ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১২:১৮ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে হানি ট্রাপে ফেলে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং তা ব্যবহার করে অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উত্তর-পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার মো. ফখরুল ইসলাম মিলন চাপরাশির ছেলে মো. সজিব (২৫), একই এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) এবং মারিয়া আক্তার (ছদ্মনাম)। তাদের সবার বাড়ি ভাণ্ডারিয়া থানার এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায় মুন্না (৩৪) কে কৌশলে হানি ট্রাপে ফাঁসানো হয়। পরে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় এবং পরবর্তী সময়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, হানি ট্রাপের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিও ধারণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একজন পাকিস্তানি নারীর আইনি লড়াইয়ের পথে বাধা আসে আদালতের বারান্দায় পৌঁছানোর অনেক আগে। সাধারণত, এই বাধার সূচনা ঘটে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার অনীহা বা অভিযোগ নিয়ে সন্দেহের মাধ্যমে; অথবা ঘরের ভেতরের সহিংসতাকে ‘পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে ধামাচাপা দেওয়ার মানসিকতার মাধ্যমে।
সম্প্রতি, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতাকে দেশের বিচার ব্যবস্থার সামনে নিয়ে এসেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর, আদালত একটি ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে—নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকেও লিঙ্গ-সংবেদনশীল দৃষ্টিতে পরিচালনা করতে হবে।
বিচারপতি মুহাম্মদ হাশিম খান কাকারের নেতৃত্বে দুই বিচারপতির বেঞ্চ রায়ে বলেন, ‘নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা মোকাবেলা করার সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের ভেতর লুকিয়ে থাকা পিতৃতান্ত্রিক ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক সংস্কার কাটিয়ে ওঠার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।’
যদিও সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সূত্র ধরে এসেছে, এর প্রভাব একটি নির্দিষ্ট মামলার চেয়ে অনেক বেশি। রায়টি এমন একটি পুরনো সংস্কৃতিকে সরাসরি আঘাত করেছে, যেখানে ঘরের ভেতরে ঘটে যাওয়া সহিংসতাকে লোকলজ্জা বা সামাজিক গোপনীয়তার অজুহাতে বিচার ব্যবস্থার বাইরে রাখা হতো।
সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের আসল ট্র্যাজেডি শুধুমাত্র একজন নারীকে তার নিজের ঘরে হত্যা করা নয়; বরং ট্র্যাজেডি হলো হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রমাণও সেই চার দেয়ালের ভেতরে গোপনে গোপন করা যায়। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা যেন কোনো অপরাধীর পার পাওয়ার ‘ঢাল’ না হয়, তা নিশ্চিত করাই বিচার ব্যবস্থার আসল দায়িত্ব।
পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে সাধারণ অপরাধের মতো নিরপেক্ষ প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায় না, পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দিতে ভয় পান এবং প্রমাণাদি দ্রুত ধ্বংস করে ফেলা হয়। ফলে, ভুক্তভোগীর অনুপস্থিতিতে একজন নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তাকে সামাজিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের নিরপেক্ষ পুনর্গঠনের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।
জাতিসংঘের ‘ইউএন উইমেন’-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার স্বামীর শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে যে বিপুল পরিমাণ নারী নির্যাতনের শিকার হন, পাকিস্তানের চিত্র তার চেয়ে আলাদা নয়।
হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের (এইচআরসিপি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তথাকথিত ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান সংক্রান্ত সহিংসতায় অন্তত ৪৭০ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের ‘জেন্ডার মেইনস্ট্রিমিং সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি’ নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তদন্তে পুলিশি অবহেলা ও বিলম্বের সমালোচনা করেছে।
তবে, পাকিস্তানে আইনগত কাঠামোর অভাব নেই; অভাব শুধু তা প্রয়োগের। ২০১২ সালের ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষামূলক) আইন’-এর পাশাপাশি পাঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলোচিস্তানে নিজস্ব প্রাদেশিক আইন বিদ্যমান। দেশে অন্তত ৪৮০টি বিশেষায়িত জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স আদালত রয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালেই প্রায় ৪৮ হাজার নতুন মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত আইন থাকা সত্ত্বেও, তদন্তকারীদের ভেতরে চেপে থাকা পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়ই মূল প্রমাণ নষ্ট করে দেয়।
দেশটির বিচার বিভাগেও পুরুষতান্ত্রিক প্রভাব বেশ দৃশ্যমান। ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস কমিশন অব পাকিস্তান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মোট ৩ হাজার ১৪২ জন বিচারক ও বিচারিক কর্মকর্তার মধ্যে নারী মাত্র ১৮ শতাংশ। আর সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টগুলোর উচ্চস্তরের ১২৬ জন বিচারকের মধ্যে মাত্র ৭ জন নারী, যা শতকরা হিসাবে মাত্র ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম নারী বিচারপতি আয়েশা মালিক ২০২৫ সালে এক বক্তব্যে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘দেশে নারী আইনজীবীর সংখ্যা ২৫-২৬ শতাংশ হলেও বিচারক পদে তাদের উপস্থিতি মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি, যা পুরো আইনি পরিবেশকে চরমভাবে পুরুষকেন্দ্রিক করে রেখেছে।’
আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভাষাও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সহিংসতার শিকার নারীর চরিত্র, পোশাক বা আচরণের দিকে আঙুল তুলে প্রায়ই অপরাধীর আসল অপরাধকে ছোট করে দেখার চেষ্টা করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে এই প্রবণতাকে কঠোরভাবে খণ্ডন করে জানিয়েছে, বৈবাহিক সম্পর্ক বা পারিবারিক সম্মানের দোহাই দিয়ে সহিংসতার তদন্তকে শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারির অনুমোদন সরকারী চাপের কারণে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বারবারা সিজার সিয়েরো।
এএফপি-কে বৃহস্পতিবার দেওয়া তার বক্তব্যের পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৫১ বছর বয়সী সিয়েরো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানান, মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে স্বাক্ষর আদায় করতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার দুই ভাই ও এক ভাবিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা সবাই সামরিক বাহিনীর সদস্য।
২০২৩ সালে বিরোধী দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরের বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান মাচাদো। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
শেষ মুহূর্তে তার পরিবর্তে এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে প্রার্থী মনোনীত করে মাচাদোর দল। এর আগে তিনি কূটনীতিক হিসেবে কাজ করলেও সাধারণ মানুষের কাছে তেমন পরিচিত ছিলেন না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও বড় একটি অংশ নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দেয়নি।
সিয়েরো জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার আত্মীয়দের গ্রেফতারের পর তাকে ৯টি আদেশে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে মাচাদোর নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার আদেশও ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, হয়তো আমি স্বাক্ষর করলে তারা তাদের ছেড়ে দেবে। শেষ পর্যন্ত আমি স্বাক্ষর করেছিলাম, কিন্তু তাদের আটকেই রাখা হয়।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ অন্যান্য অভিযোগের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, বিতর্কিত নির্বাচনের বিষয়টিও মাদুরোকে আটক করার অভিযানের অন্যতম যৌক্তিকতা ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার মেক্সিকোর সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে সংঘর্ষের ফলে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের জননিরাপত্তা সচিবালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানায়, ‘কারাগারের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’ তবে সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
এএফপির একজন প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে একটি সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেখেছেন।
সিনালোয়ার জননিরাপত্তা সচিব সিনুহে তেলেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জানান, ‘৯ জন বন্দি এবং কারাগারে দেখা করতে আসা একজন কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া ১৬ জন বন্দি আহত হয়েছেন।’
মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যটি মাদক পাচারকারী সিনালোয়া কার্টেলের পরস্পরবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে— মেক্সিকোর এমন ছয়টি অঙ্গরাজ্যের একটি হলো সিনালোয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের চিত্র ধরা পড়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর তিনি হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যান। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দোকানির সঙ্গে কথোপকথন করেন। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে চলে যান। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ এখনও পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ কারণে নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে তাজমিন কোনো অটোরিকশায় উঠেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমীনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় বেড়ে ওঠা তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে তাজমিন এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে তার বাবা আবদুল আলীম মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন। কিন্তু কল রিসিভ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এদিকে পুলিশি অনুসন্ধানে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব স্থানে তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না এবং জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, "আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। ঘটনার তদন্ত হয়ে দোষীদের শাস্তি হোক, সেটাই চাই।"
লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, "মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।"
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, "সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে হত্যার বিবরণ জানা যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি রেজিস্ট্রেশনকৃত। আমরা সেটির সূত্র ধরে এগুচ্ছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।"
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, "আমরা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ করছি। আশা করি, রহস্য উদঘাটন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ