মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ এম
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির নতুন তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই তথ্যগুলো থেকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আগের সেশনে মার্কিন ডলার ১৮ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণসহ বিভিন্ন ধাতু কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
বিনিয়োগকারীদের নজর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানের দিকে রয়েছে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট অ্যানালিস্ট কাইল রড্ডা মন্তব্য করেন, ‘স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআইয়ের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, বিশেষ করে মূল মুদ্রাস্ফীতির সূচকে, এবং অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা সামান্যও বাড়ে, তাহলে স্বর্ণের দাম আবারও কমতে পারে।
সাধারণভাবে, সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে মুনাফা পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। কারণ, স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ২১ শতাংশ বলে মনে করছেন ট্রেডাররা। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ ট্রেডার দেখছেন।
ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক মনে করেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনামূলকভাবে দ্রুত আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা উচিত। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনায় পড়তে শুরু করেছে।
এদিকে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটি নতুন করে হামলার শিকার হয়েছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর আপাতত বন্ধ থাকবে। এর কয়েক দিন আগে, শনিবার, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী একটি প্রস্থান টার্মিনালে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ০১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৩৭ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ীই দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরতের মেঘমুক্ত আকাশের নিচে আবারও হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কখনো শুভ্র সাদা রঙে, আবার কখনো সূর্যের আলোতে সোনালি আভায় এই বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে পাহাড়ের চেহারা বদলাচ্ছে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা কাঞ্চনজঙ্ঘার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা তেঁতুলিয়ায় আসছেন।
প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যায়। এবারের পরিস্থিতিও এর ব্যতিক্রম নয়। ভোরের আলো ফুটতেই দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়। কেউ ক্যামেরায় এই অপূর্ব দৃশ্য ধারণ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখছেন।
কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকেরা মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাদের কাছে এই ভ্রমণ শুধুমাত্র পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও।
ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক শিহাব সময় সংবাদকে জানান, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আলহামদুলিল্লাহ, আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।’
ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, ‘শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে আবার মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।’
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান এবং সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থানও ঘুরে দেখছেন। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় সময় সংবাদকে জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অবশ্যই আকাশের অবস্থা খেয়াল করে আসতে হবে। তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।’
এদিকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন সময় সংবাদকে বলেন, শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। একই সঙ্গে অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়, তবে কীভাবে সেই চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে, তা তারা জানে না। ট্রাম্প আবারও সতর্ক করেছেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংস্টাউনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু কীভাবে করতে হয়, তা জানে না। তারা জানে না কীভাবে করতে হয়।”
ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই মুহূর্তে তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশের মধ্যে তাদের মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে খারাপ। তাদের কোনো অর্থও নেই।”
এ সময় ট্রাম্প বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেন। তিনি বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ভিমরুলের আক্রমণে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যবসায়ী ওবায়দুল হক ফাসাদ সরকারের মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদারগঞ্জ পৌরসভার জোনাইল তরফদার বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে ভিমরুলের আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। নিহত ওবায়দুল হক ফাসাদ সরকার ওই এলাকার মৃত উমেদ আলী সরকারের পুত্র ছিলেন।
তিনি জোনাইল বাজারে হার্ডওয়ার ও মেশিনারিজের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। স্থানীয়ভাবে তিনি চারণ কবি ফাসাদ সরকার নামেও পরিচিত ছিলেন, এবং ‘ছন্দে রাজা’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফাসাদ সরকার বাড়ির বারান্দায় বসে ছিলেন। এ সময় একটি ভিমরুল তাকে কামড় দেয়, যা তিনি তাড়িয়ে দেন। এরপর অসংখ্য ভিমরুল এসে তাকে আক্রমণ করে, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে, তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। এরপর স্বজনরা তাকে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
নিহতের ভাতিজা এবং উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে জোনাইল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাহিদুজ্জামান বলেন, ভিমরুলের আক্রমণে আহত ওবায়দুলকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিমরুলের কামড়ে ওবায়দুল হক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রিস্টা পাইকের জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণে চিকিৎসাসহায়তা পেতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে। সোমবার প্রকাশিত জরুরি ফোনকলের রেকর্ডিং থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিভারবেন্ড কারাগারে ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি মারা যাননি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করে।
রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম ফোনটি করা হয়। ফোনে জানানো হয়, প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও বন্দি মারা যাননি এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। তবে জরুরি সেবার দায়িত্বে থাকা কর্মী পরিচয় নিশ্চিত করার সংকেত চাইলে ফোনকারী তা দিতে পারেননি। ফলে ঘটনাটি সত্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
রেকর্ডিং অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩ মিনিটে জরুরি যোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মী জানান, তাদের কাছে ফোনটি ভুয়া বলে তথ্য এসেছে এবং কারাগারে চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন নেই। চার মিনিট পর এক সেবাকর্মী জানান, কারাগারের ফটকের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তি ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করছেন এবং দ্রুত ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
পরে কারাগারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ফোনটির সত্যতা নিশ্চিত করে। রাত ৯টা ১১ মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথম ফোনের প্রায় ৩১ মিনিট পর তারা ভেতরে যাওয়ার ছাড়পত্র পান।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর একসময় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য দিতে হয়। তার আইনজীবীরা তখন বেঁচে থাকার আশা কম বলে জানিয়েছিলেন। পরে পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতেও সক্ষম হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে আবার নারীদের কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র পরিচিত ব্যক্তি পাইক বলে জানিয়েছে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী একটি গবেষণা সংস্থা। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা টেনেসির সংশোধন বিভাগ এখনো জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটি হয়ে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমে থাকতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করার শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ করেছিল। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে তিনিই হতেন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। তবে এখন তার পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ