ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের সিইসিকে কেন পদত্যাগ করাতে চায় ‘কাকরোচ’ আন্দোলন?


ভারতের সিইসিকে কেন পদত্যাগ করাতে চায় ‘কাকরোচ’ আন্দোলন?

ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘কাকরোচ আন্দোলন’ একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক আন্দোলন দেশটির নির্বাচন কমিশনের দিকে লক্ষ্য করে।

বিরোধী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে এই বিক্ষোভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

একটি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর, ভারতের তরুণভিত্তিক ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, রাশেদের দাবি

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সম্ভবত কমিশনের বাকি দুই সদস্যের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ, বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ মাসে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি আপত্তিতে কমিশনার সান্ধু অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশন দুই কমিশনারের লিখিত পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করেছে, যা সম্পূর্ণ “অনুমোদনহীন এবং বেআইনি”।

তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত অভিযোগগুলোতে ঘটনার কেবল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা একটি স্বাভাবিক ঘটনা।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাকরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে “ভারতের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

ডিপক হুঁশিয়ারি দেন যে, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে মুম্বাই থেকে শুরু করে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করা হবে। তবে ডিপকের বেঁধে দেওয়া শনিবারের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পদত্যাগ করেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

পরবর্তীতে মুম্বাই পুলিশ ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি না দিলে, অভিজিৎ ডিপক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তাঁর সমর্থকদের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা না মেনে গণগ্রেপ্তার বরণ করার আহ্বান জানান। এরপরই শুক্রবার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সরব বিরোধী জোট

সিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন

কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন তা কোনো দেশদ্রোহের চেয়ে কম নয়”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি বাকি দুই কমিশনারের অজ্ঞাতে বা অনুমোদন ছাড়া এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে... তবে সেই সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং পুরো এসআইআর প্রক্রিয়াই আইনত অবৈধ”।

বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, নির্বাচনে সুবিধা পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাথে যোগসাজশে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করেছে—যদিও কমিশন ও বিজেপি উভয় পক্ষই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী থাকা এই কাকরোচ আন্দোলন গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের তুমুল রাজপথের আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।

বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি প্রধানত তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে:

আরও পড়ুন: সৌদিতে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জোটের ধ্বংসের দাবি

১. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।

২. এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা, আসন্ন সমস্ত নির্বাচন স্থগিত রাখা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করা।

৩. বাদ পড়া কোটি কোটি ভোটারের নাম একটি স্বাধীন পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বহাল করা।

সিভিল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট অমৃতা জোহরি ডয়চে ভেলেকে (ডিডব্লিউ) বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করার পেছনে এসআইআর প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও জনসাধারণের উদ্বেগের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা জনপরামর্শ ছাড়াই যেভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং এতে দুই কমিশনারের ধারাবাহিক আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তা জনআস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে”।

আরও পড়ুন: কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুধীন্দ্র কুলকার্নি এই আন্দোলনকে একক কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের চেয়েও একটি বলিষ্ঠ ‘প্রেসার গ্রুপ’ (চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) হিসেবে দেখছেন। ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, “সিজেপি-র জন্য স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরি হওয়া কঠিন। এটি আপাতত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে পারে, তবে আগামী সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তাদের বিরোধী জোটের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে”।

তবে রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও বিশ্লেষক রাধিকা রামাসেশন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, “ভোটাধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের সুরক্ষার সাথে জড়িত। তরুণ সমাজ, যারা প্রথমবার ভোট দিচ্ছে, তাদের জীবনের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলে। সিজেপি তাদের আন্দোলনের পরিধি বাড়ালেও মূল ইস্যুতে তাদের প্রভাব কমবে না”।

সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে?

জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় সবার দৃষ্টি এখন ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সিজেপির প্রস্তাবিত রাজপথের কর্মসূচির দিকে।

আরও পড়ুন: স্পেনে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

তবে শুধু আন্দোলন করে কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো সম্ভব নয়। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, একমাত্র লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের দুই কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই কেবল অসদাচরণ বা অক্ষমতার প্রমাণ সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা সম্ভব।

ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ডয়চে ভেলেকে বলেন, “রাস্তায় আন্দোলন করে সরানোর চেয়ে আইনি পথই বেশি বাস্তবসম্মত। তিন সদস্যের কমিশনে একতরফা নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, এবং সেখানে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে”।

নির্বাচন কমিশনের সাথে এই লড়াই তরুণদের পরিচালিত 'কাকরোচ আন্দোলনের' জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যা নির্ধারণ করবে ভারতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান কতটা সুদৃঢ় হতে চলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোস্তাফিজুর রহমানের অপরাধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান দপ্তর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো:রাজিব তালুকদার

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


মোস্তাফিজুর রহমানের অপরাধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান দপ্তর অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ। তার বদলির সিদ্ধান্তের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএডিসির অধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তার করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামনে রেখে তিনি টেন্ডার কার্যক্রমে অংশ নিতেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে শৌলজালিয়া ইউনিয়নেই বিএডিসির বেশ কয়েকটি কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব কাজের ক্ষেত্রে ‘আলমগীর’ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে কোনো কোনো ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নিতেন। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় তার কার্যক্রম রয়েছে এবং এসব কাজ দেখভালের জন্য তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সম্প্রতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বাগেরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলি ঠেকাতে তিনি বিএডিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান একই কর্মস্থলে থাকলে সাধারণ ও নিরীহ ঠিকাদারদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গার্ডার ব্রিজ নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ

কাঁঠালিয়া উপজেলায় একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার থাকলেও সেখানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কাজটি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিজেই নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার জোড়া পোল এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুটির ফাটল রং করে ঢেকে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে ওই সেতুর নির্মাণকাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাহার এই দুর্নীতি অপরাধ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রনি শিকদার চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে। এমনকি অভিযোগকারী জানান তাহার বৃদ্ধির পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রিট রিপিরেশন দায়ের করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ ১ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


গোমস্তাপুরে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ ১ জন গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার ধূলাউড়ি গ্রাম থেকে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ ইনামুল হক (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় উপজেলার ধূলাউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইনামুল হক ধূলাউড়ি গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাস্তার পাশে শিয়ালের জটলা, কাছে যেতেই সানাউল্লাহর ‘চোখ কপালে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


রাস্তার পাশে শিয়ালের জটলা, কাছে যেতেই সানাউল্লাহর ‘চোখ কপালে’

কুষ্টিয়ার সড়কের পাশে খড় দিয়ে ঢাকা একটি অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে শিয়ালের কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকার সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ সকালে মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় নির্জন সড়কের পাশে কয়েকটি শিয়ালকে একটি বস্তু ঘিরে টানাটানি করতে দেখেন। তিনি কাছে গিয়ে শিয়ালগুলো সরে যায়। এরপর তিনি দেখেন, ঘাস ও খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সেখানে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে রয়েছে। মরদেহটির একাংশ শিয়াল দ্বারা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

এটি দেখে সানাউল্লাহ চিৎকার করলে আশপাশের মাঠে কাজ করা অন্যান্য কৃষকরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

এরপর দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহটি আনুমানিক দুই থেকে তিন দিনের পুরোনো। মরদেহের মুখমণ্ডলসহ শরীরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ চলছে। এজন্য ঝিনাইদহ থেকে সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আসছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শিয়ালের টানাটানিতে মরদেহটি খড়ের বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে তারা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, পরিচয় শনাক্তসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, তালিকায় আ. লীগ পরিবারের সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


কিশোরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, তালিকায় আ. লীগ পরিবারের সদস্য ও ব্যাংক কর্মকর্তা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সারের নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও এসওএস লাইসেন্সধারী প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে অনভিজ্ঞ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং সুবিধাভোগীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মাত্র ২৭টি শূন্য পদের বিপরীতে এবারের ডিলারশিপের জন্য রেকর্ডসংখ্যক ১৪০ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেছেন। তবে এই বিপুল আবেদনের সুযোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতি পদের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বাণিজ্যে নামে। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে একটি বিশেষ ‘প্যাকেট’ তালিকা তৈরি করে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী নেতাকর্মী এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) কতিপয় নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যাদের নিজস্ব গোডাউন, ব্যাংকের পর্যাপ্ত জামানত এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের আবেদনগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ত্রুটিপূর্ণ দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, সার ব্যবসার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয় ও অর্থশক্তির জোরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তালিকার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন বোরো ও রবি মৌসুমে উপজেলায় সারের মারাত্মক কৃত্রিম সংকট এবং বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরে শকিব ট্রেডার্সের প্রোপাইটর গোলাম মর্তুজা বলেন, "মেসার্স আয়াত ট্রেডার্সের প্রোপাইটর আরাফাত হোসেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক দিনাজপুর শাখায় সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার কোনো সার বা কীটনাশকের ব্যবসা নেই, শোরুমও নেই। গোলাম মর্তুজা প্রশ্ন করেন, "একজন ফুলটাইম ব্যাংক কর্মকর্তার নাম ডিলারের তালিকায় কীভাবে আসে?" তিনি দাবি করেন, "এটা স্পষ্ট যে, সম্পূর্ণ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"

একই ধরনের গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ এনে কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সোহেল রানা এবং মরিয়ম ট্রেডার্সের মালিক মকসুদার রহমান বলেন, পুটিমারী ইউনিয়নে যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছে, তারা তিনজনেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সক্রিয় সদস্য। তারা অভিযোগ করেন, তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্টরা মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে। মকসুদার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার শোরুম, গোডাউন ও ব্যাংক জামানতসহ সব কাগজপত্র শতভাগ বৈধ ও ঠিক ছিল। কিন্তু আমাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একমাত্র কারণ হলো আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।"

সার্বিক অনিয়ম এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপের তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম দায় এড়িয়ে বলেন, "আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না, আমি সভায় শুধু তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি মাত্র।" তিনি আরও বলেন, "আমার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্যও নেই।" মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ডিলারদের মাঝে অসন্তোষ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম বলেন, "সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা বরদাশত করা হবে না।" তিনি জানান, "এই বিষয়ে যেকোনো বঞ্চিত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%