ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ


শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প: ববি হাজ্জাজ

সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারের মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রমের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।

বুধবার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে।

আরও পড়ুন: পবিপ্রবির পরিবহন সংকট সমাধানে ১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে দু’টি ডাবল ডেকার বাস

তিনি বলেন, পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো- কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে ইউ মার্কেটের সামনে ব্যবসায়ীকে গুলি, আহত ১

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি: প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না বরং পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ছাত্রদল নেতা সোহেল শেখ আহত

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টিকটকারের হানি ট্র্যাপে পড়ে ‘বড় মাশুল’ গুনলেন ফ্রিল্যান্সার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


টিকটকারের হানি ট্র্যাপে পড়ে ‘বড় মাশুল’ গুনলেন ফ্রিল্যান্সার

হানি ট্র্যাপে পড়ে বিয়ের করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফ্রিল্যান্সারের ৫০ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর এক টিকটকার নারীর বিরুদ্ধে। এছাড়া বিয়ের পর ওই নারী আরও ২০ ভরি সোনা ও একটি ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগে বাড়ি থেকে আসবাবপত্র ও সোনার গহনা চুরির অভিযোগ তুলে সোমবার (২৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ফ্রিল্যান্সার শিবগঞ্জ উপজেলার সালমাউন হোসেন আতর (৩২)।

আতর অভিযোগ করেন, বিয়ে করে বিভিন্নভাবে ওই নারী তার কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়েছে। এখন বিয়ের বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং নতুন করে সোনা ও ফ্ল্যাট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই টিকটকার তাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, টিকটকার নওশীন হৃদ নায়না প্রতারণা করেই আমাকে বিয়ে করেছেন। এমনকি তার বোন নীলা ও দুলাভাই আরেফিন আমাকে নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতে। আমাকে ঢাকায় বাড়িভাড়া নেওয়াসহ নায়নার নামে ফ্ল্যাট, ২ ভরি সোনার গহনা ও বেতনের পুরো টাকা দেওয়ার চাহিদা দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় বিদেশে থাকাকালীন সময়ে বাড়ির সব আসবাবপত্র নিয়ে চলে যায় এবং তালাকের কাগজপত্র পাঠায়। এমন অবস্থার পরেও আমি সংসার করার অভিপ্রায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এক কথায় আমাকে শূন্য করে দিয়ে এখন ছেড়ে দিচ্ছে।

আতর বলেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আরও আছে। এমন ফাঁদ পেতে তারা এসব করছে। নিজ স্ত্রীকে ফেরতসহ তার বোন নীলা ও দুলাভাই আরেফিনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান ফ্রিল্যান্সার সালমাউন হোসেন আতর। এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকার মালামাল আর অন্তত ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়েছে।

এ নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও টিকটকার নওশিন হৃদ নায়না ও তার বোন নীলা ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচের চাপেও এপ্রিল-জুনে তৈরি পোশাক খাতে নিট আয় বেড়েছে ১০%

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন খরচের চাপেও এপ্রিল-জুনে তৈরি পোশাক খাতে নিট আয় বেড়েছে ১০%

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে তৈরি পোশাকের নিট রপ্তানি আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তৈরি পোশাক খাতের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে তৈরি পোশাকের নিট রপ্তানি আয় ৬২৩ কোটি ডলার হয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই আয় ছিল ৫৬৪ কোটি ডলার। এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় নিট রপ্তানি আয় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৫১৭ কোটি ডলার।

মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ও আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে চতুর্থ প্রান্তিকে ১ হাজার ১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এক বছরের তুলনায় এই আয় ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিট পোশাক রপ্তানি আগের প্রান্তিকের ৪৬১ কোটি ডলার থেকে ১৯ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বোনা পোশাক রপ্তানি ৪৫৮ কোটি ডলার থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৪৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থার পর পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।

জুন মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৪২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে বছরের শেষের দিকে এই প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় কিছুটা কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, জুনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বড় একটি কারণ ছিল আগের বছরের তুলনামূলক কম ভিত্তি। গত বছরের জুনে ঈদুল আজহার ছুটি দীর্ঘ হওয়ার কারণে রপ্তানি কম ছিল। অন্যদিকে, এ বছর ঈদের বেশিরভাগ ছুটি মে মাসে পড়ায় জুনে রপ্তানি বেড়েছে।

ত্রৈমাসিক হিসাবে রপ্তানি পুনরুদ্ধার হলেও রপ্তানিকারকেরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে এ সংকট পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সামনে চাপ

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেছেন, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উচ্চ সুদের হার এবং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশকে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, "তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে নতুন অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় দেশের রপ্তানি ভালো করবে।"

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিলেও গ্যাসের সংকট এরই মধ্যে বস্ত্র উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানিয়েছেন, সংগঠনটির ১ হাজার ৮০০টির বেশি সদস্য কারখানার মধ্যে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ৯০০টির বেশি কারখানা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু বস্ত্রকল নয়, গ্যাসনির্ভর ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিক শিল্পও দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্নের মুখে পড়েছে।"

বেশি মূল্য সংযোজন

চতুর্থ প্রান্তিকে তৈরি পোশাক খাত ৩৮৭ কোটি ডলারের কাঁচামাল আমদানি করেছে। এর মধ্যে ছিল তুলা, কৃত্রিম ও ভিসকোজ তন্তু, সুতা, কাপড় এবং পোশাক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ।

এসব আমদানি মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশের সমান। এর ফলে খাতটিতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৬১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৬১ দশমিক ৩৫ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।

তবে পুরো অর্থবছরের হিসাবে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই মন্থর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে তিন হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ছিল ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। এতে অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে খাতটির অব্যাহত গুরুত্বই প্রতিফলিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, কানাডা ও বেলজিয়াম বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। চতুর্থ প্রান্তিকে এসব দেশে ৭২৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা ওই প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের ৭১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে রপ্তানির আগে ঋণ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি, পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান গ্রিন ট্রানস্ফরমেশন তহবিল, ১০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি সহায়তা অগ্রিম অর্থায়ন তহবিল এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা মাঝারি মাত্রায় ইতিবাচক রয়েছে। চাহিদা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং বিধিবিধান মেনে চলার ক্ষেত্রে উন্নতি পোশাক রপ্তানিতে সহায়ক হবে।

সূত্র : টিবিএস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার জয়সুরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার জয়সুরিয়া

ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্টে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তি পেয়েছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার প্রভাত জয়সুরিয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনের শেষ বলে আউট হন জয়সুরিয়া। এরপর মাঠ ছাড়ার সময় ব্যাট দিয়ে সীমানার পাশে থাকা একটি বিজ্ঞাপনী কাঠামোয় আঘাত করেন তিনি। ক্রিকেট সরঞ্জাম বা মাঠের স্থাপনা অপব্যবহারের অভিযোগে আইসিসির আচরণবিধির ২.২ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এটি গত ২৪ মাসের মধ্যে জয়সুরিয়ার প্রথম আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। নিজের ভুল স্বীকার করে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের প্রস্তাবিত শাস্তিও মেনে নেন তিনি। ফলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

মাঠের আম্পায়ার আহসান রাজা ও শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ, তৃতীয় আম্পায়ার রড টাকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার প্রগীত রামবুকওয়েলা জয়সুরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।

ভারত-শ্রীলঙ্কার এই দ্বিতীয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে জয়সুরিয়াসহ এখন পর্যন্ত তিনজন ক্রিকেটার আইসিসির শাস্তির মুখে পড়েছেন। এর আগে ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল ও শ্রীলঙ্কার পেসার আসিথা ফার্নান্দোকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। তাদের দুজনের নামের পাশেও একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়।

টেস্টের প্রথম দিন ভারতের ইনিংসের ১৭তম ওভারে জয়সওয়াল ও ফার্নান্দোর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফার্নান্দোর বলে আউট হওয়ার পর জয়সওয়াল শ্রীলঙ্কান পেসারের দিকে এগিয়ে গিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে দুজনই একে অপরের দিকে ঝুঁকে পড়লে তাদের মাথায় সংঘর্ষ হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে দুজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয় আইসিসি।

ফলে কলম্বো টেস্টে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শৃঙ্খলাজনিত ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ স্পিনার প্রভাত জয়সুরিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তর্বাসে দুই জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মায়ামি বিমানবন্দরে ধরা নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৩ পি.এম


অন্তর্বাসে দুই জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মায়ামি বিমানবন্দরে ধরা নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর অন্তর্বাসের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে কয়েক মাস পর। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন পরে ঘটনাটির ছবি প্রকাশ করে। তবে ওই নারীর পরিচয় জানানো হয়নি।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা জানানো হয়নি।

নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে নারীর বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত হয়। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বের করা হয়।

তবে ঘটনার পর দুঃখজনকভাবে কচ্ছপ দুটির একটি মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার পর যাত্রীদের সতর্ক করে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও শরীরের পোশাকের নিচে লুকিয়ে তা নেওয়া যাবে না।

নিরাপত্তা সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে ভ্রমণ করলে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় প্রাণীটিকে বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে হাতে রাখতে হয়। পাশাপাশি বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার নিয়মও জেনে নিতে হয়।

মায়ামির এই ঘটনাই অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তির প্যান্টের ভেতর থেকে একটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই কচ্ছপটি অবশ্য জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ২০২৩ সালে মায়ামি বিমানবন্দরে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ করে শরীরের সঙ্গে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যাত্রীর পাশাপাশি প্রাণীটির জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। মায়ামির ঘটনায় একটি কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনাটি সেই ঝুঁকিই সামনে এনেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%