মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৫:৪০ পি.এম
কাফনের কাপড় পরে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিকরা। হাতে হত্যার বিচারের দাবি, চোখেমুখে ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ভাষা। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন দুই শতাধিক সাংবাদিক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মো. ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনূর ইসলাম রাব্বিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার না হন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
কর্মসূচি শেষে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান আয়োজকেরা।
আয়োজকেরা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার শুধু তাঁর পরিবারের একার দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেশবপুরের আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে উপজেলায় ৭ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে আবাদের পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ জমির আমন ক্ষেতের ধানে পাক ধরেছে। এসব জমির প্রায় সবখানে ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইটের কারণে ধানের শিষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। তবে জমিতে গান্ধি পোকার আক্রমণও থাকতে পারে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গান্ধি পোকার আক্রমণ থাকলে ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত।
তিনি আরও জানান, Burkholderia glumae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে এ রোগের সৃষ্টি হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যাকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। এই ব্যাকটেরিয়া হলুদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে, ফলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের আর্দ্রতা ৮০ শতাংশের ওপরে, খুব ঘন আকারে চারা রোপণ এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেয়। ধানের শিষ বের হওয়ার সময় ও দানা গঠনের সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
শিষের ছোট ছোট ধানগুলো সঠিকভাবে দানা বাঁধতে পারে না এবং চিটা হয়ে যায়; তবে শিষের সব দানা চিটা হয় না। আক্রান্ত ধানের দানাগুলো ধূসর, কালো বা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। শিষে চিটা হওয়ার ফলে ওজন না থাকায় শিষগুলো খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শিষের নিচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ব্যাকটেরিয়াগুলো ধানগাছের পাতা এবং খোলে অবস্থান করে এবং তারা প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ধানগাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়াগুলো গাছের ওপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি ধানের শিষ বের হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আক্রমণ করে ফুলের রেণুগুলো নষ্ট করে, ফলে ধানের দানাগুলো চিটায় পরিণত হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে, তখন এই ধরনের আবহাওয়া রোগটির ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহারও রোগটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজবাহিত রোগ। রোগাক্রান্ত বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে আবাদের ফলে নিয়ন্ত্রণের বাস্তবসম্মত কোনো উপায় নেই।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ বপনের পূর্বে তা শোধন করা, আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন, সঠিক বয়সের চারা রোপণ, রোপণের সময় লাইন ও লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। থিরাম ৩৫এসসি দিয়ে বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন—ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মুরগির লিটার ইত্যাদি) ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা উচিত। আক্রমণপ্রবণ এলাকায় থোর অবস্থায় একবার ডিএপি দ্রবণ স্প্রে করা এবং থোর অবস্থায় জমিতে পানি ধরে রেখে ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ সার, ৩০ গ্রাম সালফার ৮০% এবং ৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক একত্রে মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এদিকে, মাঠপর্যায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের যোগাযোগ নেই বলে একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, বিভিন্ন পেস্টিসাইড কোম্পানির প্রতিনিধিরাই কৃষকের শেষ ভরসা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আপসের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রকাশ পাচ্ছে, যা একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রে 'আশার আলো' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা 'কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট'-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশই পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারসি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
পারসি ব্যাখ্যা করেন, "পূর্বে দুই দেশ যেসব কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তা এখন আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা হলেও তারা তাদের অবরোধ (Blockade) তুলে নেবে না। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির পথ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।"
বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "এখন মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সেই অনমনীয় অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে এবং একটি বাস্তবসম্মত অবস্থানে এসেছে।" যদিও এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে চুক্তি একদম নিশ্চিত হয়ে গেছে, তবে এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি আলোচনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পারসির মতে, নতুন কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতি আলোচনা প্রক্রিয়া বা সম্ভাব্য চুক্তিকে ভণ্ডুল করতে পারবে না। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। আজ ২ নভেম্বর (সোমবার) এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাণী প্রচার করা হয়, পাশাপাশি জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬ কর্তৃক জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন, কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ এবং বর্ণাঢ্য র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিকৃবি’র সিন্ডিকেট সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসা এর চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এর পরিচালক মোঃ বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসোইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি’র ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মজুমদার, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, এবং অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর সদস্য-সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের শিক্ষা ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। তিনি বলেন, "বিএনপি বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অগ্রগতি সাধন করেছিল তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।" বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ থুবড়ে পরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে।" তিনি সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপনকারী, সিলেটের কৃতী সন্তান ও সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। তিনি বলেন, "কৃষির সমন্বিত নীতিই টেকসই সমৃদ্ধির পথ। পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, কৃষি জমি রক্ষা ও কৃষকের সরাসরি সহায়তায় গড়ে উঠতে পারে টেকসই কৃষি বিপ্লব।" কৃষি নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক জমি অব্যবহৃত বা পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনা গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। এজন্য সঠিক জরিপ, মালিকানার স্বচ্ছতা, সেচ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, "উর্বর কৃষি জমি একবার হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া কঠিন।" আবাসন প্রকল্পের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি জমির বদলে পতিত বা কম উৎপাদনশীল জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান। কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সহজ ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে। তবে কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও যাচাই করা জরুরি। তিনি বলেন, "উন্নত দেশের ন্যায় সরকার শিক্ষা ঋণ চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে।"
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর।" তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অর্জিত অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণা লব্ধ জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এখান থেকে দক্ষ, সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কৃষিবিদ তৈরি হবেন, যারা দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এটাই প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটেছে।
দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আগুনে স্মৃতিস্তম্ভটি পুড়ে যায়নি।
স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে গভীর রাতে তিন যুবককে সেখানে যেতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে দুজন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন ধরান এবং অন্যজন ঘটনাটি ভিডিও করেন। পুলিশ ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
সূত্র আরো জানায়, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন ও ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের ফেসবুক পেজে আগুন দেওয়ার ভিডিও প্রচার করেছেন।
এদিকে রবিবার সকালে শহরের মাইকপট্টিতে সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে যুবলীগের ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার নয়টি থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ