০৯:২১ এম
রাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে রাশিয়া। গিলম্যান, যিনি বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী, তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিবারের কাছে ফিরছেন।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।
গিলম্যান মঙ্গলবার রাতের দিকে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যানের মা ন্যান্সি তার সঙ্গে একই বিমানে রয়েছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ২০২২ সালে গিলম্যানকে রাশিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে
ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনার পর গিলম্যানকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে রাশিয়া। তিনি দাবি জানান, এটি মানবিক কারণে করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কোনো বন্দির মুক্তি চায়নি। অর্থাৎ, এ ঘটনায় কোনো বন্দিবিনিময় হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, গিলম্যান দেশে ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। তিনি নিজেও গিলম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। মজা করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর গিলম্যানের একটি চাওয়া রয়েছে—বিমান থেকে নামার পর তিনি একটি চিজবার্গার খেতে চান। বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা তার প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প জানান, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রশাসন শত শত মানুষকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে এনেছে। গিলম্যান এখন তার মা ন্যান্সি এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবারও মিলিত হতে পারবেন।
এই উদ্যোগ সফল করতে যারা কাজ করেছেন, তাদের জন্য তার ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে শান্তি মিশনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলার, সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক সেবাস্তিয়ান গোরকা এবং জ্যারেড কুশনারের নাম তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও গিলম্যানের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, অন্যায়ভাবে আটক থাকা অন্য মার্কিন নাগরিকদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, রাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় আটক থাকার পর গিলম্যান এখন দেশে ফিরছেন এবং তিনি তার পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হবেন। রুবিওর দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক মুক্তি পেয়েছে এবং গিলম্যানও তাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন। গিলম্যানকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান রুবিও। তবে অন্যায়ভাবে আটক থাকা সব মার্কিন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। রুবিও বিশেষভাবে স্টিফেন হাবার্ডের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, অন্যায়ভাবে আটক থাকা সব মার্কিন নাগরিক দেশে না ফেরা পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিলম্যান ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন মেরিন বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় ট্রেনে ভ্রমণের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মস্কো থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভোরোনেজ শহরে তাকে আটক করা হয়েছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গিলম্যান মাতাল অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মেরেছিলেন। এ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গিলম্যানের বাবা ভ্লাদিমির গিলম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বোস্টন গ্লোবে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় তিনি দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গিলম্যান অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং ওই সময় ভুল করে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মেরেছিলেন। তবে ওই কর্মকর্তা আহত হননি এবং পরে অভিযোগও প্রত্যাহার করে নেন বলে দাবি করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর গিলম্যানকে প্রথমে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে কারাগারে থাকার সময় তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে আরো কয়েকটি মামলা হয়। এসব মামলার কারণে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় তাকে রাশিয়ার কারাগারে থাকতে হয়। সম্প্রতি মার্কিন সরকার গিলম্যানকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ আরও জোরদার করে ওয়াশিংটন। রাশিয়ায় আটক থাকা অন্তত ১০ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে গিলম্যানও একজন ছিলেন। গিলম্যানের মুক্তির পর এখনো রাশিয়ায় আটক থাকা অন্য মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন