প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া এলাকার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ। তার বদলির সিদ্ধান্তের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএডিসির অধীন বিভিন্ন টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে প্রভাব বিস্তার করতেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামনে রেখে তিনি টেন্ডার কার্যক্রমে অংশ নিতেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
অভিযোগ রয়েছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে শৌলজালিয়া ইউনিয়নেই বিএডিসির বেশ কয়েকটি কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব কাজের ক্ষেত্রে ‘আলমগীর’ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম ব্যবহার করে একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কথা বললে কোনো কোনো ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে মোস্তাফিজুর রহমান প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নিতেন। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় তার কার্যক্রম রয়েছে এবং এসব কাজ দেখভালের জন্য তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সম্প্রতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বাগেরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এই বদলি ঠেকাতে তিনি বিএডিসি চেয়ারম্যানের দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান একই কর্মস্থলে থাকলে সাধারণ ও নিরীহ ঠিকাদারদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গার্ডার ব্রিজ নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ
কাঁঠালিয়া উপজেলায় একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার থাকলেও সেখানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কাজটি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিজেই নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার জোড়া পোল এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত একটি সেতুতে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেতুটির ফাটল রং করে ঢেকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে ওই সেতুর নির্মাণকাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাহার এই দুর্নীতি অপরাধ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রনি শিকদার চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে। এমনকি অভিযোগকারী জানান তাহার বৃদ্ধির পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রিট রিপিরেশন দায়ের করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন