১০:১৯ এম
ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে রাতের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হতে পারে। নিহত পরিবারের এক সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অডিও বার্তা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), সাত বছর বয়সী মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: গাজায় খাদ্যসংকটে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি, সহায়তা কমছে: ডব্লিউএফপি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তারা নুডলস খান। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হলেও, পরবর্তী তদন্তে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে মহেশের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা অডিও বার্তায় তিনি তার দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে পরিবারের এই পরিণতির জন্য দায়ী করেছেন। এ ঘটনায় তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী নীরজ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের সদস্যরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেট, খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে বিনা খরচে ট্যাক্স ফাইলিং, বাংলায় সহায়তা পাবেন যেভাবে
ওপি সিংয়ের মতে, ঘটনাটি সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ার চেয়ে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা বলেই বেশি মনে হচ্ছে। সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। কিন্তু নিহতদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল।
তবে ঠিক কী কারণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন