০৭:৩৯ পি.এম
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত সব গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১১ দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট এই জাতিকে আল্লাহ তাআলা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব ও জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুই বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই সময় যে দলটি আমাদের মতোই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল, আজকে তারা ক্ষমতায় আছে। তারা তখন প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল, নির্বাচিত হলে যত হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে সবগুলোর বিচার করবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে।’
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিচার তো তারা করছেই না, বরং আপনারা শুনেছেন চার মাসে ৬০০ জনের অধিক মানুষ নির্মমভাবে বাংলার মাটিতে খুন হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আরো দুঃখজনক, এই দলটি নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরকেই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে? আমরা কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।’
ব্যাংকিং খাত, প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগতদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটাও পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না।’
সংসদে নিজেদের অবস্থানের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রতিটি বিষয়েই সেখানে প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ কিভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণ জানে।’
গাইবান্ধার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ২১ তারিখ, মাত্র দুই দিন আগে গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের একজন তরুণ নেতাকে গলা কেটে স্পষ্ট সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করে মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো আদর্শকে খুন করা যাবে না।’ তিনি বলেন, আপনাদের এক সিনিয়র নেতা ‘নির্মূল’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, ‘অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছে। নির্মূল নির্মূল বেশি করবেন না।’
দেশে চলমান পরিস্থিতিকে ‘ভাইরাস’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদের ভাইরাস, চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস—এসব ভাইরাসমুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।’ এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের আগামী বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘এই বয়সে আমি এবং আমরা পিছিয়ে থাকব না, সম্মুখসারিতে থাকব ইনশাআল্লাহ।’
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন