলার তথ্যও রয়েছে। ওই ঘটনায় নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। একই বছরের ১৪ এপ্রিল তিবেরিয়াসের একটি ফিলিস্তিনি বাজারে মর্টার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তিনটি বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়।

ইহুদি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরব লিজিয়নের ভূমিকা

ব্রিটিশ আর্কাইভে সংরক্ষিত ১৯৪৮ সালের ২৮ মে তারিখের আরেকটি নথিতে জেরুজালেমের ইহুদি কোয়ার্টারের আত্মসমর্পণের পর সেখানকার ইহুদি বেসামরিক নাগরিক ও বন্দিদের সঙ্গে জর্ডানের আরব লিজিয়নের আচরণের বিবরণ রয়েছে। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর জর্ডানের বাহিনীর কাছে ওই এলাকার আত্মসমর্পণের সময় লিজিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ আল-তাল।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন স্পেনের কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি পাবলো দে আজকারাতে। তার বিবরণ অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের পর ইহুদি বন্দি ও বেসামরিক নাগরিকদের হয়রানি করা হয়নি। আরব সেনারা বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের সহায়তা করেছিলেন। বিচ্ছিন্নভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটলে আরব লিজিয়ন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

আল-তালের ভূমিকার প্রশংসা করে আজকারাতে বলেন, তার নেতৃত্বে পুরো অভিযানে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তার এই সাক্ষ্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। পরে ব্রিটিশ ও মার্কিন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনাটি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেরুজালেমে ব্রিটিশ মিশনের পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন কনস্যুলেটকে আরব লিজিয়নের আচরণ সম্পর্কে জানানোর প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, এ বিবরণ মার্কিন সাংবাদিকদের কাছেও পৌঁছাবে।

নথিতে উঠে আসা ব্রিটিশদের জানা তথ্য

ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ শাসনের শেষ পর্যায়ে ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে ব্রিটিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিক তথ্য ছিল। ব্যালফোর ঘোষণার ব্যাখ্যা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তি, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা, ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ভবিষ্যৎ ইহুদি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ—সবই এসব নথিতে উঠে এসেছে।

১৯৪৮ সালের নাকবার আগে ফিলিস্তিনে কী ধরনের সহিংসতা চলছিল এবং সে সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কতটা অবগত ছিল, তা বুঝতে এসব দলিল গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%