প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। আজ ২ নভেম্বর (সোমবার) এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাণী প্রচার করা হয়, পাশাপাশি জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬ কর্তৃক জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন, কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ এবং বর্ণাঢ্য র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সভাপতি ও ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সিকৃবি’র সিন্ডিকেট সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসা এর চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এর পরিচালক মোঃ বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসোইন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবি’র ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান মজুমদার, অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, এবং অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর সদস্য-সচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের শিক্ষা ও কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। তিনি বলেন, "বিএনপি বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অগ্রগতি সাধন করেছিল তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।" বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ থুবড়ে পরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে।" তিনি সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপনকারী, সিলেটের কৃতী সন্তান ও সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। তিনি বলেন, "কৃষির সমন্বিত নীতিই টেকসই সমৃদ্ধির পথ। পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, কৃষি জমি রক্ষা ও কৃষকের সরাসরি সহায়তায় গড়ে উঠতে পারে টেকসই কৃষি বিপ্লব।" কৃষি নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক জমি অব্যবহৃত বা পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনা গেলে উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। এজন্য সঠিক জরিপ, মালিকানার স্বচ্ছতা, সেচ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, "উর্বর কৃষি জমি একবার হারিয়ে গেলে তা ফিরে পাওয়া কঠিন।" আবাসন প্রকল্পের প্রয়োজন মেটাতে কৃষি জমির বদলে পতিত বা কম উৎপাদনশীল জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান। কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সহজ ঋণ, ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে। তবে কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি ও যাচাই করা জরুরি। তিনি বলেন, "উন্নত দেশের ন্যায় সরকার শিক্ষা ঋণ চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে।"
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর।" তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অর্জিত অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণা লব্ধ জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পেরিয়ে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এখান থেকে দক্ষ, সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কৃষিবিদ তৈরি হবেন, যারা দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন এটাই প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন