০৯:৫৪ পি.এম
নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত পদায়ন ও নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সমস্যা সমাধানের জন্য।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত সুপারিশের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন এখনো বিদ্যালয়ে পদায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর ফলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তারা আরও বলেন, অনেক প্রার্থী পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আশায় অনেকেই অন্য চাকরিতে যোগদান করেননি এবং অনেকেই বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস হারিয়ে বেকার হয়ে রয়েছেন। প্রায় ৯ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য ধাপ অতিক্রম করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর বিদ্যালয়ে পদায়নে এত দীর্ঘসূত্রতার নজির কখনও দেখা যায়নি।
নিয়োগ প্রত্যাশীরা জানান, তারা কখনোই প্রশিক্ষণের বিরোধী নন। বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সুপারিশের পর যদি পুনরায় মূল্যায়ন কিংবা বিধিমালাবহির্ভূত নতুন শর্ত আরোপ করা হয়, তবে তা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পদায়নের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান তাঁরা।
এছাড়া, গর্ভবতী এবং সদ্য সন্তান জন্মদানকারী নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দাবিও রাখছেন তাঁরা।
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে বলে উল্লেখ করে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, এ পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে দ্রুত পদায়ন করলে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে গোয়েন্দা রিপোর্ট (এনএসআই রিপোর্ট)-এর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা অতীতের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে দেখা যায়নি।
পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর অতিরিক্ত এই ধাপ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা জানতে চেয়ে তাঁরা বলেন, এটি নিয়োগ কার্যক্রমে আরও বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কিনা, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনটি সুস্পষ্ট দাবি জানান। এর মধ্যে তিনি ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে এবং এনএসআই রিপোর্ট সম্পর্কে স্পষ্ট ও লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেন। এছাড়া, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণাসহ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করার দাবিও জানান।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুপারিশপ্রাপ্তরা জানায়, তারা রাজপথে নয়, শ্রেণিকক্ষে থাকতে চান। কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না করে বরং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতি গঠনের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চান তারা।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন