সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১০ পি.এম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অক্টোবরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য জানিয়ে বলেন, জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন উপজেলায় কমিটি গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যে উপজেলায় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকে দলের ২৩ সদস্যের সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রধান হিসেবে মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এ উপ-কমিটিতে রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন উপ-প্রধান থাকবেন, এবং প্রতি বিভাগে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত করা হবে।
বৈঠকের পর এনসিপির মিডিয়া দলের সদস্য ইয়াসির আরাফাত বলেন, বৈঠকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘চরম অবনতি, দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও দখলবাজিতে’ নেতারা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতারা সরকারের সংবিধান সংশোধন নিয়ে পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, গণভোটের গণরায় অগ্রাহ্য করে প্রহসনমূলক সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন।
এছাড়া, বৈঠকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদসহ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানানো হয়।
ইয়াসির আরাফাত বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে দলের তরফে ঘোষণা আসবে।
বৈঠকে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের জন্য দলের নেতা সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, সালেহ উদ্দিন সিফাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আলামিন, আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষার, আরিফুল ইসলাম আদীব, মাহমুদা মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, সালেহউদ্দিন সিফাত, আকরাম হোসাইন সিএফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের কাছে সিলগালা খামে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ, যদি কারো গাফিলতি থাকে তবে তা চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো নাম উল্লেখ করে দোষী বলার ব্যাপারে রাজি হননি।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফট কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে ফায়ার সার্ভিস। এ সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর পুলিশের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের দিন সোমবার রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
জানা যায়, হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে রাখায় সমালোচনা হয়। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সচেতন মহলের কেউ কেউ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের পাঁচ সদস্যের কমিটি বাতিল করে মঙ্গলবার নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি থেকে গণপূর্ত বিভাগের ওই দুই কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়।
হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা প্রথমে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় সময় পাঁচ কার্যদিবস বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। ওই সময়ের মধ্যেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আরো তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। পরে সোমবার কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর-১ রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত আরো দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আসামিদের নাম হলো মো. মিন্টু (৩৫) এবং মো. মিলন (৪৫)।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত পুলিশের পৃথক দুটি আবেদনের ভিত্তিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। আসামিদের জামিন শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে তাদের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জামিন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মিন্টুর কোনো জমিজমা বা বাড়িঘর নেই। তিনি ঢাকায় ভাসমানভাবে বসবাস করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন, কারণ জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।
অন্য আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় মিলনের বাঁ হাতের মাঝের তিন আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের দুই থেকে তিন দিন আগে বাসায় এসির কাজ করার সময় হাতে আঘাত পেয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর চারজন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর আরো ছয়জনকে এই মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। নতুন দুই আসামিকে নিয়ে মোট ১২ জনকে এ মামলায় কারাগারে পাঠানো হলো।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একটি দল হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে।
পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার জন্য আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাব ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের ফলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজিস্ট্রেশন শাখায়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুরে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ক্লিনিক থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
এজাহার অনুযায়ী, পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তার স্ত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ জেলা শহরের চর পাথালিয়া এলাকায় দোলা পেট্রল পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আলমগীর শেখ, বয়স ৪৬ বছর। তিনি খুলনা শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর শেখ খুলনার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে আসছিলেন। দোলা পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল নিয়ে বের হওয়ার সময় খুলনাগামী একটি ট্রাক পেট্রল নিতে পাম্পে প্রবেশ করছিল। এই মুহূর্তে ট্রাকটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে আলমগীর ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আলমগীর শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চালককে আটক করা হয়েছে এবং ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভার একটি অদ্ভুত বিন্যাসের ছোট গর্তের সন্ধান পেয়েছে। গর্তগুলো প্রথম দেখায় পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে, লাল গ্রহের পৃষ্ঠে হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রাণী বা বস্তুর কারণে এগুলো তৈরি হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মঙ্গলের মাউন্ট শার্প পর্বত এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় কিউরিওসিটি এই অস্বাভাবিক গঠনগুলোর ছবি ধারণ করে। এই পর্বতটি মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিটার উঁচু এবং দীর্ঘদিন ধরে কিউরিওসিটির অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। নতুন আবিষ্কৃত গর্তগুলোর প্রতিটির ব্যাস আনুমানিক ১ সেন্টিমিটার এবং এগুলো উন্মুক্ত শিলাস্তরের ওপর অগভীর খাঁজ বা অবনতির মতো দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, মঙ্গলের পৃষ্ঠে ছোট গর্ত ও ক্ষতচিহ্ন নতুন কিছু নয়। তবে এবার দেখা গঠনগুলো বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। কারণ, গর্তগুলোর আকৃতি অস্বাভাবিক এবং এগুলো তৈরি করতে পারে এমন কোনো বস্তু কী ছিল, তা গবেষকরা শনাক্ত করতে পারেননি।
নাসার মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার (MAHLI) কর্মসূচির উপপ্রধান তদন্তকারী মিশেল মিনিত্তি মন্তব্য করেন, কিউরিওসিটি এর আগে মঙ্গলে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখেছে, নতুন গঠনগুলো তার সঙ্গে মেলে না।
মিনিত্তি বলেন, কিউরিওসিটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে ১৪ বছর কাটানোর পরও লাল গ্রহটি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়ে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে রোভারের অনুসন্ধানের দুটি এলাকাতেই এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা আগে প্রায় কখনো দেখা যায়নি। এগুলো ছিল শিলাস্তরের ওপর ছড়িয়ে থাকা প্রশস্ত ও অগভীর গর্ত।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলে এ ধরনের গর্ত একেবারে অস্বাভাবিক নয়। যখন কোনো শক্ত নডিউল বা ছোট পাথর আশপাশের শিলা থেকে ক্ষয় হয়ে বেরিয়ে যায়, তখন সেখানে শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা পরে গর্তের মতো দেখা যেতে পারে। তবে এবার দেখা গর্তগুলো আগের বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও অগভীর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব গর্তের সঙ্গে এমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু পাওয়া যায়নি, যা আগে সেখানে ছিল বলে ধারণা করা যায়।
এ কারণে গর্তগুলো কোনো প্রাণী বা অন্য কোনো বস্তুর মঙ্গলের পৃষ্ঠে পা ফেলার প্রমাণ নয়। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াই দায়ী। তবে ঠিক কিভাবে এসব গঠন তৈরি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
মিনিত্তি বলেন, মাউন্ট শার্পের এই অংশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন গর্তগুলো একটি নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে। তার মতে, ওই শিলাস্তরের নির্দিষ্ট অংশকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়ায় এই নতুন ধাঁধাটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
কিউরিওসিটি গর্তগুলোর আশপাশের শিলাও পরীক্ষা করেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গঠন ও স্তর লক্ষ্য করা গেছে। রোভারের যন্ত্রগুলো আশপাশের শিলাস্তরের তুলনায় বেশি শক্ত কিছু স্তরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে। গবেষকদের ধারণা, শিলার রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যের কারণে এসব শক্ত স্তর তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার গ্রহটির অসংখ্য অস্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছে। নতুন আবিষ্কারটি সেই দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি সংযোজন।
কিউরিওসিটি এখন পর্যন্ত মঙ্গলে ৫ হাজারেরও বেশি দিন কাটিয়ে গ্রহটি অনুসন্ধান করেছে। এ সময়ে রোভারটি পৃথিবীতে ৭ লাখেরও বেশি ছবি পাঠিয়েছে।
কিউরিওসিটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো বিজ্ঞানীদের মাউন্ট শার্পের শিলা ও মঙ্গলের পৃষ্ঠ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করছে।
প্রথম দেখায় ছোট গঠনগুলোকে পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও, সেখানে কোনো কিছু সত্যিই হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে আবিষ্কারটি তাতে কোনো অংশে কম আকর্ষণীয় নয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র গর্ত মঙ্গলের পৃষ্ঠকে আকৃতি দেওয়া ভূতাত্ত্বিক শক্তি ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ