ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাজার খরচ কমানোর ১০ সহজ কৌশল


বাজার খরচ কমানোর ১০ সহজ কৌশল

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক বাজার খরচ কমানো অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে বাজার খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিয়মিত কেনে এমন চাল, ডাল, মাংস, সবজি ও মসলার ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে কেনাকাটা করলে সাশ্রয় করা যেতে পারে।

১. কম দামের দোকান খুঁজে নিন

আরও পড়ুন: ইসরাইলি আরব কারা, নির্বাচনে তারা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো?

একই পণ্যের দাম সব দোকানে সমান নয়। দুধ, ডিম, চাল, সবজি ও মাংসের মতো নিয়মিত কেনা পণ্যের এককপ্রতি দাম বিভিন্ন দোকানে তুলনা করে কেনাকাটা করা ভালো।

২. দেশি দোকানের দামও তুলনা করুন

বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশি খাবারের দোকানে শাক, করলা, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম তুলনা করে দেখতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব দোকানে বড় দোকানের চেয়ে দাম কম হতে পারে।

৩. সদস্য কার্ড ও ছাড়ের সুবিধা নিন

আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম

অনেক গ্রোসারি দোকানে সদস্য কার্ড বা মোবাইল সুবিধার মাধ্যমে বিশেষ দাম, কুপন ও ছাড় দেওয়া হয়। বাজারে যাওয়ার আগে সপ্তাহের ছাড়গুলো দেখে নিলে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার প্রবণতাও কমে।

৪. মাংস বড় প্যাকেটে কিনে ভাগ করে রাখুন

পরিবারে নিয়মিত মাংস খাওয়া হলে তুলনামূলক বড় প্যাকেট কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে কেনার আগে প্রতি পাউন্ডের দাম, পরিবারের চাহিদা এবং ফ্রিজে জায়গা আছে কি না—এসব হিসাব করা জরুরি।

৫. সরকারি খাদ্য সহায়তার যোগ্যতা যাচাই করুন

আরও পড়ুন: নির্বাচনে পরাজিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন বলসোনারো

আয় ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি এবং নারী, শিশু ও নবজাতকের পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি। এসব সুবিধা পেতে আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।

৬. সপ্তাহের খাবারের পরিকল্পনা করুন

সপ্তাহের শুরুতেই কোন দিন কী রান্না হবে এবং ঘরে কী কী আছে, তা দেখে বাজারের তালিকা তৈরি করুন। একই উপকরণ দিয়ে একাধিক দিনের খাবার তৈরি করলে অপচয় ও অতিরিক্ত কেনাকাটা কমানো সম্ভব।

৭. স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুবিধা নিন

আরও পড়ুন: মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন মামলায় বিচারের মুখোমুখি মেটা ও স্ন্যাপ

যোগ্য হলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকেও বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও বিতরণের নিয়ম আলাদা।

৮. প্যাকেটের দাম নয়, এককপ্রতি দাম দেখুন

চাল, ডাল, লবণ, মসলা, টিস্যু ও অন্যান্য শুকনা পণ্য কেনার সময় শুধু প্যাকেটের দাম দেখলে হবে না। প্রতি আউন্স, পাউন্ড বা এককপ্রতি দাম তুলনা করলে কোন পণ্যটি প্রকৃতপক্ষে সস্তা, তা সহজেই বোঝা যায়।

৯. ছাড়ের খাবার কেনার আগে তারিখ ও মান দেখুন

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ, মেক্সিকোতে স্থায়ী হচ্ছেন অভিবাসীরা

খাবারের গায়ে থাকা তারিখ দেখেই সেটিকে নষ্ট মনে করা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক খাবারের তারিখ মূলত খাবারের মান বা গুণগত অবস্থা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। তবে খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পচন বা নষ্ট হওয়ার কোনো লক্ষণ আছে কি না, তা অবশ্যই দেখতে হবে।

মাংস ও মুরগির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা কিমা করা মাংস ও মুরগি সাধারণত ফ্রিজে এক থেকে দুই দিন রাখা যায়। কিছু ধরনের গোশত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। দীর্ঘ সময় রাখতে হলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা নিরাপদ পদ্ধতি।

১০. অর্থ ফেরত বা পুরস্কারের সুবিধা বুঝে ব্যবহার করুন

বৈধ অর্থ ফেরত বা পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি ব্যবহার করে কিছুটা সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে শুধু ছাড় বা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনা উচিত নয়। এতে বরং মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তেল-গ্যাস খাতে মিথেন নিঃসরণ বিধিনিষেধ শিথিল

বাংলাদেশি পরিবারের জন্য চাল, ডাল ও অন্যান্য শুকনা পণ্য বড় প্যাকেটে কেনার সময়ও সতর্ক থাকা জরুরি। বড় প্যাকেট সবসময় সস্তা হয় না। তাই ছোট ও বড় প্যাকেটের এককপ্রতি দাম তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

স্কুলগামী শিশু থাকলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনা মূল্যে বা কম দামে স্কুলের খাবার পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে। তবে এ সুবিধার নিয়ম ও যোগ্যতা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।

তবে বাজার খরচ কমিয়ে মাসে নির্দিষ্ট ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার বা বছরে ২ হাজার ৭৬০ ডলার সাশ্রয় হবেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের শহর, খাবারের ধরন, কোন দোকান থেকে কেনাকাটা করা হচ্ছে এবং মোট কেনাকাটার পরিমাণের ওপর সাশ্রয়ের অঙ্ক নির্ভর করে।

তাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো গত কয়েক মাসের বাজার খরচের হিসাব রেখে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচের সঙ্গে তা তুলনা করা। এতে নিজের পরিবারের জন্য কোন কৌশল সবচেয়ে বেশি কাজে দিচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নতুন সিরিজ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নতুন সিরিজ ঘোষণা

সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই অক্টোবরে নতুন আন্তর্জাতিক সিরিজের সূচি পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ও সাদা বলের তিনটি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

আফগানিস্তান এই সিরিজের স্বাগতিক হওয়ায় ম্যাচের দিনক্ষণ এবং সাদা বলের তিন ম্যাচের সংস্করণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ম্যাচগুলো ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি নাকি দুই সংস্করণ মিলিয়ে আয়োজন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহরিয়ার নাফীস সিরিজটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি সিরিজ রয়েছে। সেখানে একটি লাল বলের ম্যাচের পাশাপাশি সাদা বলের তিনটি ম্যাচ থাকবে। স্বাগতিক আফগানিস্তান হওয়ায় সূচি ও ম্যাচগুলোর সংস্করণ তারাই নির্ধারণ করবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হয়ে আসছে। বছরের শেষ ভাগে টানা দুটি টেস্ট সিরিজ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অক্টোবর-নভেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে দুটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দুটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্র শেষ করবে টাইগাররা। ২০১৬ সালের পর সেটিই হবে ইংল্যান্ডের প্রথম বাংলাদেশ সফর।

এদিকে ভারতের বাংলাদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা ছিল ২৮ আগস্ট। সেপ্টেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা থাকা সিরিজটি নিয়ে এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত হলেও, আফগানিস্তানের বিপক্ষে অক্টোবরে নতুন সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সময়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ দল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাধী সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা উপড়ে ফেলতে হবে : রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


অপরাধী সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা উপড়ে ফেলতে হবে : রিজভী

রংপুরে শিক্ষকের পরিবারে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে, সে জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তাদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের সকল অপরাধী সিন্ডিকেটের গোপন আস্তানা চিহ্নিত করে সেগুলো উপড়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুদায়িত্বের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "মানুষ শান্তিতে খেয়ে-পরে বাঁচতে চায়।" তিনি আরও বলেন, "কোনো মাদকসেবী বা অপরাধী সিন্ডিকেট যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো শান্তির পথ অনুসরণ করে দেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী বলেন, "দেশের ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে ১৭ বছরের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা তৃণমূলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম এবং পার্লামেন্টে ধারাবাহিকভাবে জবাবদিহি করছেন, যা প্রকারান্তরে দেশের সাধারণ মানুষের কাছেই জবাবদিহি।

মহানবী (সা.)-এর শান্তিময় পৃথিবীর বাণী ধারণ করে দেশে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রিজভী। অনুষ্ঠানে ইসলামিক পণ্ডিত ও স্কলারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড দেখেও অনেকে চোখ বন্ধ করে আছেন: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড দেখেও অনেকে চোখ বন্ধ করে আছেন: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও অনেকেই তা দেখেও চোখ বন্ধ করে আছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সময় ২০ দিনে পাখির মতো গুলি করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে।

প্রায় ৩০০ মানুষ হাত হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ মাথা হারিয়েছেন।’ এসব ঘটনার পরও অনেকের চোখে আলো থাকার পরও তারা বলছেন, কিছুই হয়নি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যিনি দুর্ঘটনায় মাথার একটি অংশ হারিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের মতো মুখ আছে, কিন্তু মানুষের মুখোশ পরে রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কারো ভাই, কারো বোন, কারো মা, কারো স্বামী এখনো নিখোঁজ। অথচ তাদের চোখে আলো রয়েছে।

’

ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা ঠেকাতে তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা যে যেখানে থাকুন, চোখ খুলুন। আমরা যদি অপরাধ করি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি আপনাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ যেন দেশে আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে এবং কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়।

যারা ফ্যাসিস্টদের খুন-খারাপি দেখছেন না, তাদের বলব আপনারা চোখ খুলুন। আল্লাহ প্রদত্ত দুটি চোখ খুলুন। তা যদি না পারেন, অন্তরচক্ষু খুলুন। তাহলে দেখতে পাবেন।’

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ একদিন আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে উঠবে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুল সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশের পথে হাঁটতে হবে, যেখানে এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত থাকবে। ফ্যাসিবাদ যেন আবার পুনর্বাসিত না হয় এবং আমরাও যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না উঠি, সে জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারাও মানুষ এবং তাদের অধিকার রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাতে রাসুল (সা.) এবং রচনা প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ বছর প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ

সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারের মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রমের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।

বুধবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।

তিনি বলেন, পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি: প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না বরং পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%